প্রভাত রিপোর্ট: ছুটির দিনে ফিলিং স্টেশনগুলোয় তেলের জন্য লম্বা লাইন আজ শুক্রবার অনেকটাই ছোট। গত কয়েক দিনের তুলনায় লাইনের দৈর্ঘ্য কমে এসেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে রমনা ফিলিং স্টেশনে কথা হয় মোটরসাইকেলের রাইড শেয়ারের চালক মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে। তেল নেওয়া শেষে তিনি গণমাধ্যমেকে বলেন, ‘গত শনিবার ১০ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ৫০০ টাকার তেল পেয়েছিলাম। কিন্তু আজ মাত্র ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে ১ হাজার টাকার তেল পেলাম। আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে, লাইন এত কমে যাবে কল্পনাও করিনি।’
মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের লাইন দেখে চালকেরা বলছেন এটি অবিশ্বাস্য। তাঁরা কল্পনাও করেনি এত দ্রুত তেলের এই লাইন কমতে পারে।
আজ রাজধানীর শাহবাগ ও মৎস্য ভবন মোড়ের ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। হঠাৎ লাইন কেন এত কমে গেছে বলে মনে করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে চালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘দাম বাড়ানোর জন্য নাটক হইছে, আমার যত সম্ভব মনে হয়। দাম বাড়ার পর হঠাৎ এখন কেন কমে গেল লাইন? সরকার চাইলে আগে থেকে সবকিছু ঠিক করতে পারত।’
এই ফিলিং স্টেশনে ২০ মিনিটের ভেতরে তেল পেলেন বলে জানান প্রাইভেট কারের চালক ওমায়ের রহমান। তিনি জানান, অন্যান্য দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় চলে গেছে তেল নিতে। আজকে এত অল্প সময়ে তেল নিতে পারবেন, তা ভাবেননি। দাম বাড়ার কারণে তেলের লাইন কমে গেছে বলে জানান এই চালক।
গত শুক্রবার এই রমনা ফিলিং স্টেশনে আজকের মতো একই সময়ে ৪২২টি মোটরসাইকেল ও ৩৫৮টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় দেখা গিয়েছিল। আজ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ৭২টি মোটরসাইকেল ও ২৫টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় দেখা গেছে।
পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনেও তেলের লাইন ছোট দেখা গেছে। গত শুক্রবার এই ফিলিং স্টেশনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৫১৮টি মোটরসাইকেল ও ৪৯৩টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গিয়েছিল। সেখানে আজ বেলা ১১টার দিকে মাত্র ১১২টি মোটরসাইকেল ও ৪২টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। এই ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় মোটরসাইকেলচালক সাব্বির মিলনকে। তিনি জানান, গত শুক্রবার তেলের জন্য ৬ ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করেছিলেন। আজ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ১০ মিনিট। তবে এখনো তেল পাননি। তাঁর সামনে ৬০ থেকে ৭০টি মোটরসাইকেল আছে। আশা করছেন এক ঘণ্টার ভেতরে তেল পেয়ে যাবেন।
ফুয়েল পাস ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়া ও তেলের দাম বাড়ার কারণে লাইন কমে গেছে বলে উল্লেখ করেন এই মোটরসাইকেলচালক। তিনি বলেন, ‘ফুয়েল পাস ছাড়া তেল না দেওয়ার ফলে লাইন অনেকটা কমেছে। এ ছাড়া দাম বাড়ার কারণে আগের মতো অনেকে আর নিতে আসেন না। ফলে এই ভিড়টা কমে গেছে। আশা করি আরও কমে যাবে।’
প্রাইভেট কারের চালক মানিক মিয়া বলেন, ‘আজ লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। দেড় ঘণ্টার ভেতরে তেল পেলাম। আগে ১ হাজার ৫০০ টাকার তেল পেলেও আজকে ২ হাজার তেল পেয়েছি। সরকার আগে থেকে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিলে আমাদের এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না।’
সরকার সরবরাহ বাড়ালে তেলের জন্য লাইন আরও কমে যাবে মনে করেন মোটরসাইকেলচালক হাসিবুল আজম। তিনি জানান, এত দিন যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে ভোগান্তি হয়েছে। সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এ রকম ভোগান্তি সবাইকে পোহাতে হতো না।
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের মধ্যে এবার দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা হয়েছে। গত রোববার থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এবং আন্তজেলা বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।