প্রভাত ডেস্ক: কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন। এ হামলার জেরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রবিবারও তারা ‘শত্রুপক্ষীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ প্রতিহত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সামরিক বাহিনী জানায়, ‘কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রুপক্ষীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছে।’ ওই এলাকায় যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করারই ফল বলে জানানো হয়। কুয়েতের পাশাপাশি সৌদি আরব ও কাতারও আজ নতুন করে হামলার খবর দিয়েছে।
কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানি ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে তাদের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
কুয়েতের সামরিক বাহিনী বলেছে, আজ তারা ‘একঝাঁক শত্রুপক্ষীয় ড্রোনের’ বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে, যেগুলো দেশটির আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল।
কুয়েতের একটি সরকারি ভবন ও দু’টি তেলের ডিপোতে ড্রোন হামলা করেছে ইরান। তেলের ডিপোতে হামলায় বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
কুয়েতের সরকারি বার্তাসংস্থা কুয়েত নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের সদরদপ্তর ভবনে গতকাল ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে ২২ তলা সেই ভবনটিতে আগুন ধরে যাওয়াসহ বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে নিহত বা আহতের সংবাদ এখনও পাওয়া যায়নি। হামলার পর সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের সদরদপ্তর এবং আশপাশের ভবনগুলো থেকে নিরাপত্তা প্রহরী-সহ সবাইকে এবং প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে বরে জানা গেছে।
এদিকে সরকারি ভবনে হামলার পাশাপাশি কুয়েতের দু’টি তেলের ডিপোতেও ড্রোন হামলা করেছে ইরান। এতে বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত সেই ডিপো দু’টিতে হামলার জেরে বিরাট অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। ডিপো দু’টির অবস্থান বিমানবন্দরের কাছকাছি হওয়ায় বিমান বন্দরেও ছড়িয়ে পড়েছে আগুন।
কুয়েতের ফায়ার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি ভবন ও তেলের ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান।
সূত্র : সিএনএন