• রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন
Headline
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কল্যাণ প্যারেড: স্বতন্ত্র পে-স্কেল, ঝুঁকি-ওভারটাইম ভাতা চায় পুলিশ পুলিশের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ মানুষের আনন্দ ও ব্যক্তিগত আয়োজনের প্রতি সম্মান জানিয়ে , দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করলেন তারেক রহমান আরটিভির সম্মাননা পেলেন স্বপ্নজয়ী মায়েরা বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করবেন, এভাবে ভালো সম্পর্ক হবে না : রিজভী ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করবে দক্ষিণ সিটি সাংবাদিককে হয়রানিমূলক গ্রেফতারের প্রতিবাদে মানববন্ধন এআই’র যুগে সন্তানদের নৈতিকভাবে মানুষ করাই বড় চ্যালেঞ্জ : সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন : নজরুল ইসলাম খান ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি-মার্কিন ডিজে সঞ্জয়

Reporter Name / ৫ Time View
Update : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন : মাঠে না থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে থাকছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব। মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি, ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লিসার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী আয়োজনে পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি-মার্কিন ডিজে সঞ্জয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের মঞ্চে ওঠার এ যাত্রাকে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে বলেছেন ‘অবিশ্বাস্য অনুভূতি’।
আগামী ১১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে হবে এ আয়োজন। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের সামনে পারফর্ম করার সুযোগ শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দুই সংস্কৃতির ভেতরে বেড়ে ওঠা অভিবাসী তরুণদের অনুপ্রেরণা মনে করছেন সঞ্জয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দক্ষিণ এশীয় সংগীতশিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব করার এ মুহূর্তকে তিনি সংগীতজীবনের বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
যৌথভাবে এবার ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তিন দেশেই আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। তিন দেশে উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর আগে পারফর্ম করার জন্য বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ফিফা। তালিকায় আছেন বাংলাদেশের তরুণ গায়ক ও ডিজে সঞ্জয়।
গণমাধ্যমকে সঞ্জয় বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে আমার সঙ্গে ফিফা কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করে। এরপর জানতে পেরেছি, বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করছি। আমি অনেক ভাগ্যবান—ফিফা কর্তৃপক্ষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানায়, সেখানে আমিও আছি। পুরো বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও দোয়ার কারণে হয়তো এটা করতে পেরেছি।’ সঞ্জয় জানান, মা–বাবা তখনো জানেন না ছেলের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার খবর। বাসায় পৌঁছে মা-বাবাকে খবরটি দিতে চান।
সিলেটের শ্রীমঙ্গলে জন্ম নেওয়া সঞ্জয় বলেন, ‘এখনো বিস্তারিত কিছুই জানি না। কতটা সময় আমার জন্য বরাদ্দ, তা–ও নিশ্চিত নই। শুধু আমাকে এটা বলা হয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি থাকছি। কী করব এখনো কিছু ভাবিনি। আমার চাওয়া থাকবে, বিশ্বকাপের মঞ্চে আমার দেশের কালচারকে কীভাবে রিপ্রেজেন্ট করা যায়।’
একই মঞ্চে মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি, ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লিসা থাকছেন—এমন খবর সঞ্জয়ের জন্য কতটা আনন্দের এমন প্রশ্নে বলেন, ‘এসব তারকার সঙ্গে পারফর্ম করার খবরটা যখন শুনলাম, তখনই মা–বাবার কথা ভাবছিলাম। কারণ, আমি যখন ১০–১১ বছরের, তখন মা–বাবার সঙ্গে সিলিকন ভ্যালিতে আসি। চারজনের পরিবার আমাদের। আমি জানি, তাঁরা কতটা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাঁরা যখন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, অড জব করতেন। আজ আমি যেখানে, এটা পুরোপুরি আমার মা–বাবার পরিশ্রমের ফল।’
মা–বাবা কি সঞ্জয়কে মিউজিশিয়ান হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন? ‘শুরুতে ভয় ছিল। কারণ, এখানে খুব বেশি টাকাপয়সা নেই। কোনো মাসে অনেক টাকা আয় করলেও পরের মাসে দেখা যায় কাজ নেই। একরকম অনিশ্চিত জীবন। সংগীতাঙ্গনে এটাই বাস্তব। আমি পড়াশোনা শেষ করেছি; কিন্তু বরাবরই গান নিয়ে এগিয়ে যেতে চেয়েছি। সব সময় আমার দেশের সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করতে চেয়েছি। আমার মা গান গাইতেন। মা যখন গাইতেন, তখন আমি তবলা বাজাতাম। মা–ই আমার গানে বেড়ে ওঠার পরিবেশটা তৈরি করে দিয়েছেন। আমার নানিও গাইতেন। তাঁরা দুজনে অনুপ্রেরণা। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মিউজিক সারা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সুন্দর। আমি এটা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। বাংলা গানের সৌন্দর্যকে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করতে চাই,’ বললেন সঞ্জয়।
জন্ম শ্রীমঙ্গলে হলেও সঞ্জয়ের বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের লাভ লেন এলাকায়। তিনি বলেন, ‘তখন আমার মা মিতা দেব রেডিও–টেলিভিশনে গান গাইতেন। পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও গাইতেন। তবে পেশা হিসেবে বেছে নেননি।’
বাংলাদেশের সংগীত নিয়ে সঞ্জয়ের অনেক স্বপ্ন। বাংলাদেশের সিনেমায়ও কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। তিনি বলেন, ‘আমি শাকিব খানকে পছন্দ করি। তাঁর অনেক বড় ভক্ত। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চাই।’
সবশেষে সঞ্জয় বললেন, ‘বাংলাদেশিদের বলতে চাই, এটা মাত্র শুরু। আপনারা শুধু সংগীত ও শিল্পীদের সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়ে যান। আমাদের টাকার দরকার নেই, অন্য কোনো কিছুর দরকার নেই। আমাদের দরকার শুধু দেশের মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা। দেশের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে আমরা বাংলাদেশকে গর্বিত করে—এমন কাজই করে যাব।’
সঞ্জয় ইতিমধ্যে তাঁর কাজ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস তাঁকে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত দক্ষিণ এশীয় ইলেকট্রনিক সংগীতশিল্পীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category