• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

ভোলায় ফেরি সংকটে ঘাটেই নষ্ট হচ্ছে তরমুজ

প্রভাত রিপোর্ট / ২৫ বার
আপডেট : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা,ভোলা: ভোলার ইলিশা ঘাটে সময়মতো নদী পারাপার হতে না পেরে ফেরির অপেক্ষায় ঘাটেই নষ্ট হচ্ছে ট্রাকে থাকা লাখ লাখ টাকার তরমুজ। এতে আর্থিকভাবে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তাদের দাবি। ট্রাকচালক ও কৃষকদের অভিযোগ, তারা ফেরি সংকটে গত ২ থেকে ৩ দিন ধরে তরমুজ বোঝাই ট্রাক নিয়ে ঘাটেই অবস্থান করছেন।
এছাড়া মেঘনা নদীর নাব্যতা সংকট অন্যদিকে ঘাটটির অব্যবস্থাপনায় ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণে। তরমুজের ট্রাক থেকে ইলিশা ও লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরী ফেরিঘাটে নামে বেনামে নিরব চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।
দ্বীপজেলা ভোলায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের হাত ধরে চলে যায় রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য জেলায়। দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে এ জেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ফেরিঘাট ও ঘাটের সামনের সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ফেরিতে উঠে নদী পারাপারের অপেক্ষায় প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে তরমুজ ভর্তি প্রায় অর্ধশত ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। অধিকাংশ ট্রাকের ভেতরে থাকা তরমুজে পচন ধরায় তা সড়কের পাশেই ফেলে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ট্রাকে রয়েছে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকার তরমুজ। যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় নিজেদের পকেট থেকে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে পরিবহন শ্রমিকদের। এছাড়া ফেরিঘাটে বিশ্রামাগার ও টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগের শেষ নেই।
ট্রাকে তরমুজ বোঝাই করে চরফ্যাশন থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইলিশা ফেরিঘাটে এসে গত দুই দিন ধরে অপেক্ষমান ট্রাকচালক মো. মহিউদ্দিন ও ছিদ্দিক গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল দুপুরে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা থেকে ট্রাকে তরমুজ বোঝাই করে ইলিশা ফেরিঘাটে এসেছি। ভেবেছিলাম দ্রুত সময়ের মধ্যেই ফেরিতে উঠতে পারব। কিন্তু হয়েছে উল্টো, এখন ফেরির অপেক্ষায় আছি। কখন নাগাদ গাড়ি ফেরিতে উঠাতে পারব তাও জানি না।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে তরমুজ নিয়ে ঘাটে পারাপারের অপেক্ষমান আরও দুই ট্রাকচালক কাদের ও শাজাহান অভিযোগ করে বলেন, ইলিশা ফেরিঘাট দেশের অন্যতম ব্যস্ত একটি ঘাট। দৈনিক শত শত যানবাহন পারাপার হয়। অথচ ঘাটটির ন্যুনতম কোনো সংস্কার হয়নি। প্রতিটি ট্রাকে ২-৩ জন করে শ্রমিক রয়েছে। তরমুজের মালিক আমাদের গাড়িতে তাদের মূল্যবান সম্পদ তুলে দিয়েছে। কিন্তু ঘাটে এসে ফেরির অপেক্ষায় ট্রাকে থাকা তরমুজ ও অন্যান্য কাচামালে পচন ধরেছে। বেছে বেছে সেসব আলাদা করে রাস্তার পাশে বাধ্য হয়েই ফেলতে হচ্ছে। এসব পণ্য পচনশীল, আমরা কী করব? তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, এছাড়া ঘাটটিতে নেই কোনো পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, গাড়ি রেখেছি মূল রাস্তার ওপর অথচ আমাদের থেকে গাড়ি পার্কিং চার্জ নেওয়া হচ্ছে। আমরা ট্রাক চালকরা যে ঘাটে একটু বিশ্রাম নেব এবং টয়লেটে যাব সে ব্যবস্থাও নেই। সব মিলিয়ে যা-তা একটা অবস্থা। শুনেছি মাত্র ৪টি ফেরি চলাচল করছে। নদীর নাব্যতা সংকটে প্রতিটি ফেরি ইলিশা ফেরিঘাট থেকে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরী ঘাটে পৌঁছাতে যেতে সময় লাগে ৬-৭ ঘণ্টা, যা আগে লাগতো ৩-৪ ঘণ্টা। আসলে আমাদের দুর্দশার শেষ নেই।
বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. শাহাবুউদ্দিন ফরাজি ক্ষোভ প্রকাশ ও অভিযোগ করে গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের তরমুজ উৎপাদনকারী জেলাগুলোর মধ্যে ভোলা অন্যতম। অথচ ইলিশা ফেরিঘাটে আমাদের কৃষিপণ্য ও কৃষকদের কোনো নিরাপত্তা নেই। ইলিশা ও মজুচৌধুরী ঘাটে তরমুজ বোঝাই ট্রাক থেকে চলছে নিরব চাঁদাবাজি। এসব চাঁদার টাকা কৃষকদের পকেট থেকেই গুনতে হচ্ছে, কিন্তু আমরা বাজারে বিক্রির পর তরমুজের উৎপাদন খরচ ও তুলতে পাচ্ছিনা। এছাড়া ফেরির অপেক্ষায় ইলিশা ঘাটে কৃষকদের তরমুজ পঁচে যাচ্ছে।
তবে ইলিশা ফেরিঘাট বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক কাওসার আহমেদ খান দাবি করেন ফেরি সংকট নেই এবং তরমুজ বোঝাই ট্রাক পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ইলিশা-মজুচৌধুরী রুটে ৫টি ফেরি চলাচল করছে। মূলত সমস্যা হলো নদীর নাব্যতা সংকটে জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে ফেরি চালাতে হচ্ছে। এছাড়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির কেউ তরমুজ বোঝাই ট্রাক থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকা নেয়না।
এদিকে ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে ভোলা জেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে তরমুজ উৎপাদন হয়েছে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের দাবি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও