• বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

অফিস থেকে অপহরণ করে ৫০ লাখ চাঁদা দাবি, গ্রেফতার ২

Reporter Name / ৫১ Time View
Update : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একজনকে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেফতাররা হলো- মো. আনোয়ার সরকার (৩০) ও মো. জহিরুল ইসলাম জহির ওরফে বাবু (২৩)।
গ্রেফতারের সময় আসামিদের হেফাজত থেকে মোবাইল ফোন ও ভিকটিমের সই করা ৩টি ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে।
মতিঝিল থানার বরাত দিয়ে এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী রাসেল আহমেদ একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। মতিঝিলে তার একটি আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ১০ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে ৫-৬ জন দুষ্কৃতকারী ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তার প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। রাসেল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অপহরণ করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নন্দীপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যান। সেখানে আটকে রেখে রাসেলের পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। এসময় তার মোবাইল, ল্যাপটপ ও ক্রেডিট কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে তাকে প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
তিনি বলেন, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভুক্তভোগী তার স্বজনদের মাধ্যমে দফায় দফায় বিভিন্ন মাধ্যমে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নেওয়া হয় এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে গোড়ান এলাকায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা।
ঘটনার পর ভিকটিম আতঙ্কে চুপ থাকলেও সম্প্রতি অপহরণকারীরা হোয়াটসঅ্যাপে কল করে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে এবং স্ট্যাম্প দিয়ে মামলা করার হুমকি দেন। পরে গত ৪ মে ভুক্তভোগী মতিঝিল থানা পুলিশের সহায়তা চান এবং তার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়।
তিনি বলেন, মতিঝিল থানা পুলিশের তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আনোয়ার সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর আনোয়ারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা থেকে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় জহিরুলের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর সই করা স্ট্যাম্পগুলো জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং চক্রের অন্যদের গ্রেফতার ও মুক্তিপণের অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category