প্রভাত সংবাদদাতা, ফরিদপুর: ফরিদপুরে টানা কয়েকদিনের তীব্র গরম ও দিনরাত ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘরে-বাইরে সবখানে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে বাসিন্দাদের। বিশেষ করে নয়টি উপজেলার মধ্য বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত চলছে লোডশেডিং। দিনরাত মিলে গড়ে ৯-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন গ্রাহকরা। উপজেলা সদর থেকে গ্রামের পরিস্থিতি আরও নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদার তুলনায় ফরিদপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। তবে ১৫ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগ সঠিক নয়।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ১৫ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ থাকছে না। মাত্রাতিরিক্ত গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসা-বাড়িতে দৈনন্দিন কার্য সম্পাদন করতে বেগ পেতে হচ্ছে। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এদিকে জ্বালানি তেলের অভাবে ধান ও পাটের জমিতে সময় মতো সেচ দিতে না পারায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন চাষিরা। ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অধিক দাম দিয়েও ডিজেল মিলছে না বলে চাষিদের অভিযোগ।
বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের শেখর গ্রামে বৃহস্পতিবার প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১০টা ১০ মিনিটে বিদ্যুৎ এসে ১০ টা ২১ মিনিটে চলে যায়, ১১টা ২০ মিনিটে এসে ১১টা ৩০ মিনিটে চলে যায়, ১২টা ১০ মিনিটে এসে ১টা ১৫ মিনিটে চলে যায়। এভাবে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। একবার এসে ১০ মিনিট থাকে।
শেখর গ্রামের বাসিন্দা অনুপ বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুতের অবস্থা খুবই খারাপ। ২৪ ঘণ্টায় হয়ত সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। অধিকাংশ সময় লোডশেডিং চলে। এমন পরিস্থিতিতে জনজীবন একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
বোয়ালমারী সদরের সোতাশী এলাকায় অবস্থিত বিকাশ অ্যাগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিজয় সাহা বলেন, ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ঘনঘন লোডশেডিংয়ে চাল উৎপাদন শতকরা ৩০ ভাগে নেমে এসেছে। শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়ে মজুরি দিতে হচ্ছে। জেনারেটর চালাবো সেই জ্বালানি তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে কী হবে ইশ্বরই জানেন।
ভাটপাড়া এলাকার আল আলী অটো ব্রিকসের পরিচালক মো. সবুজ মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ আর জ্বালানি তেলের সংকটে ইটভাটা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। দিনে ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। আসার পর অল্পসময় থাকে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, তীব্র লোডশেডিং ও জ্বালানি তেল সংকটে আছি। লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। চাহিদামতো জ্বালানি তেল না পাওয়ায় সময়মতো ধান ও পাটের জমিতে সেচ দিতে পারছি না। এ বছর আমি প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। কিন্তু ডিজেলের সংকটে সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারছি না। ফলে মাটি ফেটে যাচ্ছে ও ধান গাছের ডগা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে সেচ দিতে না পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব নয়। তেলের অভাবে এখন চরম দুশ্চিন্তায় আছি।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোয়ালমারী জোনাল অফিসার(এজিএম) দিপু হালদার বলেন, বোয়ালমারীর দুটি উপকেন্দ্র (বোয়ালমারী পুরো উপজেলা ও আলফাডাঙ্গার কিছু অংশ) পিক আওয়ারে চাহিদা ২৪ মেগাওয়াট এবং অফপিক আওয়ারে চাহিদা ১৮-২০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় বর্তমানে ৪০-৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রচণ্ড গরমের কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ হচ্ছে সাপ্লাই কোম্পানি। উৎপাদনের সাথে সম্পর্ক নেই। যা পাওয়া যায় তাই সাপ্লাই করতে হয়।
বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার এস এম নাসির উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলায় পিক আওয়ারে ১০৬ মেগাওয়াট চাহিদা সেখানে পাচ্ছি ৭৫ মেগাওয়াট। অফ পিক আওয়ারে চাহিদা ৭০ মেগাওয়াট সেখানে পাচ্ছি ৪৫ মেগাওয়াট। তবে ১৫ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগ সঠিক নয়। গড়ে ২৪ ঘণ্টায় ১০ ঘণ্টার মতো লোডশেডিং চলছে। দিনদিন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, আমি একটি মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে পরে বক্তব্য জানতে পারবো।