• শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পিরোজপুরে ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত অপরাধ দমনে রাজধানীতে বসবে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা: ডিএমপি কমিশনার জিয়াউদ্দিনের নাটকে জুটি বাঁধলেন অহনা-তুহিন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যে কঠিন কাজটি করলেন দীপিকা ‘ভূত বাংলা’ সাফল্যের মধ্যেই বিদ্যা বালানের সঙ্গে নতুন ছবিতে অক্ষয় ট্রুডোর সঙ্গে কেটির প্রেম, মেনে নিতে পারছেন না সংগীতশিল্পীর সাবেক স্বামী আমি অভিনেতা, কিন্তু রাজনীতিতে অভিনয় করি না: থালাপতি বিজয় শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন জয় চৌধুরী আমির খানের নায়িকা হচ্ছেন শ্রদ্ধা কাপুর বাংলাদেশে শিল্পী হওয়া একটা অভিশাপ: রিনা খান

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টি-শার্ট রফতানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

প্রভাত রিপোর্ট / ১৫৪ বার
আপডেট : শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫

প্রভাত রিপোর্ট: ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টি-শার্ট রফতানিতে শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তৈরি পোশাকের নতুন ক্রয়াদেশে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের রফতানিকারকরা। জানা গেছে, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও চীনের মতো প্রথিতযশা রফতানিকারক দেশগুলোকে পেছনে ফেলে এটি বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের (ইউএসআইটিসি) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র ১১৭টি দেশ থেকে মোট ৩৫২ কোটি ডলারের টি-শার্ট আমদানি করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এসেছে ৩৭ কোটি ৩২ লাখ ডলারের সমমূল্যের টি-শার্ট, যা নিকারাগুয়ার ৩৬ কোটি ১২ লাখ ডলারের রফতানি অতিক্রম করেছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ এর আগে কখনও যুক্তরাষ্ট্রের টি-শার্ট বাজারে শীর্ষস্থান অধিকার করতে পারেনি। ১৯৮৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩৬ বছর ধরে হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, হংকং, জ্যামাইকা, মেক্সিকো ও চীনের মতো দেশগুলো এই বাজারে আধিপত্য বজায় রেখেছিল। চীন ও হংকং ছাড়া বাকি দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির কারণে শুল্ক সুবিধা পেয়ে আসছিল। তবে ২০২৫ সালের শুরুতে এই চিত্র বদলে গেছে। ২ এপ্রিল থেকে ট্রাম্প প্রশাসন সব দেশের পণ্য আমদানিতে ন্যূনতম ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলে শুল্ক সুবিধা ভোগকারী নিকারাগুয়া ও হন্ডুরাসকেও যুক্তরাষ্ট্রে টি-শার্ট রফতানিতে অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হয়। এই নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যেই বাংলাদেশের টি-শার্ট যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুল্কের চাপে অন্য দেশগুলোতে রফতানি ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩১ জুলাই বাংলাদেশি পণ্যে পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেন। অপরদিকে চীনের পণ্যে বাড়তি শুল্ক ৩০ শতাংশ এবং ভারতের পণ্যে ২৫ শতাংশ। তবে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন বাজারে চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্কের কারণে ক্রেতারা বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছেন এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে এই বিকল্প বাজার হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় একক বাজার যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাজারে শীর্ষ ১০ রফতানিকারক দেশ হলোÍভিয়েতনাম, চীন, বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, হন্ডুরাস, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও কোরিয়া। মার্কিন শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে চীনের হারানো বাজার দখলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনÍ প্রথম ছয় মাসে চীনের পোশাক রফতানি কমেছে ১১০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। একই সময়ে ভিয়েতনামের রফতানি বেড়েছে ১১৯ কোটি ডলার এবং বাংলাদেশের বেড়েছে ৮৫ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন প্রশাসন ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর করা পাল্টা শুল্কের প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন বাজারে চীনা ও ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশ এখন ক্রেতাদের নজরে এসেছে। এই পরিস্থিতি দেশের রফতানিমুখী পোশাক খাতকে নতুন সম্ভাবনার মুখে দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশি তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তা ও রফতানিকারকরা বলছেন মার্কিন বাজারে চীনা ও ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে ক্রেতারা দ্রুত অর্ডার স্থানান্তর করছেন এবং এ সুযোগে বাংলাদেশকে নতুন বিনিয়োগ ও অর্ডারের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করছেন। এই পরিস্থিতি শুধু রফতানিতে বৃদ্ধি আনছে না, বরং শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি করছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী, চীন থেকে সরানো অর্ডার প্রবাহ আগামী মাসগুলোতে আরও বাড়তে পারে। ইউরোপীয় ক্রেতারাও বাংলাদেশে অর্ডার বাড়াতে আগ্রহী। সঠিক সহায়তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২৮ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি অর্জন করতে সক্ষম হবে।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন শুল্কনীতির কারণে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। বাংলাদেশের মার্কেট শেয়ার এ বছরের জুনে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত বছরের ৯.২৬ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এ ধরনের প্রবৃদ্ধি রফতানিমুখী খাতের জন্য এক নতুন সূচনা এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করবে।
বিগত দুই সপ্তাহে মার্কিন ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি ক্রয়াদেশের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। আগে স্থগিত হওয়া অর্ডারও ফেরত আসতে শুরু করেছে। মূলত দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোই সবচেয়ে বেশি নতুন অর্ডারের প্রস্তাব পাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও