মো. মাহবুবুর রহমান, পাথরঘাটা : বরগুনার পাথরঘাটায় মারিয়া (১৫) নামের এক কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের সময় তার মায়ের হঠাৎ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসায়। নিহত মারিয়া কালোমেঘা ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামের মৃত নাসির তালুকদারের মেয়ে। তিনি তার মা নাসিমা বেগমের সঙ্গে শহরের শাহু আলম মাস্টারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মারিয়া তার মাকে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করার জন্য দোকানে পাঠান। এ সময় বাসার সামনের বারান্দায় ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে নাসিমা বেগম বাসায় ফিরে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তবে মেয়ের মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করে নাসিমা বেগম দাবি করেন, রুহুল আমিন নামে এক যুবকের সঙ্গে মারিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে কেউ তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখতে পারে বলেও অভিযোগ তার।
খবর পেয়ে পাথরঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাতেই লাশ পাথরঘাটায় এনে দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। তবে দাফনের সময় কবরস্থান থেকে হঠাৎ করে মারিয়ার মা নাসিমা বেগম সবার অগোচরে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাকে খুঁজে না পেয়ে লাশ থানায় নিয়ে যায়। পরদিন বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে পুলিশ নাসিমা বেগমকে উদ্ধার করে পুনরায় কবরস্থানে এনে মারিয়ার দাফন সম্পন্ন করে।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।