মো. মাহবুবুর রহমান , পাথরঘাটা: বরগুনার পাথরঘাটা উপকুলে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়ায় গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না শত শত ট্রলারের হাজার হাজার জেলে । অন্যদিকে প্রেট্রোল এবং অকটেনের সংকটে ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ি থেকে শুরু করে শত শত রেন্ট-এ মোটরসাইকেলের ও একই দশা হয়েছে। তেলের সংকটের সাথে সাথে স্থানীয় বড় বড় তেলের ডিলারদের কাছে তেল থাকলেও কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এতে ঈদের ঠিক আগে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন জেলে, ট্রলার মালিক,আড়তদার এবং রেন্ট-এ মোটরসাইকেল চালিয়ে যারা জীবন জীবিকা নির্বাহ করে।
স্থানীয় জেলে ও সচেতন মহলের দাবি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান-ইসরাইল-আমেরিকার উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার খবর প্রকাশের পর থেকেই দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে অনেকের মতে, দেশে তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্তে¡ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রির আশায় তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
এদিকে ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। প্রতিবছর ঈদের আগে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করে সেই আয়ে পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করেন জেলেরা এবং রেন্ট-এ মোটরসাইকেলের চালকরা । কিন্তু এ বছর জ্বালানি তেলের অভাবে তাদের সেই আশা ভেঙে যেতে বসেছে।
স্থানীয় জেলে জাকির বিশ্বাস বলেন, দোকানগুলোতে তেল মজুদ আছে কিন্তু আমরা কিনতে চাইলে বলে তেল নেই। তাই সাগরে যেতে পারছি না। ভেবেছিলাম ঈদের আগে মাছ ধরে ভালো টাকা পাবো এবং পরিবার নিয়ে ঈদ করবো। কিন্তু মনে হচ্ছে এবছর আর সেই আশা পূরণ হবে না।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা মৎস্যজীবি ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, পাথরঘাটার বিভিন্ন জ্বালানি তেলের দোকানে পর্যাপ্ত তেল মজুদ থাকা সত্তে¡ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি দামের আশায় তেল গোপনে মজুদ করে রেখেছে। এর ফলে সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে ঘাটে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অনেক ট্রলার ইতোমধ্যে সমুদ্রে যাওয়ার জন্য বাজার-সদাই ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ঘাটে অপেক্ষা করছে। কিন্তু জ্বালানি তেল না পাওয়ায় তারা গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে পারছে না। এতে জেলে, আড়তদার ও ট্রলার মালিকদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করা অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার জানান, যদি কোনো অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তবে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলার জেলেদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দূর করে বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে ঈদের আগ মুহূর্তে হাজারো জেলে পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে।