প্রভাত সংবাদদাতা,খুলনা: খুলনার বাজারে মুরগি ও গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধির পর এবার সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় মাছ-মাংসের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়িদের। রবিবার (১০ মে) খুলনার নতুন বাজার, নিউ মার্কেট বাজার ও খালিশপুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন ৫০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা কেজি, লাউ ৪০-৫০ টাকা প্রতি পিস, কুমড়া ৪০ টাকা কেজি, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ -৭০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা কেজি, শসা ৬০ টাকা কেজি, পটল ৮০ টাকা কেজি, কুশি ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে| অন্যদিকে পেঁয়াজ ২৫-৩০ টাকা দরে এবং রসুন ৭০-১০০ টাকা কেজি দরে এবং আলু ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯০-২০০ টাকা কেজি দরে, সোনালি ২০ টাকা বেড়ে ৩২০-৩৩০ টাকা কেজি দরে ও লেয়ার ৩১০-৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে| গরুর মাংস ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৮০০ টাকা আর খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে রুই আকারভেদে ২৫০-২৮০ টাকা, ভেটকি মাছ আকারভেদে ৫০ টাকা বেড়ে ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৫০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে| তেলাপিয়া ১৬০-১৮০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা দরে, পাঙাশ ১৬০-১৮০ টাকা, কাতল ২৪০-২৫০ টাকা কেজি এবং ছোট মাছ ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে|
খালিশপুরের মুরগি ব্যবসায়ী হাফিজ বলেন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মূলত পাইকারি ব্যবসায়ীরা মুরগির দাম বাড়িয়েছে। সব ধরনের মুরগির দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আমরা খুচরা ব্যবসায়ীরা সামান্য লাভে মুরগি বিক্রি করি।
নিউ মার্কেট বাজারের মাছ বিক্রেতা একরাম মিয়া বলেন, মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের অনেক দূর থেকে মাছ আনতে হয়। দাম সমন্বয় না করলে আমাদের লোকসান হবে।
নতুন বাজারে আসা ক্রেতা গাজী রকিবুল বলেন, মাছ-মাংসের দাম ধাপে ধাপে বাড়ছে। এরকম বৃদ্ধি পেলে আমাদের মাছ-মাংস ক্রয় করা কঠিন হয়ে পড়বে। গুরুর মাংস এক লাফে ৫০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। প্রায় মাছের দাম কেজিতে ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
খালিশপুর বাজারে আসা নিলা ইসলাম বলেন, সামুদ্রিক মাছের দাম গত সপ্তাহে দেখেছি ২০-৩০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। এ সপ্তাহে দেখছি ফের দাম বেড়েছে। আর মাংসের দাম তো ঈদের পর থেকেই বৃদ্ধি পেয়েছে। তিন-চার সপ্তাহ ধরে আবার দেখছি গরুর মাংসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার মনিটরিং করে দাম বৃদ্ধির কারণ খোলাসা করার দরকার। না হলে ব্যবসায়ীরা আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করবে।