• সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং কমে আসবে : বিদ্যুৎমন্ত্রী শিক্ষার মানোন্নয়নে তুরস্ক-মালয়েশিয়ার সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য : চিফ হুইপ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবে যুক্তরাজ্য হৃদয়ের আগ্রাসী ফিফটিতে দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের ভুল ও অপতথ্য প্রতিরোধ আমাদের জন্য যুদ্ধে পরিণত হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী দ্রুতই স্থানীয় সরকার নির্বাচন, নতুন ২ বিভাগ গঠনের সুপারিশ সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখা : প্রধানমন্ত্রী মা-বোনদের কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড দেয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ

মালয়েশিয়া ফেরত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ আদায় ও ন্যায়বিচারের দাবি

প্রভাত রিপোর্ট / ২০ বার
আপডেট : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট : মালয়েশিয়া থেকে কাজ হারিয়ে ফেরত আসা কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে মাইগ্রেন্টস ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক। সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে এসব দাবি জানিয়ে চিঠি হস্তান্তর করেছে সংগঠনটি। চিঠি হস্তান্তরের পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন মালয়েশিয়া ফেরত ভুক্তভোগীরা। মন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান শেষে মালয়েশিয়ার চাকরিচ্যুত কর্মী আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রী আমাদের সবগুলো দাবি শুনেছেন এবং বিস্তারিত লিখে নিয়েছেন। তারা হাইকমিশনের মাধ্যমে আমাদের যেসব এজেন্সি পাঠিয়েছিল তাদের মালিকদের ডাকবে এবং ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া ক্ষতিপূরণ, ব্ল্যাকলিস্টÍ এই বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করবে বলে জানিয়েছেন। তারা আমাদের কাছে তালিকা চেয়েছেন, তালিকা দিলে তারা কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।”
মন্ত্রীর আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, “জি, আমরা মোটামুটি আশ্বস্ত। যেহেতু তারা নতুন এসেছেন এবং এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন, আমরা একটু সময় দিতে চাচ্ছি। আমরা বলে এসেছি যদি আশ্বস্তের ওপরই থাকে তাহলে আমরা বড় কর্মসূচি দেবো।”এর আগে স্মারকলিপি দেওয়ার সময় মালয়েশিয়া ফেরত প্রবাসী নিরঞ্জন বলেন, “আমরা ২০২৩ সালে ৫ লাখ, সাড়ে ৫ লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়া গিয়েছি। সেখানে মেডিসিরাম ও কাওয়াগুছি কোম্পানিতে আমাদের কাজ হয়। কিন্তু এই কোম্পানিগুলো আমাদের সঠিক সময় বেতন দিত না। আমাদের প্রত্যেকের ৫-৬ মাসের ওপরে বেতন বকেয়া রয়েছে, পাসপোর্টগুলা জব্দ করে রেখেছে। এছাড়া সেখানে আমাদের দিয়ে জোরপূর্বক কাজ করাতো এবং মারধর করতো।”
কর্মীরা জানান, বৈধ পথে মালয়েশিয়ায় কাজের উদ্দেশ্যে গিয়েও কয়েকশত কর্মী চরম শোষণ, জোরপূর্বক শ্রম, আধুনিক দাসত্ব, বেতন বকেয়া, পাসপোর্ট জব্দসহ অমানবিক জীবনযাপনের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে মেডিসেরাম এবং কাউয়াগুচি নামে দুটি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়ে জোরপূর্বক দেশে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগÍ মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন এক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফেরত আসা এসব কর্মীরা চরম আর্থিক সংকট, ঋণের বোঝা, মানসিক ট্রমা এবং সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। কিছু সহায়তা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে আসলেও তা অত্যন্ত অপ্রতুল।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিশ্চিত করেন যে, মালয়েশিয়া থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যাবাসিত শোষিত শ্রমিকদের ভবিষ্যতে নিয়োগ অভিযানে মালয়েশিয়ায় পুনরায় নিয়োগের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং জড়িত সংস্থাগুলো থেকে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেনÍ ভবিষ্যতে শোষণ রোধে বাংলাদেশের এমডব্লিউএন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মালয়েশিয়ায় সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ায় নির্যাতিত শ্রমিকদের পাঠানোর জন্য দায়ী জনবল সংস্থাগুলোকে তদন্তের জন্য ডাকা হবে। এসময় কর্মীদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এসবের মধ্যে আছেÍ সব ভুক্তভোগী শ্রমিকদের বকেয়া বেতন অবিলম্বে পরিশোধ নিশ্চিত করা, জোরপূর্বক শ্রম ও নির্যাতনের জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা, সব শ্রমিকের জব্দকৃত পাসপোর্ট ফেরত আনা, কালো তালিকা বাতিল করে পুনরায় বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য কার্যকর পুনর্বাসন ও পূনঃএকীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা, ভবিষ্যতে বিনা ব্যয়ে অভিবাসন নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, ব্যাবস্থাপনা ও রিক্রুটমেন্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোতে অভিযোগ ব্যবস্থার সংস্কার করা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন নীতি প্রণয়নে শ্রমিক সংগঠন ও ভুক্তভোগীদের অন্তর্ভূক্ত করা।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও