• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম

ব্রয়লার মুরগির দাম স্বাভাবিক,স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও

প্রভাত রিপোর্ট / ১৬ বার
আপডেট : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম স্বাভাবিক। কিছুটা কমতে শুরু করেছে সোনালি মুরগির দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা ৪৫০ টাকায় উঠেছিল। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে।
স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকায় প্রতি কেজিতে মাছের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বড় তেলাপিয়া ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, ছোট তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০, রুই সাইজ ভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০, পাঙাশ ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য মাছের মধ্যে টেংরা ও শিং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, চিংড়ি আকারভেদে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজির কাছাকাছি ওজনের ইলিশ ৩০০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ-মাংসের দাম যখন বেশি হয় তখন সবজির ওপর নির্ভরতা বাড়ে স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষের। বাজারে আলু, পেঁপে, টমেটো ও গাজর ছাড়া প্রায় সব সবজির কেজি ৮০ টাকার ওপরে। এমনকি গ্রীষ্মের সবজি বেগুন, পটল, ঢেঁড়শের দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাবাজারের ঊর্ধ্বগতিতে ভোগান্তিতে পড়েছে ক্রেতারা। তবে অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া সোনালি জাতের মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
মালিবাগ রেলগেট কাঁচাবাজারে ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর জানান, বছরের এ সময় সবজির দাম এমনিতেই বাড়তি থাকে। এর মধ্যে হঠাৎ সরবরাহ কমে যাচ্ছে। তাই পাইকারিতে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে তাদের। ফলে খুচরাতেও দাম বাড়তি পড়ছে। অনেক সবজি কেনা দামেই বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দামই ১০০ টাকা ছুঁইছুঁই। বাজারে নতুন আসা বেগুন মান ও জাতভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে, যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও ৮০ টাকায় পাওয়া যেত। এছাড়া পটল ও ঢেঁড়শ ৭০ থেকে ৮০ টাকা; বরবটি, ঝিঙা, চিচিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা; শিম, সজনে ১০০ থেকে ১২০ টাকা; কাঁকরোল, করলা ৯০ থেকে ১০০ দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সবজির মধ্যে সালাদ সামগ্রী টমেটো ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। কমের মধ্যে শুধু আলুর দাম, মানভেদে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাজারে চোখ রাঙাচ্ছে পেঁপে, বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে; যা আগের তুলনায় অনেক বেশি।
এছাড়া ছোট সাইজের মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি, বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ ও লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কম রয়েছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। লেবুর হালি পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকায়।
বাজারে সবজি কিনতে আসা আমিনুল ইসলাম জানান, বাজারে এমন একটা সবজি নেই, যেটা অল্প দামে পাওয়া যায়। সব সবজির দাম বেড়ে গেছে। এক পিস কাঁচা পেঁপে কিনতেও ১০০ টাকা লাগছে। তরকারিতেই যদি এত খরচ হয়, তাহলে মাছ, মাংস খাব কীভাবে? দাম বাড়ায় আমাদের মতো যারা কম টাকা বেতন পায়, তাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও