• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
উপকূলবাসীকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী ‘শ্রম আইনের ওপর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনেকাংশে নির্ভর’ এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ৯ অ্যাপ-সফটওয়্যার চালু জামায়াত নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে কারা খুনি-ধর্ষক ছিল: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে আনা হোক: রুমিন ফারহানা দুই অঙ্ক থেকে কমিয়ে সুদহার বিনিয়োগবান্ধব করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী দাম বাড়লো সয়াবিন তেলের ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননায় ভূষিত রুনা লায়লা জুলাই থেকে ফ্রি ড্রেস-ব্যাগ-জুতা পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ৩৫ বছর পরও উপকূলে আতঙ্ক: ১৯৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত আজও শুকায়নি

কুয়াকাটার রাখাইনরা মেতেছে সাংগ্রাই উৎসবে

প্রভাত রিপোর্ট / ১৮৭ বার
আপডেট : শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৫

প্রভাত সংবাদদাতা, কলাপাড়া : বর্ণিল সাজে, ঐতিহ্যের রঙে এবং নিখাদ আনন্দে রাঙা এক মহোৎসবে মেতে উঠেছে কুয়াকাটার রাখাইন সম্প্রদায়। বছরের অন্যতম বড় ও বহুল আকাঙ্ক্ষিত উৎসব সাংগ্রাই উপলক্ষ্যে কলাপাড়া ও কুয়াকাটা অঞ্চলজুড়ে বইছে উৎসবের জোয়ার। গতকাল শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মার্কেট মাঠে শুরু হয় মূল জলকেলি বা পানি খেলার অনুষ্ঠান। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত রাখাইন তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে বরণ করে নেন রাখাইন নববর্ষ। পানি খেলার সঙ্গে পরিবেশিত হয় রাখাইনদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা— নৃত্য, গান আর আবৃত্তির সম্মিলন। এ যেন এক ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক যাত্রা, যা ছুঁয়ে গেছে উপস্থিত শত শত দর্শকের মন। দূরদূরান্ত থেকে শতাধিক রাখাইন পরিবার অংশ নিয়ে এ অনুষ্ঠানে। ঘরে ঘরে চলে রান্না-বান্না, তৈরি হয় বাহারি পিঠা, মাংস, মাছ ও বিশেষ তরকারি। রাখাইন গৃহবধূ ন্যানে জানালেন, জলকেলিতে অংশ নিয়ে প্রাণভরে আনন্দ করেছি।
উৎসব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন এতে।
রাখাইন তরুণী লাচো বলেন, সাংগ্রাই শুধু উৎসব নয়, আমাদের জীবনের নতুন সূচনার প্রতীক। সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে একসাথে পথ চলার অঙ্গীকার এটি। তাই এই দিনটিতে আসলে আমরা আনন্দে মেতে উঠি।
ফরিদপুর থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা এক নারী পর্যটক বলেন, আমি কুয়াকাটায় বেড়াতে এসেছি কিন্তু কখনো কল্পনাও করিনি এখানে এসে রাখাইনদের এই সাংগ্রাই উৎসব দেখতে পারবো। এর আগে এত সুন্দর উৎসব দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তাই আমি খুবই আনন্দিত এবং আমার খুব ভালো লাগছে এখানে উপস্থিত হতে পেরে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, রাখাইনদের আমরা কখনোই সংখ্যালঘু ভাবি না। তারা আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের গর্ব ও ঐতিহ্য। আমরা সব সময় তাদের পাশে থাকবো। এবারের সাংগ্রাই উৎসব কেবল রাখাইন সম্প্রদায়ের নয়—এটি পরিণত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের এক সার্বজনীন উৎসবে। যেখানে ধর্ম, বর্ণ, ভাষার পার্থক্য ভুলে সবাই মিলেমিশে উদযাপন করছে সংস্কৃতির এই অপূর্ব রঙিন উৎসব। তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে সরকারের পক্ষ থেকে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও