• শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পিরোজপুরে ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত অপরাধ দমনে রাজধানীতে বসবে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা: ডিএমপি কমিশনার জিয়াউদ্দিনের নাটকে জুটি বাঁধলেন অহনা-তুহিন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যে কঠিন কাজটি করলেন দীপিকা ‘ভূত বাংলা’ সাফল্যের মধ্যেই বিদ্যা বালানের সঙ্গে নতুন ছবিতে অক্ষয় ট্রুডোর সঙ্গে কেটির প্রেম, মেনে নিতে পারছেন না সংগীতশিল্পীর সাবেক স্বামী আমি অভিনেতা, কিন্তু রাজনীতিতে অভিনয় করি না: থালাপতি বিজয় শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন জয় চৌধুরী আমির খানের নায়িকা হচ্ছেন শ্রদ্ধা কাপুর বাংলাদেশে শিল্পী হওয়া একটা অভিশাপ: রিনা খান

অচল নগর ভবন, সেবা বঞ্চিত কোটি মানুষ

প্রভাত রিপোর্ট / ১৩০ বার
আপডেট : শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫

প্রভাত রিপোর্ট: ডিএসসিসির ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে নাগরিকদের জন্মসনদ বিতরণ করে সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে অঞ্চল-১ ও অঞ্চল-৪ এর কার্যালয় নগর ভবনে। বাকি আটটি অঞ্চলের কার্যক্রম ঢাকার বিভিন্ন অফিস থেকে পরিচালিত হয়। কিন্তু ইশরাক হোসেনের মেয়র পদে শপথকে কেন্দ্র করে নগর ভবনসহ সবগুলো আঞ্চলিক অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন তার সমর্থকরা। শনিবার (২১ জুন) বেলা ১১টা পর্যন্ত এ তালা খোলা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বেলা ১১টা থেকে নগর ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন ইশরাকের সমর্থকেরা। তারা নগর ভবনের প্রধান ফটকসহ ভেতরে ঢোকার প্রতিটি ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ফলে বাইরে থেকে সেবা নিতে যাওয়া নাগরিকরা ভেতরে ঢুকতে পারছেন না। এ ছাড়া নগর ভবনের ১১ তলায় থাকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অফিসেও কেউ ঢুকতে পারছেন না। উল্টো এ মন্ত্রণালয় বিএনপি নেতা ইশরাক হোসনকে শপথ না পড়ানোয় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তারা।
চলতি মাসের শুরু থেকে ঢাকায় এডিস মশার উপদ্রব বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ ঘণ্টার আপডেটে প্রতিদিনই জানানো হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তির খবর। সামনের দিনগুলোতে এ মশার উপদ্রব আরও বাড়বে। অথচ বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের চলমান আন্দোলনের কারণে গত ১৪ মে থেকে ডিএসসিসিতে মশক নিধন কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। নগর ভবনসহ আঞ্চলিক অফিসগুলোতে তালা থাকায় মশার ওষুধও বের করতে পারছেন না সংস্থাটির কর্মচারীরা।
ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, মশার ওষুধ নগর ভবনের নিচ তলাসহ আঞ্চলিক অফিসগুলোতে স্টোর রুমে রাখা আছে। কিন্তু আন্দোলনের কারণে কেউ মশার ওষুধ বের করতে পারছেন না। এ কারণে নগরে ক্রমেই এডিস মশার উপদ্রব বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে মশা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
ইশরাক সমর্থকদের টানা আন্দোলনের কারণে নগর ভবনে ঢুকতে পারছেন না ডিএসসিসির প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বেও আছেন। আর ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. জিল্লুর রহমান বঙ্গবাজার-সংলগ্ন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের একটি কক্ষে বসে অফিস করেন বলে জানা গেছে।
করপোরেশনে না গিয়ে নাগরিক সেবা কীভাবে পরিচালনা করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের আন্দোলনের কারণে বেশ কিছু নাগরিক সেবা বন্ধ রয়েছে। তবে এর মধ্যে শুনেছি, ডিএসসিসির তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কিছু কর্মচারীকে নিয়ে বিএনপি নেতা (ইশরাক) বৈঠক করেছেন। তাদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশক নিধনে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে দক্ষিণ সিটির নাগরিক সেবা সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মেয়র পদে শপথ পড়ানোর দাবিতে এভাবে নগর ভবন দখল রাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়। এ বিষয়ে সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ দাবি আদায়ের নামে এভাবে রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠান দখল করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দক্ষিণ সিটিতে প্রায় কোটি মানুষ বসবাস করেন। প্রতিদিনই তাদের সেবার দরকার হয়। সরকারকে এ সেবা স্বাভাবিক করতে হবে। সামনে এডিস মশার উপদ্রব বাড়া ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা হতে পারে। এখনই প্রস্তুতি না নিলে নাগরিক ভোগান্তি আরও বাড়বে।
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়দ পদে শপথ পড়ানোর দাবিতে টানা ৩৮ দিন (১৪ মে থেকে) ধরে নগর ভবনে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন তার সমর্থকেরা। এ আন্দোলনের কারণে ঢাকা দক্ষিণের প্রায় এক কোটি মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। করপোরেশনে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে সংস্থাটিতে জন্মনিবন্ধন সনদ, ট্রেড লাইসেন্স সনদ বিতরণসহ সব ধরনের নাগরিক সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এ ছাড়া একই কারণে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। সংস্থাটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। মশক নিধন কার্যক্রমও মুখ থুবড়ে পড়েছে। অথচ নগরে এডিস মশার উপদ্রব ক্রমেই বাড়ছে। এ ছাড়া নগর ভবন বন্ধ থাকায় ঢাকা দক্ষিণের অনেক এলাকায় সড়কবাতি জ্বলছে না। সন্ধ্যার পরপরই সড়কে ঘুটঘুটে আঁধার নেমে আসছে। জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম থমকে আছে।
১০৯ দশমিক ২৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ডিএসসিসি গঠিত। এখানে ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাধীন ওয়ার্ড রয়েছে ৭৫টি। এসব ওয়ার্ডে প্রায় এক কোটি মানুষ বাস করেন। এর মধ্যে প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত হাজার মানুষ ডিএসসিসির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে যান। পৃথক ১০টি অঞ্চলেও হাজারো মানুষ নাগরিক সেবা নিতে যান।
ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগ সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন থেকে জন্মসনদ, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু, মৃত্যু-ওয়ারিশ সনদ বিতরণসহ ২৮ ধরনের নাগরিক সেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ডিএসসিসি পরিচালিত হাসপাতালের কার্যক্রম, সড়ক, নর্দমা, ফুটপাত মেরামত, বাজার, ব্যায়ামাগার, কমিউনিটি সেন্টার, মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র, রাস্তার গাড়ি পার্কিং, গ্রন্থাগার, বাস টার্মিনাল, পাবলিক টয়লেট, পার্ক-খেলার মাঠ, হোল্ডিংয়ের নামজারি, কবরস্থান ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটি সেন্টার বুকিং, বহুতল ভবনের অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু চলামান আন্দোলনের কারণে বন্ধ এসব সেবা কার্যক্রম।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও