• শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
অপরাধ দমনে রাজধানীতে বসবে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা: ডিএমপি কমিশনার জিয়াউদ্দিনের নাটকে জুটি বাঁধলেন অহনা-তুহিন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যে কঠিন কাজটি করলেন দীপিকা ‘ভূত বাংলা’ সাফল্যের মধ্যেই বিদ্যা বালানের সঙ্গে নতুন ছবিতে অক্ষয় ট্রুডোর সঙ্গে কেটির প্রেম, মেনে নিতে পারছেন না সংগীতশিল্পীর সাবেক স্বামী আমি অভিনেতা, কিন্তু রাজনীতিতে অভিনয় করি না: থালাপতি বিজয় শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন জয় চৌধুরী আমির খানের নায়িকা হচ্ছেন শ্রদ্ধা কাপুর বাংলাদেশে শিল্পী হওয়া একটা অভিশাপ: রিনা খান ঢাকায় পরীক্ষামূলক ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করবে সরকার : সংসদে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

আপাতত ঢাকার রাস্তায় চলবে লক্কড়-ঝক্কড় বাস

প্রভাত রিপোর্ট / ১৩৮ বার
আপডেট : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫

প্রভাত রিপোর্ট: ১৪ বছর ধরে পুরোনো ও অনিরাপদ যানবাহন সড়ক থেকে সরানোর উদ্যোগ নিয়েও সফল হয়নি সরকার। সরকারের কাজে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ক্ষমতাধর পরিবহন মালিক ও নেতারা। সম্প্রতি ফিটনেসবিহীন গাড়ি সরাতে বিআরটিএর অভিযান শুরু হতেই পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন ধর্মঘটের হুমকি দেয়। তাদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করে সরকার। এভাবেই আরও একবার থমকে দাঁড়াল পরিবহন খাতের সংস্কার প্রচেষ্টা। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা শহর ও সারা দেশের মহাসড়ক থেকে লক্কড়-ঝক্কড়, রংচটা, গ্লাস বা লাইট ভাঙা বা সিট নষ্ট হয়ে গেছে এমন মোটরযানগুলো সরাতে গত ১ জুলাই থেকে অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। এতে পুরোনো গাড়ির মালিকরা বেকায়দায় পড়েন। তারা পরিবহন নেতাদের উসকে দিয়ে ধর্মঘটের ডাক দেন। আগামীকাল ১২ আগস্ট থেকে এ ধর্মঘট শুরু হওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে গতকাল ১০ আগস্ট সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বৈঠকে বসেন পরিবহন শ্রমিক-মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে। সেখানে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা নেই, এটা প্রমাণিত সত্য। লাখ লাখ গাড়ি আছে ব্যক্তি মালিকানায়। তাদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো কার্যকর নীতি ও সক্ষমতা কোনোটিই সরকারের নেই। তাই সরকারকে বারবার নতি স্বীকার করতে হচ্ছে পরিবহন সিন্ডিকেটের কাছে।
দীর্ঘসময় সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মতো প্রভাবশালী নেতা হয়েও সড়ক থেকে লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি সরাতে পারেননি সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে, ২০২৪ সালের ২১ মার্চ তিনি বলেছিলেন, যখন বিদেশিরা বাংলাদেশে আসে এবং আমাদের লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি দেখে, তখন খুব লজ্জা হয়। ঢাকা শহরেই অনেক লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ির কারখানা আছে। আমি সেগুলো নিজের চোখে দেখেছি। ঈদের আগে সেগুলোতে রং লাগাতে দেখেছি, যে রং ১০ দিনও টেকে না।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বলছে, ঢাকা মহানগরে ২০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সের বাস রয়েছে ৮ হাজার ১৩২টি। মিনিবাস আছে ৬ হাজার ৪৭৮টি। হিসাবটি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। বিআরটিএর কর্মকর্তাদের হিসাবে, এর মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ বাস এখন আর রাস্তায় চলে না। যেসব বাস চলছে তার একটি বড় অংশের আবার রুট পারমিট নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ ও রুট পারমিটবিহীন এসব বাস-মিনিবাস ঢাকায় যানজট-বিশৃঙ্খলা-দুর্ঘটনা এবং পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে পরিবহন মালিকরা চাইছেন, ঢাকাসহ সারাদেশে বাসের অর্থনৈতিক আয়ু ৩০ বছর নির্ধারণ করা হোক। এ ইস্যুর সঙ্গে সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ আরো কয়েকটি দাবি জুড়ে দিয়ে ১২ থেকে ১৫ আগস্ট পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিদ্যুৎ ভবনে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে নিয়ে একটি সভা করেন সড়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘বিআরটিএ ও পুলিশের সক্ষমতা সীমিত। এজন্য সড়ক থেকে পুরনো গাড়ি অপসারণের কাজটি ঠিকমতো করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন থেকে অতিপুরনো হয়ে যাওয়া যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইকোনমিক লাইফ উত্তীর্ণ মোটরযান সড়ক থেকে প্রত্যাহারের সময়ে মালিক ও শ্রমিক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে বিষয়ে সরকার আন্তরিক।’ এ সময় নতুন মোটরযান ক্রয়ের নিমিত্তে অর্থ উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সভা শেষে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘সরকারকে জিম্মি করে দাবি আদায় করা পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের উদ্দেশ্য নয়। সরকারের সব আইনানুগ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পরিবহন শ্রমিক-মালিক সমিতির সবাই সর্বসম্মত হয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করছি।’
পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ বাস সড়ক থেকে তুলে দেয়ার একটি উদ্যোগ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার নিয়েও পরবর্তী সময়ে পরিবহন মালিকদের চাপে সরে আসে। যাত্রীবাহী বাসের অর্থনৈতিক আয়ু ২০ বছর ও পণ্যবাহী গাড়ির অর্থনৈতিক আয়ু ২৫ বছর নির্ধারণ করে ২০২৩ সালের মে মাসে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল তৎকালীন সরকার। যদিও পরিবহন মালিকদের চাপের কারণে তিন মাস পর সেটি স্থগিত করে দেয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান দায়িত্ব নেয়ার পর মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হন। এর অংশ হিসেবে স্থগিত থাকা প্রজ্ঞাপনটি নতুন করে জারি করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলো সরিয়ে নিতে মালিকরা ছয় মাস সময় পাবেন। এ সময়ের পর রাস্তায় আর এসব গাড়ি চলতে পারবে না। মালিকদের দেয়া ছয় মাস সময় অতিবাহিত হয়েছে গত এপ্রিলে। যদিও এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে পারেনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
কেন নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারলেন না,এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন তুলে দেয়ার জন্য আমরা গত ডিসেম্বরে (২০২৪) মিটিং করলাম। তখন মালিকদের মে মাস (২০২৫) পর্যন্ত সময় দিলাম। এর পরও তারা (পরিবহন মালিক) সড়ক থেকে গাড়ি তুলে নিল না। এরপর যখন অভিযান শুরু করতে গেলাম, প্রথমে বলা হলোÍরোজার মাস, কিছুদিন পরই ঈদ। এখন গাড়ি সরালে মানুষের ভোগান্তি হবে। তাদের কথা শুনে ঈদের পর আমরা আবার অভিযানের উদ্যোগ নিলাম, তখন মালিকদের কাছ থেকে বাধা এল। এ ইস্যু নিয়ে আমি প্রতিনিয়ত হরতালের হুমকির মধ্যে রয়েছি।’


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও