• রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকা বাইক শো-তে সিএফএমওটিও নিয়ে এলো ‘জিহো’ এবং নতুন মোটরসাইকেল লাইনআপ রাজশাহী ব্যাংকার্স ক্লাব ক্রিকেট টুর্নামেন্টের হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন এনআরবিসি ব্যাংক চট্টগ্রাম নগরে এক দিনে তিন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার যোগ দিলেন এনসিপিতে শরণখোলায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য লম্বা লাইন ছোট হয়ে আসছে শূন্যে নামবে সেশনজট, অনেক কলেজে বন্ধ হতে পারে স্নাতক-স্নাতকোত্তর কোর্স তীব্র গরমে পুড়ছে দেশ, অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে বিচার বিভাগের দুর্নীতির সব শিকড় তুলে আনতে চাই: আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ এখন হামের উচ্চ ঝুঁকিতে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ঈদের আগে মজুরি দিতে ঋণ চায় বিজিএমইএ, চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে

প্রভাত রিপোর্ট / ৪৫ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক খাতে তীব্র তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিতে সহজ শর্তে ঋণ চায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। মজুরি সহায়তা হিসেবে দুই মাসের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ অর্থ ঋণ দেওয়ার জন্য সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ঋণ পরিশোধে ১২ মাসের সময়ও চাই সংগঠনটি। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো ওই চিঠিতে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক মন্দা ও চলমান শুল্কযুদ্ধের প্রভাবে রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। কার্যাদেশ কমে যাওয়া, ডেফার্ড শিপমেন্ট এবং অর্ডার পিছিয়ে যাওয়ায় কারখানাগুলো চাপে রয়েছে। গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের ৬০ দিনের মধ্যে প্রায় ২৫ দিন কারখানা বন্ধ থাকবে। অথচ, মার্চ মাসে নিয়মিত (ফেব্রুয়ারির) মজুরি ছাড়াও ঈদ বোনাস ও মার্চের অগ্রিম ৫০ শতাংশ মজুরি পরিশোধ করতে হবে। ফলে এক মাসেই প্রায় দ্বিগুণ বেতন-ভাতা দেওয়ার চাপ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন, পোর্ট চার্জ বৃদ্ধি এবং ব্যাংক সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় তারল্য সংকট আরও গভীর হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা ছাড়া শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি দেওয়া কঠিন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
রফতানি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজিএমইএ জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট পোশাক রফতানি আয় দুই দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে আগস্ট ২০২৫ থেকে রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫-২৬ মাসে প্রবৃদ্ধি থাকলেও পরবর্তী মাসগুলোতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। ডিসেম্বর মাসে রফতানি ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে যায়। একইসঙ্গে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য এক দশমিক ৮৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যচাপের কারণে রফতানিকারকেরা প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না।
চিঠিতে আরও বলা হয়, রফতানি অর্ডারের ক্ষেত্রে কারখানাগুলো সাধারণত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কাঁচামাল সংগ্রহ এবং প্রায় ২০ শতাংশ ব্যয় মজুরি ও পরিচালনায় ব্যয় করে থাকে। কিন্তু, ডেফার্ড শিপমেন্ট ও অর্ডার পিছিয়ে যাওয়ায় মূলধন দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে এবং একক ঋণগ্রহীতা সীমা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিজিএমইএ গভর্নরের কাছে বিশেষ বিবেচনায় প্রচলিত ঋণসীমার বাইরে গিয়ে দুই মাসের মজুরির সমপরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ ঋণে তিন মাস গ্রোস পিরিয়ড রেখে ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, দ্রুত সহায়তা না এলে শ্রম অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা দেশের প্রধান রফতানি খাতের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও