• রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন
Headline
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কল্যাণ প্যারেড: স্বতন্ত্র পে-স্কেল, ঝুঁকি-ওভারটাইম ভাতা চায় পুলিশ পুলিশের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ মানুষের আনন্দ ও ব্যক্তিগত আয়োজনের প্রতি সম্মান জানিয়ে , দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করলেন তারেক রহমান আরটিভির সম্মাননা পেলেন স্বপ্নজয়ী মায়েরা বারবার সীমান্ত রক্তাক্ত করবেন, এভাবে ভালো সম্পর্ক হবে না : রিজভী ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করবে দক্ষিণ সিটি সাংবাদিককে হয়রানিমূলক গ্রেফতারের প্রতিবাদে মানববন্ধন এআই’র যুগে সন্তানদের নৈতিকভাবে মানুষ করাই বড় চ্যালেঞ্জ : সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন : নজরুল ইসলাম খান ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

নেত্রকোনায় শ্রমিক সংকট, কৃষকের ধান কাটলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

Reporter Name / ২ Time View
Update : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, নেত্রকোনা: কৃষকের ঘরে সোনালী ফসল তুলতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নেত্রকোনা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলী হায়দার এবং সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে শনিবার ( ৯ মে) দিনভর শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কৃষকদের ধান কাটায় অংশ নেন।
নেত্রকোনা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলী হায়দার বলেন, জেলা সদরের আমতলা ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক ৩৫ শতক জমির পাকা ধান শ্রমিক সংকটের জন্য কাটতে পারছিলেন না। ওই কৃষকের ছেলে সাহাব উদ্দিন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার মাধ্যমে বিষয়টি আমরা জানতে পেরে আমরা পরামর্শ করে কলেজের দুইজন শিক্ষক ও ৫ জন শিক্ষার্থী মিলে পাকা ধান কেটে দেই। জেলার বিভিন্ন জায়গায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধান তুলিয়ে যাচ্ছিল। তাই একজন কৃষককে সহায়তা করতেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কেটে দেই। আমাদের শিক্ষার্থীও নিজেদের ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত আছে। এজন্য আমরা ৭ জনের একটা দল মিলে এই কাজটা করেছি। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাহাব উদ্দিন বলেন, বাবা ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছিলেন না। পাকা ধান নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে আমি আনমনা হয়ে বসে ছিলাম। পরে স্যার জানতে চাইলেন কী সমস্যা আমার। স্যারকে বিষয়টি বললে তিনি উদ্যোগ নিয়ে আমাদের নিয়ে ধান কেটে দেন। এতে আমাদের খুব উপকার হয়েছে।
উপকারভোগী কৃষক মো. আব্দুল হাই বলেন, আমি জীবনেও ভাবিনি কলেজের স্যাররা এসে আমার জমিতে ধান কাটবেন! আমি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তারা আমার ঘরের খোরাকি তুলে দিয়ে গেলেন। আমার অনেক বড় উপকার করেছেন তারা।
রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হালিম বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ থেকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও কৃষকসহ সাধারণ মানুষের দুর্যোগে পাশে থাকার প্রত্যয় থাকবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আমরা মূলত মানুষের কল্যাণে সব কাজে নিয়োজিত থাকবো।
স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং তরুণদের সামাজিক কাজে আরও উদ্বুদ্ধ করবে। এ ধরনের কাজ সমাজে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় জানায়, জেলায় ১ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর খেতে বোরো আবাদ করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টন। এর মধ্যে হাওরে ৪২ হাজার হেক্টর খেতে বোরো আবাদ হয়। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪৬৬ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এর কয়েক গুণ বেশি। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসেবে, জেলার ৭০ হাজার কৃষকরে প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৩১৩ কোটি টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category