• বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
উপকূলবাসীকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী ‘শ্রম আইনের ওপর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনেকাংশে নির্ভর’ এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ৯ অ্যাপ-সফটওয়্যার চালু জামায়াত নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে কারা খুনি-ধর্ষক ছিল: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে আনা হোক: রুমিন ফারহানা দুই অঙ্ক থেকে কমিয়ে সুদহার বিনিয়োগবান্ধব করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী দাম বাড়লো সয়াবিন তেলের ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননায় ভূষিত রুনা লায়লা জুলাই থেকে ফ্রি ড্রেস-ব্যাগ-জুতা পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ৩৫ বছর পরও উপকূলে আতঙ্ক: ১৯৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত আজও শুকায়নি
বিক্রি হবে ১৯৯ টাকায়

দাম বাড়লো সয়াবিন তেলের

প্রভাত রিপোর্ট / ২৭ বার
আপডেট : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে ১৯৫ টাকা থেকে চার টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ভোজ্যতেলের নতুন দাম বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। এছাড়া বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা তেলও লিটারে ১৭৫ টাকা থেকে ৪ টাকা বৃদ্ধি করে ১৭৯ টাকায় বিক্রি হবে। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজারমূল্য নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বেই পণ্যের উৎসে মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আশা করি আমাদের ভোক্তা বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি দেখবেন। এতে বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতিও আগের চেয়ে স্বাভাবিক হবে।
এর আগে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট ক্রমেই বাড়ছিল। আগে যেখানে খুচরা দোকানগুলোতে থরে থরে সাজনো থাকতো বোতলজাত সয়াবিন তেল, সেখানে এখন হাতেগোনা কয়েকটি বোতল দেখা যাচ্ছিল। অনেক ক্ষেত্রে ডিলার পর্যায়ে অন্যান্য পণ্য গ্রহণের শর্তে তেল সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে খোলা তেল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হয়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী মাসে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা আরো বাড়বে। তাই এখনই সয়াবিন তেলের সরবরাহ সমস্যা দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও দেশে তা সমন্বয়ের জন্য সরকারকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় আমদানিতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কমে গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র আমদানি পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সয়াবিন তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে একই সময়ে পাম অয়েলের আমদানি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পাম অয়েল আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫৯ হাজার টন, যা এ বছর একই সময়ে ৪ লাখ ৫৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। ফলে সয়াবিন তেলের ঘাটতি পাম অয়েল দিয়ে পূরণ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভোজ্য তেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন, যার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এই বাস্তবতায় আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে দাম সমন্বয় না করায় আমদানিতে আগ্রহ কমেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে লোকসান গুনে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
দেশের অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) উপ-মহাব্যবস্থাপক তসলিম শাহরিয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে পারেন।’ অন্যদিকে টি কে গ্রুপের পরিচালক মো. শফিউল আতহার তসলিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেশি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কী দামে সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে, তা দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক মাস ধরে তারা বারবার সরকারকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ভোজ্য তেলের দাম সমন্বয়ের কথা বলে আসছেন। কিন্তু এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি। ফলে আমদানি বকমে গেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও সয়াবিন তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১ হাজার ১৫৪ ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ১ হাজার ২৮২ ডলার এবং মার্চে ১ হাজার ৪৮২ ডলারে পৌঁছায়। ফলে আমদানিকারকদের ব্যয় আরো বেড়েছে। উল্লেখ্য, প্রায় দুই মাস ধরেই দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে। বিক্রেতারা বলছেন, গত রমজানের ঈদের আগে থেকেই বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি ছিল। ফলে তখন থেকেই সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এখন সামনে কোরবানির ঈদ, কিন্তু সংকট কাটেনি।
সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৮২ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি লিটার খোলা পাম অয়েল ১৬১ থেকে ১৬৮ টাকা এবং সুপার পাম ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে বাস্তবে আরো বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলেছে, বাজারে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরবরাহ সংকট তৈরি করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া বলেন, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোজ্য তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সমপ্রতি সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বোতলজাত তেলের সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও খোলা তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার বিষয়টি সরকার নজরে রেখেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা কারসাজি বরদাশত করা হবে না। কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি বাজারকে জিম্মি করতে পারবে না।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও