• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন
Headline
বৃষ্টি, পানি জমা আর এডিসের নতুন আবাস, গ্রামের ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে লালবাগে বন্ধুর বাসার নিচে মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ী মর‌দেহ উদ্ধার ,গ্রেফতার ১ খিলগাঁওয়ের জিরানী খালের পানিতে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত শরিয়াহর দোহাই দিয়ে বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষার আইনের বিরোধিতা কেন, প্রশ্ন চিফ হুইপের হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখনও স্বস্তি ফেরেনি রাজধানীর মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজির বাজারে জুলাই হত্যা মামলায় সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ কিছু বিষয়ের অপপ্রয়োগের শঙ্কা গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্টদের, বিবেচনার আশ্বাস সরকারের হ্যাকিং নিয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করলেন চিফ হুইপ পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষী ভাবেনি আওয়ামী লীগ পালিয়ে বিদায় নেবে: ধর্মমন্ত্রী

এখনও স্বস্তি ফেরেনি রাজধানীর মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজির বাজারে

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ছবি সংগৃহীত

প্রভাত রিপোর্ট : রাজধানীর বাজারে মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজির বাজারে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে। একইসঙ্গে কয়েকটি সবজির দামও বেড়েছে। এর মধ্যে কাঁচা মরিচ ও বরবটির দাম কেজিতে ৪০ টাকা করে বেড়েছে। গোল বেগুনের দাম বেড়েছে ২০ টাকা এবং শসার দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। তবে টমেটো ও পেঁপের দাম কমেছে। মাছ ও মাংসের দামে বড় কোনও পরিবর্তন নেই। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

বাজারে ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ডজনপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ টাকা।

সবজির বাজারেও বেড়েছে কয়েকটি পণ্যের দাম। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৬০ টাকা, অর্থাৎ কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। বরবটির দাম গত সপ্তাহের ৮০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১২০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে।

গোল বেগুন গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৪০ টাকা, অর্থাৎ ২০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে লম্বা বেগুন গত সপ্তাহের ১০০ টাকা কেজি দামেই বর্তমানে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

শসার দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। তবে টমেটোর দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ টাকা, অর্থাৎ কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমেছে।

পেঁপের দামও কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, ঝিঙে ও করলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহে উভয় সবজির দাম ৮০ টাকা কেজি ছিল, বর্তমানে তা ৮০ টাকা কেজিতেই বিক্রি হচ্ছে। পটলের দামও গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহে পটল ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙা, ধুন্দুল ও চিচিঙ্গা গত সপ্তাহের মতে ৮০ টাকা করেই বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাছের বাজারে দামের বড় কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিক্রেতারা বলছেন, একদিন কোনও মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমছে, আবার পরদিনই তা বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০, চাষের কই ৩০০ এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি রুই ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দামের বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ রফিকুল বলেন, ‘মাসিক বাজারের জন্য মাছ কিনেছি। মাছের দাম ২০-৩০ টাকা কেজিতে বেশি মনে হচ্ছে। মাছের বাজার কখনও স্থিতিশীল থাকে না দাম প্রতিদিনই উঠানামা করে।’

মাছের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ। আবুল হোসেন নামে এক দিনমজুর বলেন, ‘আমরা পাঙাশ ও তেলাপিয়া কিনতাম, এখন সেগুলোর দামও বেশি। দিন দিন দাম বাড়ছে, কমার কোনও নামগন্ধ নেই।’

অন্যদিকে, গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, যা আগের সপ্তাহের কাছাকাছি। ব্রয়লার মুরগিও গত সপ্তাহের মতো ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমেছে।

রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা রকি আহমেদ বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে মুরগির দাম কিছুটা কম ছিল। তারপরও ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা বিক্রি করছি।’

ডিম ব্যবসায়ী মাছুম বলেন, ‘ডিমের দাম কমেনি। বরং বেড়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

রায়সাহেব বাজারে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জাহিদুর রহমান বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসে দেখলাম, সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেশ চড়া। গত সপ্তাহে যেসব সবজি কিছুটা কম দামে পাওয়া গেছে, আজ সেগুলোর বেশির ভাগই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই বাজারের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’

নারিন্দা বাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকউল্লাহ খান বলেন, ‘কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ক্ষেত ও বাজার থেকে সবজি আসার পরিমাণ কমেছে। সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। বর্তমানে বেগুন ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আজকের বাজারে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া ভালো হলে সরবরাহ বাড়বে এবং তখন সবজির দামও কমতে পারে।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category