প্রভাত বিনোদন : বলিউডে তারকা মানে শুধু অভিনয় নয়—ব্যবসা, বিনিয়োগ আর দূরদর্শিতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে একেকটি সাম্রাজ্য। সম্প্রতি অভিনেতা-লেখক বিবেক ভাসওয়ানি সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে আনলেন। তাঁর মতে, অনেক অভিনেতাই শুধু অভিনয়ের ওপর নির্ভর না করে ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের সম্পদ বাড়িয়েছেন। এ তালিকার শীর্ষে তিনি রেখেছেন শাহরুখ খানকে, যাঁকে তিনি ‘বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি’ বলে আখ্যা দেন।
ভাসওয়ানির ভাষায়, বুদ্ধিমত্তা, দূরদর্শিতা আর শিক্ষার এক অনন্য মিশেল শাহরুখ খান। তিনি শুধু একজন তারকা নন; বরং সুপরিকল্পিতভাবে নিজের ব্র্যান্ডকে একটি বৃহৎ ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে পরিণত করেছেন। অভিনয়ের বাইরে তাঁর রয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, ভিএফএক্স কোম্পানি, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে এক বিস্তৃত ব্যবসায়িক জগৎ। এই সাম্রাজ্যের অন্যতম স্তম্ভ রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট, যা শুধু চলচ্চিত্র প্রযোজনাই নয়, ভিএফএক্স প্রযুক্তিতেও আন্তর্জাতিক মান তৈরি করেছে। পাশাপাশি তিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের অন্যতম কর্ণধার। এটি অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি। ফলে অভিনয়ের বাইরেও তাঁর আয়ের উৎস বহুমাত্রিক।
২০২৫ সালে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেন শাহরুখ—তিনি প্রথম ভারতীয় অভিনেতা হিসেবে বিলিয়নিয়ার তালিকায় নাম লেখান। তাঁর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। এ অর্জন প্রমাণ করে, কীভাবে একজন অভিনেতা তাঁর পরিচয়কে শিল্পের গণ্ডি পেরিয়ে ব্যবসার জগতে প্রসারিত করতে পারেন।
ভাসওয়ানি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন আরও কয়েকজন অভিনেতার কথা, যাঁরা নিজেদের বুদ্ধিদীপ্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়েছেন। যেমন ড্যানি ডেনজংপা—যিনি একসময় বলিউডের জনপ্রিয় খলনায়ক ছিলেন। কিন্তু অভিনয়ের বাইরেও তিনি সিকিমে গড়ে তুলেছেন একটি সফল ব্রিউয়ারি ব্যবসা, যা তাঁকে বিলিয়নিয়ারের কাতারে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে রাজেন্দ্র কুমার ছিলেন বিনিয়োগে অত্যন্ত বিচক্ষণ। যখন অন্যরা বিলাসিতায় অর্থ ব্যয় করতেন, তখন তিনি শেয়ারবাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে নিজের সম্পদ বাড়িয়েছেন। ফলে চলচ্চিত্রের ওপর নির্ভর না করেও তিনি হয়ে ওঠেন সেই সময়ের একজন ধনী ব্যক্তি।
এ আলোচনায় উঠে আসে আরও কিছু নাম—আমির খান, অনিল কাপুর, বোমান ইরানি, জিতেন্দ্রর কথা, যাঁরা সিনেমা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন। বিশেষ করে আমির খানকে ভাসওয়ানি তুলে ধরেন একজন দূরদর্শী প্রযোজক হিসেবে, যিনি ‘লগান’, ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘সারফারোশ’-এর মতো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এক ভিন্নধর্মী উত্তরাধিকার তৈরি করেছেন।
ভাসওয়ানির পর্যবেক্ষণে, আমির খান ও শাহরুখ খানের পথ আলাদা—আমির বেছে নিয়েছেন চলচ্চিত্রের উত্তরাধিকার গড়া আর শাহরুখ মন দিয়েছেন ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নির্মাণে। তবে দুজনই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সমান সফল।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে