• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
উপকূলবাসীকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী ‘শ্রম আইনের ওপর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনেকাংশে নির্ভর’ এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ৯ অ্যাপ-সফটওয়্যার চালু জামায়াত নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে কারা খুনি-ধর্ষক ছিল: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে আনা হোক: রুমিন ফারহানা দুই অঙ্ক থেকে কমিয়ে সুদহার বিনিয়োগবান্ধব করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী দাম বাড়লো সয়াবিন তেলের ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননায় ভূষিত রুনা লায়লা জুলাই থেকে ফ্রি ড্রেস-ব্যাগ-জুতা পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ৩৫ বছর পরও উপকূলে আতঙ্ক: ১৯৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত আজও শুকায়নি

নাজিরপুরে ছেঁড়া ছাউনির নিচে বেঁচে থাকার লড়াই, একটি ঘরের আসায় আঃ রহমান ফকির

প্রভাত রিপোর্ট / ২১৩ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

মো. বাবুল শেখ,পিরোজপুর : পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার ৭নং সেখমাটিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রামভদ্রা গ্রামের এক প্রান্তে নিঃশব্দে বেঁচে আছে এক হৃদয়বিদারক গল্প একটি পরিবারের অব্যক্ত কান্না, যাদের দিকে যেন ফিরেও তাকায় না কেউ।
সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু আঃ রহমান ফকির। মৃত আঃ গনি ফকিরের সন্তান তিনি। জীবনের নির্মম বাস্তবতা তাকে প্রতিনিয়ত আঘাত করে চলেছে। যেখানে একটি নিরাপদ আশ্রয় মানুষের ন্যূনতম অধিকার, সেখানে তার ঘর বলতে রয়েছে কয়েকটি নড়বড়ে বাঁশের খুঁটি আর ছেঁড়া নাড়ার ছাউনি। সামান্য বাতাসেই কেঁপে ওঠে সেটি, আর বৃষ্টি নামলেই তা পরিণত হয় পানিতে ডুবে থাকা এক অসহায় বসতিতে।
বৃষ্টির পানি টপটপ করে ঝরে পড়ে ঘরের ভেতর। ভিজে যায় বিছানা, নষ্ট হয়ে যায় সামান্য খাবার, আর সেই সঙ্গে ভিজে যায় তার তিনটি সন্তানের ছোট ছোট স্বপ্ন। ভেজা মাটিতে কাঁদতে কাঁদতে রাত কাটায় নিষ্পাপ ছোট ছোট বাচ্চাগুলো।
স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তার ছোট্ট পরিবারটি যেন দারিদ্র্যের সঙ্গে এক নিরন্তর সংগ্রামে লিপ্ত। পেশায় একজন সুইপার দিনভর কঠোর পরিশ্রম করেও যা উপার্জন করেন, তা দিয়ে কোনোমতে টিকে থাকে সংসার। এর ওপর শারীরিক অসুস্থতা তাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারেন না, তবুও পরিবারের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন নিজেকে নিংড়ে দেন তিনি।
বর্ষা এলেই তাদের জীবনে নেমে আসে দুঃসহ দুর্ভোগের কালো ছায়া। একফোঁটা বৃষ্টিই যেন আতঙ্কের অন্য নাম। রাতভর পানি ঢোকে ঘরে, শিশুর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাতাস, আর বাবা-মা অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকেন কিছুই করার থাকে না তাদের।
এই অসহায় পিতার একটাই স্বপ্ন একটি নিরাপদ ঘর।
একটি এমন আশ্রয়, যেখানে বৃষ্টির রাতে তার সন্তানদের আর ভিজতে হবে না, যেখানে তার স্ত্রী অন্তত নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন,আর যেখানে তিনি তার ক্লান্ত, অসুস্থ শরীর নিয়ে খুঁজে পাবেন একটু শান্তির ঠিকানা।
আঃ রহমান ফকির এখনও স্বপ্ন দেখেন হয়তো একদিন তারও একটি পাকা ঘর হবে। যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলতে পারবেন, এটাই আমার ঠিকানা।
এই আশাতেই তিনি সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়েছেন ,যেকোনো সরকারি সহায়তার মাধ্যমে যেন তাকে একটি বাসযোগ্য ঘর প্রদান করা হয়।
এ ব্যাপারে ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাফেজ মোঃ ইউনুস বলেন আঃ রহমান ফকির এ লাকার একজন অসহায় দরিদ্র মানুষ। অতি কষ্টে পরিবার সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে। তাই আমরা সরকারের দায়িত্ব শীল এবং উপজেলা নেতৃবৃন্দের নিকট অনুরোধ করছি আপনাদের সহযোগিতায় এবং উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একটি ঘরের ব্যবস্থা, সরকারের ত্রাণ সহায়তা পেতে পারে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করার জন্যে অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে, সেখমাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ডা. মোঃ আল মুক্তাদির রাব্বি বলেন, আমি ভিডিওতে দেখেছি, তারা সত্যিই অত্যন্ত দরিদ্র অবস্থায় জীবনযাপন করছে। তাদের মানবেতর জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও হৃদয়বিদারক। বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমি ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও