প্রভাত সংবাদদাতা, কলারোয়া: যশোরের বেনাপোলে মিজানুর রহমান (৪২) নামে এক গরু ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২৯ শে আগস্ট) ভোরে বেনাপোল পোর্ট থানার ছোটআঁচড়া গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজান ছোটআঁচড়া গ্রামের মৃত হানিফ সরদারের ছেলে। পেশায় মিজান এক জন গরু ব্যবসায়ী এবং প্রতি শুক্রবারে তিনি কসাই এর কাজ করেন। তবে রাত আড়াই টা থেকে ৪ টার মধ্যে তাকে মারা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার স্ত্রী বলেন, রাত আড়াইটার দিকে গরু জবাই করতে যাবে এজন্য ভ্যান চালক প্যাচিল এর বাইরে থেকে ডাকাডাকি করছে। উঠে বের হয়ে দেখে যে আমার স্বামী উঠানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ইউনুস আলী বলেন, মিজানুর রহমান গরু ব্যবসায়ী । তিনি গরু কেনাবেচা করেন এবং সাপ্তাহিক গরু জবাই এর কাজ করেন। ইউনুস আরো বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় যেহেতু আজ শুক্রবার ওর মহাজন ফোন দেন রাত আনুমানিক দুইটার দিকে, ফোন দেয়ার পর তার সাথে কথা হয়। এরপর থেকে তার সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে ইউনুস জানান। তিনি বলেন, পরে ওর ( মিজানুর রহমান) মহাজন তাকে আনার জন্য একটি ভ্যান পাঠিয়ে ছিলেন । ওই ভ্যান চালক তার গেটে এসে ডাকাডাকি করেন। ডাকাডাকি করার পর যখন না ওঠে তখন ওর বড় ভাই জুলু ডাক শুনে উঠেন। ইউনুস জানান, পরে ভিতর থেকে কান্নার আওয়াজ আসে যে মিজানুর আর নেই, পরে ভ্যান চালক ও তার বড় ভাই সহ বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখে যে মিজানুর গলাকাটা অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে।
এলাকাবাসি জানান, মিজানুরের গ্রামের কারো সাথে কোন ঝামেলা নেই, এখন কিভাবে কি হলো,এটা একটা রহস্যময় হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন তারা। প্রশাসনের কাছে তাদের দাবি, এই হত্যাকান্ডের রহস্য বের করে হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।
বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই রাসেদ বলেন, রাত ৪টার সময় আমি থানা ডিউটি অফিসারের কাছ থেকে জানতে পারি, ছোটআঁচড়ায় একটা লাশ পাওয়া গেছে, পরে ঘটনাস্থলে এসে লাস্ট উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা হত্যা করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনা স্থল থেকে একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।