প্রভাত রিপোর্ট: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি একটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সুশাসনের প্রেক্ষাপট এবং নাগরিক অধিকারের বাস্তব প্রতিফলন। বাকস্বাধীনতা, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ এবং নাগরিক পরিসর কতটুকু বিস্তৃত, তার ওপরই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা নির্ধারিত হয়। শনিবার জার্নালিজম কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনের ‘রাজনৈতিক-শাসনতান্ত্রিক ইকোসিস্টেম ও স্বাধীন গণমাধ্যম’ শীর্ষক সেশনের মূল বক্তা হিসেবে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার মধ্যে একটি গভীর দ্বিমুখী সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত মনে করা হয়, গণমাধ্যম গণতন্ত্র ও জবাবদিহিমূলক শাসনকে সহায়তা করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো— গণতন্ত্রের অবস্থা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার স্তরই নির্ধারণ করে দেয় গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ‘জিরো-সাম গেম’ অভিহিত করে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, এ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তিগুলো যেকোনো মূল্যে জয়ী হতে চায়। এ আকাঙ্ক্ষা থেকেই রাজনৈতিক স্পেস বা পরিসরকে একচেটিয়া দখলে রাখার প্রবণতা তৈরি হয়। আর এ আধিপত্য বজায় রাখতে ভিন্নমত দমন, তথ্য প্রকাশে বাধা প্রদান এবং সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার মতো হাতিয়ারগুলো ব্যবহার করা হয়, যা সরাসরি গণমাধ্যমের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে।
জুলাই বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও দেশের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক ইকোসিস্টেম বা বাস্তুসংস্থান এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে । এখনো টাকা এবং পেশিশক্তির প্রভাব বিদ্যমান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে বের হতে পারছে না। তার মতে, রাজনীতি এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে এবং এর ফলে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের যে অপরাধীকরণ ঘটেছে, তা গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকের কথা উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সুশাসন এবং প্রেস ফ্রিডম—সব সূচকেই বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত হতাশাজনক। এমনকি দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কেবল আফগানিস্তানের উপরে। তিনি জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো নিবর্তনমূলক আইন এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
সেশনে অন্য বক্তাদের মধ্যে দ্য ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস, ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শাকিল আনোয়ার, দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী অংশ নেন।