রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

রিজার্ভের এ কলসি তো ভরবার নয়!

প্রকাশিত - ০৩ জুন, ২০২৪   ১২:১৫ এএম
webnews24

মৃণাল বন্দ্য : ছোটবেলায় ছিদ্র চৌবাচ্চায় পানি পূর্ণ করার পাটিগণিতের কথা মনে আছে? কিংবা পিচ্ছিল বাঁশে বানরের উপরে উঠার অংক? যদি মনে থেকে থাকে তবে আসুন আরেকটা অংক মেলাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভকে মনে করি একটি কলসি। পোষাক শিল্প আর প্রবাসী আয় দিয়েই মূলত ভরছে রিজার্ভ। আর রাখব বোয়ালরা ক্রমাগত এই কলসি ছিদ্র করে ডলার বিদেশে পাচার করায় খুব দ্রুত কমছে রিজার্ভের পরিমাণ। কেউ কি পারবেন এর সমাধান দিতে কিভাবে ভরবে এই ছিদ্রযুক্ত কলসি? 

গতকাল একটি খবরে মনটা দারুণ খুশিতে ভরে উঠেছিলো। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ২২৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা প্রায় চার বছরের (৪৬ মাস) মধ্যে সর্বোচ্চ, আর এযাবৎকালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ ২৬০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০ সালের জুলাই মাসে। খুবই আনন্দের কথা! সাথে পোষাকশিল্পের আয়ের অংকটাও আমাদের আশাবাদী করে তোলে। এবার অর্থনীতির জটিল এই হিসেব থেকে বের হয়ে আসি। এই যে প্রবাসী আয় মে মাসে একটা রেকর্ড করে ফেলেছে এর পিছনে কিন্তু প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রম আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। স্বল্প শিক্ষিত এই মানুষগুলো দেশের বাইরে গিয়ে দেশে টাকা পাঠায় আর নিজে কোন রকমে জীবন ধারণ করে। কোরবানী ঈদ সামনে রেখে টাকা পাঠিয়েছে, পরিবারের আনন্দের কথা ভেবে। ঠিক মুদ্রার অপর পাশে দেশের নামী দামী মানুষ, শিল্পপতি, ভি আই পি, যাদের বিমান বন্দরে লাইনে দাড়াতে হয় না, বিমান বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় না, তুই তোকারি শুনতে হয় না, সর্বস্ব খুইয়ে গেটের বাইরে চোখের জল ফেলতে হয় না তাদের জন্য ভিন্ন গেইট। সেখানে আলাদা ব্যবস্থা। গটগটিয়ে হেটে গিয়ে বিমানে উঠেন, সাথে নিয়ে যান ওই সব ছোটলোকদের কষ্টে অর্জিত কাড়ি কাড়ি ডলার! উনারা স্যালুট পান। উনাদের লাগেজের ওজন একটু বেশিই হয়। আর ফিরে আসেন আবারো ব্যাগ গোছানোর নেক্সট টার্গেট নিয়ে।

এই যে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ দুদকের আলোচিত মামলা চলাকালীন দেশ ছেড়ে চলে গেলেন ব্যাংক শূণ্য করে, বাড়ি বিক্রি করে কেউ বুঝতেই পারেনি (!)। এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীও জানেন না। প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে কাছের মানুষ, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জানে না কিছুই! বেসিক ব্যাংককে লাল বাতি দেখিয়ে দেওয়া হাই সাহেব কিংবা হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে দেশের বাইরে চলে গেলেন পিকে হাওলাদার। শিল্পপতিরা কিছুদিন পর পর দেশের বাইরে ছোটেন। কেন কোথায় যাচ্ছেন দেখার কেউ নেই। আমেরিকা কানাডায় কিংবা সিঙ্গাপুরে ক্যাশ টাকা দিয়ে বাড়ি গাড়ি কিনছেন রাজনীতিবিদরাও। দেখার কেউ নাই। কিন্তু একজন প্রবাসী শ্রমিক যাওয়া কিংবা আসার সময় হেনস্তার শিকার হন পদে পদে। 

প্রশ্ন হচ্ছে এই যে কলসি ছিদ্র করে ইনারা যাচ্ছেন কেউ তো জাদু মন্ত্র করে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছেন না। চুরির টাকা, জনগণের ট্যাক্সের টাকা, সেলাই দিদিমনি কিংবা প্রবাসীদের ঘামের টাকা নিয়ে এরা বিমানে চেপে বসছেন কিংবা সীমান্ত পার হচ্ছেন ফিটফাট হয়ে বীরদর্পে! এদের সহযোগিতা করছেন কারা? পেছনের  গডফাদার কারা? চোখের সামনে একটার পরে একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও সরকারের টনক না নড়ার পিছনে কারণ কি?  পি কে হালদার বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে ভারতের কারাগারে আছেন। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা দুদকের মামলায় গত ৮ অক্টোবর তাঁকে ২২ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। তাকে হয়তো ফিরিয়ে আনা যাবে, অর্থ ফেরত আসবে কি? এমন পিকে হালদার চারপাশে গিজগিজ করছে। কাঠের চশমা পড়ে না দেখার ভান করে যাচ্ছি কেবল! দিন শেষে শুধু হাহাকার! তাহলে অংকটা মিলবে কিভাবে? হয়তো একদিন খালি পড়ে থাকবে কলসিটা। 
mrinalbanday@gmail.com
প্রভাত/আসো

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
গণতন্ত্র কাঁদছে নিভৃতে