• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
Headline
মহাসড়কে থ্রি হুইলার বন্ধের দাবি- খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের পিরোজপুরের জিয়ানগরে শহীদ জিয়া স্মৃতি ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের জাঁকজমকপূর্ণ ফাইনাল অনুষ্ঠিত গৌরীপুরে এক্সিম ব্যাংকের ঋণ খেলাপির মামলায় দ্বীন ইসলাম আটক আনচেলত্তির ‘কঠিন শর্তে’ রাজি হয়েই বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছেন নেইমার ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল সিটি ছাড়ার প্রশ্নে গার্দিওলা বললেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে হবে কবজির চোটে উইম্বলডনেও নেই আলকারাজ ইবোলা নিষেধাজ্ঞার পরও কঙ্গোর ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি বিশ্বকাপ সম্প্রচারে এখনও ভারতের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, এবার তারা কী করবেন? হাসপাতালে ভর্তি অমিতাভ খবরটি ছিল গুজব

লালবাগ কেল্লা, একসময় যার নাম ছিল ‘কিল্লা আওরঙ্গবাদ’

Reporter Name / ৬১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

ভ্রমন ডেস্ক: আদি নাম ‘কিল্লা আওরঙ্গাবাদ’, তবে একনামে পরিচিত ‘লালবাগ কেল্লা’ হিসেবে। দুর্গটি অসমাপ্ত, এর সম্পূর্ণ নির্মাণ কখনোই শেষ হয়নি। মুঘল শাসনামলের হাতে গোনা কয়েকটি স্থাপনার মাঝে সবচেয়ে আগ্রহ জাগানিয়া প্রায় ৩৫০ বছরের পুরনো এই স্থাপনা। একে ঘিরে প্রচলিত আছে অনেক জনশ্রুতি। গেল শতকের শেষদিকেও বুড়িগঙ্গার প্রবাহ দৃশ্যমান ছিল এর ওপর থেকে। ১৯৬৫ সালে New York World’s Fair – এ, লালবাগ কেল্লার এই ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছিল। আলোকচিত্রী ডোনাল্ড লারসন।
রাজধানীর দক্ষিণাংশে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বংশাল থানার লালবাগ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা। একসময় যার নাম ছিল ‘কিল্লা আওরঙ্গবাদ’। ৩০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এ স্থাপনা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে শুধু ইতিহাসের নীরব সাক্ষীই নয় বরং ঐতিহ্যের মূল্যবান ধারক। ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। যার আয়তন ১৯ একর। লালবাগ কেল্লার যে ছবিটি বেশি ব্যবহৃত হয় তা পরীবিবির সমাধি। এটি চতুষ্কোণ আকৃতির। বিশাল আকৃতির তিনটি দরজা আছে। এর ভেতর একটি দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত।
পরীবিবির সমাধিকে অনেকে আবার পরীবিবির মাজার বলেও ডাকেন। এর ভেতরে আছে ৯টি কক্ষ। একটি গম্বুজও আছে, যা আগে সোনার ছিল, বর্তমানে তা তামা দিয়ে মোড়ানো। এ ছাড়া দুর্গটির ভেতরে একটি বিশাল পুকুর আছে। তবে বর্তমানে সেখানে পানি নেই। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকে মুখরিত হয়ে ওঠে লালবাগ কেল্লা। লালবাগ কেল্লায় ঢুকতেই চোখে পড়ে সরু রাস্তার দুপাশে নানারকম ঝাউগাছ আর পাতাবাহারের সারি। গোলাপ, গাদা, রঙ্গনসহ আছে আরও বাহারি ফুলের গাছ। সূর্য যখন হেলে পড়ে; তখন লালবাগের আসল সৌন্দর্য ধরা পড়ে।
লালবাগ কেল্লায় শায়েস্তা খাঁর বাসভবন ও দরবার হল বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। দরবার হল থেকেই তিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন। জাদুঘরে অনেক কিছুই আছে দেখার মতো। মোগল আমলের পাণ্ডুলিপি, মৃৎশিল্প, কার্পেট, হস্তলিপি ও রাজকীয় ফরমানসহ আছে মোঘল আমলের বিভিন্ন সময়ের হাতে আঁকা ছবি। শায়েস্তা খাঁর ব্যবহার্য নানা জিনিসপত্রও আছে। এ ছাড়া তৎকালীন বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র, পোশাক, প্রচলিত মুদ্রাও জাদুঘরে আছে। সব মিলিয়ে যা আপনাকে মুগ্ধ করবে। তবে কেল্লার ভেতরে থাকা পুকুরে পানি থাকলে এর সৌন্দর্য আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পেত। একইসঙ্গে দর্শনার্থীরাও সেখানে আরও আনন্দঘন ও উপভোগ্য সময় কাটাতে পারতেন। তাই পুকুরটি দ্রুত সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পহেলা বৈশাখের দিনেই ১০ হাজার দর্শনার্থী লালবাগ কেল্লায় ঘুরতে এসেছিলেন। এ ছাড়া অন্য বিশেষ দিনেও দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। তবে স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিনই ৩-৪ হাজার মানুষ ঘুরতে আসেন এখানে।
ইতিহাস থেকে জানা গেছে, মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় ছেলে যুবরাজ আজম শাহ বাংলার সুবেদার হয়ে ১৬৭৮ সালে ঢাকায় আসেন। তিনি কিল্লা আওরাঙ্গবাদ নামে একটি প্রাসাদ দুর্গ নির্মাণের কাজ হাতে নেন। তবে তিনি এ দুর্গ নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেননি। কারণ মারাঠাদের মোকাবিলার জন্য সম্রাট আওরঙ্গজেব তাকে দিল্লি ডেকে পাঠান। ফলে তিনি দুর্গটির নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঢাকা ছাড়েন। পরে ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খান দ্বিতীয়বার বাংলার সুবেদার হয়ে ঢাকায় আসেন। তখন কেল্লার কাজটি আবারও শুরু করা হয়। তবে তিনি এর নাম পরিবর্তন করে লালবাগ কেল্লা রাখেন। কেল্লার কাজ শেষ না করতেই সুবেদার শায়েস্তা খানের প্রিয় কন্যা পরিবিবি মারা যান। তাকে সেখানেই সমাধিস্থ করা হয়। যে কারণে এ কাজ তিনিও আর শেষ করতে পারেননি।
আপনি যদি শহরের ব্যস্ততার মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে চান, ইতিহাসের আবেশে নিজেকে ছুঁয়ে দেখতে চান কিংবা প্রকৃতির শান্ত পরিবেশে নিরিবিলি সময় কাটাতে চান—তাহলে লালবাগ কেল্লা হতে পারে অনন্য ও মনোমুগ্ধকর উপযুক্ত জায়গা।
কেল্লার ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে সবুজ ঘাসে ঘেরা বিস্তৃত প্রাঙ্গণ, প্রাচীন স্থাপনার সৌন্দর্য আর নীরবতার মাঝে একধরনের ঐতিহাসিক আবহ। তবে দুপুরের সময়টায় রোদের তীব্রতা কিছুটা ভোগান্তি তৈরি করলেও দর্শনার্থীদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। অনেকেই রোদ উপেক্ষা করে ছবি তুলতে ব্যস্ত, কেউ আবার ছায়াময় জায়গায় বসে বিশ্রাম নিতে পারেন।
এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ। সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা। আর সপ্তাহের বাকি দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। অন্যদিকে অক্টোবর থেকে মার্চ অর্থাৎ শীতকালে রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ। সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। সপ্তাহের বাকি দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সরকারি বিশেষ ছুটির দিনগুলোয়ও লালবাগ কেল্লা বন্ধ থাকে।
ঢাকার যে কোনো স্থান থেকে লালবাগ কেল্লায় যেতে পারবেন। গুলিস্তান থেকে রিকশা অথবা সিএনজিতে চড়ে সরাসরি লালবাগ কেল্লায় যেতে পারবেন। এ ছাড়া ঢাকার নিউমার্কেট, শাহবাগ কিংবা আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে লালবাগ কেল্লায় যেতে পারবেন। যদি লাইন বাসে যেতে চান, তাহলে নামতে হবে আজিমপুর এতিমখানা বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে রিকশায় মাত্র ২০-৩০ টাকায় পৌঁছে যাবেন। নিউমার্কেট থেকে রিকশায় যেতে চাইলে ৪০-৫০ টাকা ভাড়া গুনতে হবে।
লালবাগ কেল্লা পরিদর্শনের জন্য আপনাকে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রথমে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। টিকিট কাউন্টার পেয়ে যাবেন প্রধান ফটকের সামনেই। টিকিটের মূল্য মাত্র ৩০ টাকা, তবে বিদেশি নাগরিকদের জন্য টিকিটের মূল্য একটু বেশি।
লালবাগ কেল্লা ভ্রমণ শেষে চাইলে পুরান ঢাকার খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন। লালবাগ কেল্লার প্রধান ফটকের আশপাশে অনেকগুলো রেস্তোরাঁ আছে। এ ছাড়া একটু হাঁটলেই পেয়ে যাবেন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাহি বিরিয়ানি, হাজি বিরিয়ানি এবং নান্না বিরিয়ানি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category