• বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
উপকূলবাসীকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী ‘শ্রম আইনের ওপর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনেকাংশে নির্ভর’ এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ৯ অ্যাপ-সফটওয়্যার চালু জামায়াত নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে কারা খুনি-ধর্ষক ছিল: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে আনা হোক: রুমিন ফারহানা দুই অঙ্ক থেকে কমিয়ে সুদহার বিনিয়োগবান্ধব করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী দাম বাড়লো সয়াবিন তেলের ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননায় ভূষিত রুনা লায়লা জুলাই থেকে ফ্রি ড্রেস-ব্যাগ-জুতা পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ৩৫ বছর পরও উপকূলে আতঙ্ক: ১৯৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত আজও শুকায়নি

সন্ধ্যায় সিনেমা হল চালু রাখার দাবি নির্মাতা-প্রযোজকদের

প্রভাত রিপোর্ট / ৪২ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারি সিদ্ধান্তে সন্ধ্যা ৭টা থেকেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের শপিংমলগুলো। ঈদের মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলো যখন দর্শকের মুখে মুখে ফিরছে, তখনই সরকারের এমন নির্দেশনায় মন খারাপের মেঘ জমেছে চলচ্চিত্র নির্মাতা-প্রযোজকদের মনে।
কেননা শপিংমলে অবস্থিত মাল্টিপ্লেক্সগুলোও এই সময়টিতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সন্ধ্যাকালীন শো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতারা। তাই চলচ্চিত্রের স্বার্থে প্রেক্ষাগৃহকে বরাবরের মতো মার্কেট খোলা রাখার সময়সীমার আওতামুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত ৭টার পর মার্কেট বন্ধ রাখার যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, সংকট মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক গৃহীত এ পদক্ষেপের প্রতি তারা সর্বাত্মক শ্রদ্ধাশীল। তবে এ সিদ্ধান্তের কারণে মার্কেটের অভ্যন্তরে থাকা সিনেমা হলগুলোও যে বন্ধ করা হচ্ছে, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বর্তমানে মুক্তিপ্রাপ্ত ঈদের সিনেমা এবং সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্প।
বিষয়টি সরকারের নজরে এনে তারা বলেন, “ঈদের সিনেমা মানেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপচে পড়া ভিড়। সিনেমা হলের জন্য সন্ধ্যা এবং রাত হচ্ছে ‘প্রাইম টাইম’। কর্মব্যস্ততা শেষে অধিকাংশ দর্শক এই সময়েই সপরিবারে সিনেমা দেখতে আসেন। সন্ধ্যা ৭টায় হল বন্ধ করে দিলে এই বিশাল সংখ্যক দর্শক সিনেমা দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন।”
অতীতে মার্কেট বা বিপণিবিতান নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ হলেও সিনেমা হলগুলো সেই নিয়মের আওতামুক্ত থাকত। সাধারণত রাত ১০টা বা শো শেষ না হওয়া পর্যন্ত হলগুলো খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হতো। মার্কেটের নিরাপত্তা বজায় রেখেও সিনেমা হলের কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব, যা আগেও সফলভাবে হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে তারা বলেন, “একটি সিনেমা নির্মাণের পেছনে প্রযোজকের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ থাকে। উৎসবের এই কয়েকদিনেই সেই বিনিয়োগ তুলে আনার প্রধান সময়। পিক-আওয়ারে হল বন্ধ থাকলে লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য খুবই খারাপ হবে।”
চলচ্চিত্র শিল্পের এমন ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন মধুমিতা হলের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। সিঙ্গেল স্ক্রিনের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকলেও তারাও সোমবার সন্ধ্যার পর সিনেমা হল বন্ধ রেখেছেন। সিনেমা হল মালিকদের পক্ষ থেকে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির এ জ্যেষ্ঠ নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, “এমনিতেই চলচ্চিত্রের অবস্থা মন্দা। দর্শক হলে আসেই সন্ধ্যার পর। এখন সন্ধ্যার শো বন্ধ রাখলে আমাদের মাথায় হাত পড়বে। তবুও সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা সন্ধ্যার শো বন্ধ রেখেছি। সিঙ্গেল স্ক্রিন শপিংমলের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাই সরকারের কাছে আমরা সুস্পষ্ট নির্দেশনা চাইছি।”
স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “সাধারণ দর্শক মূলত অফিস বা ঘরের কাজ শেষে সন্ধ্যার শোতেই সিনেমা দেখতে বেশি আগ্রহী হন। সন্ধ্যার শোগুলোই মূলত হাউজফুল বা দর্শকসমৃদ্ধ হয়। যেহেতু সংকটাবস্থা বিরাজ করছে, আমরাও সরকারের বিধি মেনে শোগুলো বন্ধ রেখেছি। আশা করি, খুব শিগগিরই এ সংকট কেটে যাবে। তবে নিঃসন্দেহে এটি ঈদের চলচ্চিত্রগুলোর জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি।”
এমন অবস্থায় নির্মাতা ও প্রযোজকরা সিনেমা হলকে মার্কেটের সাধারণ দোকানের আওতামুক্ত রেখে চালু রাখতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ‘দম’-এর নির্মাতা ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, নির্মাতা রেদওয়ান রনি, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর নির্মাতা তানিম নূর ও প্রযোজক সাকিব আর খান, ‘প্রেশার কুকার’-এর নির্মাতা রায়হান রাফী, ‘রাক্ষস’-এর প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি এবং ‘প্রিন্স’-এর প্রযোজক শিরিন সুলতানা।
তারা বলেন, “চলচ্চিত্র সবচেয়ে বড় বিনোদন মাধ্যম এবং সৃজনশীল শিল্প। বিগত কয়েক বছরে দর্শক, শিল্পী ও কলাকুশলীদের সহযোগিতায় শিল্পটি এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। দর্শকদের ঈদের আনন্দ পূর্ণতা দিতে এবং প্রযোজকদের বিনিয়োগ ফিরে পেতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সহমর্মিতাপূর্ণ পদক্ষেপ কামনা করছি।”


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও