• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
উপকূলবাসীকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী ‘শ্রম আইনের ওপর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনেকাংশে নির্ভর’ এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ৯ অ্যাপ-সফটওয়্যার চালু জামায়াত নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে কারা খুনি-ধর্ষক ছিল: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে আনা হোক: রুমিন ফারহানা দুই অঙ্ক থেকে কমিয়ে সুদহার বিনিয়োগবান্ধব করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী দাম বাড়লো সয়াবিন তেলের ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননায় ভূষিত রুনা লায়লা জুলাই থেকে ফ্রি ড্রেস-ব্যাগ-জুতা পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ৩৫ বছর পরও উপকূলে আতঙ্ক: ১৯৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত আজও শুকায়নি

চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসায় হাসনাত আবদুল্লাহ, বেরিয়ে প্রশ্নের মুখে তিনি

প্রভাত রিপোর্ট / ৭৪ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরের কাট্টলি এলাকায় মনজুর আলমের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। খবর পেয়ে এ সময় মনজুর আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন একদল লোক, যাঁরা নিজেদের জুলাই যোদ্ধা বলে পরিচয় দেন।
সাক্ষাৎ শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ ওই বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাঁকে নানা প্রশ্ন করেন জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, মনজুর আলমের বাসার সামনে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে কয়েকজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় একজন হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কাজ কী? আপনি একজন জুলাই যোদ্ধা। সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন। তাহলে আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন?’ এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহকে হাত নাড়িয়ে তাঁদের শান্ত করতে দেখা যায়। পরে একজন এসে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের সরে যেতে বলেন।
এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ মূলত ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
জানতে চাইলে সাবেক মেয়র মনজুর আলম সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে এসেছিলেন। পরে উনি আমার বাসায় বেড়াতে আসেন। বাসায় তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।’
এনসিপির প্রার্থী হয়ে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনজুর আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর বাসায় হাসনাত আব্দুল্লাহর যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মনজুর আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক কোনো বিষয়েই আমাদের মধ্যে আলাপ হয়নি।’
বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রাত ৮টায় এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে তাঁরা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বৈঠকে উভয় নেতাই আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
মোহাম্মদ মনজুর আলম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। ‘রাজনৈতিক গুরু’ হিসেবে পরিচিত সাবেক মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। মেয়র হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হয়েছিলেন।
২০১৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও বিএনপির সমর্থনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। একপর্যায়ে নির্বাচনের দিন সকালে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মনজুর আলম। এর পর থেকে তাঁকে আর বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রমে দেখা যায়নি তাঁকে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের একটি আসনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন মনজুর আলম। ওই বছর তিনি আর নির্বাচন করেননি। ২০২০ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনেন মনজুর আলম। তবে সেবারও তাঁকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।
বিএনপির রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার পর দুই দফায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলেও দলটির কোনো পদে ছিলেন না মনজুর আলম।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও