বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
Proval Logo

অনেক সিএনজি স্টেশনে গ্যাস মিলছে না

প্রকাশিত - ১১ জুন, ২০২৪   ০৯:৫৮ পিএম
webnews24

প্রভাত রিপোর্ট : রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন যেতে গতকাল দুপুরে শাহজাদপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন আকতারুজ্জামান খান। কিন্তু কোনো চালকই ওই পথে যেতে রাজি হচ্ছেন না। প্রায় মিনিট ১৫ অপেক্ষার পর একজন চালক অতিরিক্ত ভাড়ায় যেতে রাজি হলেন। যাত্রাপথে কথা প্রসঙ্গে আকতারুজ্জামানকে ওই চালক বলেন, ‘সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম। তাই গাড়িতে গ্যাস ভরতেই অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। অনেক স্টেশনে তো গ্যাসই মিলছে না। তাই স্বল্প দূরত্বে ভাড়া নিলে এখন আর পোষাচ্ছে না। বেশ কয়েকটি সিএনজি স্টেশন ঘুরে ওই চালকের কথার সত্যতা মিলেছে। গ্যাস সংকটের কারণে বেশির ভাগ সিএনজি পাম্পই বন্ধ থাকছে। যেসব পাম্পে পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোয় দীর্ঘ সময় চালকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে চাপ এত কমে গেছে যে ২-৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস মিলছে না। তাই দিনে একাধিকবার গ্যাসের জন্য লাইন দিতে হচ্ছে। 

খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানায় নেমে এসেছে গ্যাসের চাপ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাস মিলছে না আবাসিকেও। গভীর রাত পর্যন্ত সিএনজি স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের দীর্ঘ লাইন। উৎপাদন কমে যাওয়ায় মফস্বলে বিদ্যুৎ সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ। এ পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ চেয়ে এরই মধ্যে পেট্রোবাংলাকে চিঠি দিয়েছেন শিল্প মালিকরা।

পেট্রোবাংলার গ্যাস সরবরাহ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে স্বাভাবিক সময়ে গ্যাস সরবরাহ হয় কম-বেশী ৩ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে স্থানীয় গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে সরবরাহ হয় দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বাকি ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি। বর্তমানে একটি টার্মিনাল ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সংস্কারে থাকায় এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে ৬১২ মিলিয়ন ঘনফুট। বাকি ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে শিল্প, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আবাসিক ও সিএনজিতে।

দেশে প্রতিদিন যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে তার বেশির ভাগ ব্যবহার হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। সেখানেও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি হওয়ায় দেশের মফস্বল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে নিয়োজিত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, বিদ্যুৎ খাতে (গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র) প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ২ হাজার ৩১৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে সরবরাহ হচ্ছে ৯৫০ থেকে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগকে।
প্রভাত/আসো

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন