• মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
Headline
বাবা ও স্ত্রীর জানাজায় মোজতবার অনুপস্থিতি নিয়ে আবারও গুঞ্জন, বাড়ছে উদ্বেগ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৩৫, পৌঁছাতে পারে ১০ হাজার থেকে ১ লাখে যুদ্ধবিরতির আট মাস পরও গাজায় পড়ে আছে মরদেহ, শিশুদের কামড়াচ্ছে ইঁদুর লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে কোমে খামেনির জানাজা সম্পন্ন ইন্দোনেশিয়াকে ‘অস্ত্র’, ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে ভারত পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপ: ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানের খুব কাছাকাছি, বললেন ট্রাম্প পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক গোলকধাঁধাঁর মুখোমুখি বাংলাদেশের তদন্তকারীরা সুদ ব্যবধানে ধাক্কা খাবে দেশের এসএমই খাত উন্নত প্রযুক্তি ও মানসম্মত ইস্পাত উৎপাদনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে চীনের পোশাক বাজারের অংশীদারিত্ব দখল করছে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম: র‍্যাপিড

চীনের পোশাক বাজারের অংশীদারিত্ব দখল করছে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম: র‍্যাপিড

Reporter Name / ৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পোশাকবাজারে চীনের অংশীদারিত্ব কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আর নেই। গত চার বছরে কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনাম ক্রয়াদেশ বা অর্ডার আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেছে।
গবেষণায় আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক কোনো বাণিজ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না যায় এবং রপ্তানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ শুল্ক কাঠামোর আওতায় চলে যায়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪৩ শতাংশেরও বেশি কমে যেতে পারে। ৬ জুলাই ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে র‍্যাপিড আয়োজিত এক কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
গবেষণা অনুযায়ী, বৈশ্বিক পোশাকবাজারে চীনের অংশীদারিত্ব ২০২২ সালের ২৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এই পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০২২ সালে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ থাকা বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাজার অংশীদারিত্ব সামান্য কমে প্রায় স্থির অবস্থায় রয়েছে।
একই সময়ে কম্বোডিয়ার বাজার অংশীদারিত্ব ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ভিয়েতনামের অংশীদারিত্ব ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘চীন থেকে সরে আসা রপ্তানি আদেশের স্বয়ংক্রিয় সুবিধাভোগী বাংলাদেশ আর নয়। এটি বৈশ্বিক পোশাকবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে চীনের আধিপত্য কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল বাংলাদেশ। ওই সময়ে বৈশ্বিক পোশাকবাজারে চীনের অংশীদারিত্ব প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট কমে যায়, আর বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট। একই সময়ে ভিয়েতনামের অংশীদারিত্ব বাড়ে ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ পয়েন্ট এবং কম্বোডিয়ার বাড়ে শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ পয়েন্ট। তবে ২০২২ সালের পর এই প্রবণতা বদলে যায়। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের বাজার অংশীদারিত্ব আরও ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ পয়েন্ট কমলেও কম্বোডিয়া অর্জন করে শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ পয়েন্ট এবং ভিয়েতনাম অর্জন করে শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ পয়েন্ট। এদিকে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব প্রায় অপরিবর্তিত থাকে।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, নীতিগত অসামঞ্জস্য, অনুকূল নয় এমন বিনিয়োগ পরিবেশ, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম তন্তু ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের সীমিত সক্ষমতার কারণে এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। শিল্প খাতের নেতারাও আরও কিছু অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।
প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক বলেন, চীনের রপ্তানি কমলেও নতুন ব্যবসা আকর্ষণের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি বাংলাদেশ। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত আড়াই বছর ধরে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও চীন আক্রমণাত্মক বিপণন কৌশল অনুসরণ করেছে, কিন্তু বাংলাদেশ তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’ তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ ব্যয়, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে, ফলে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে উন্নতির কোনো লক্ষণ আমরা দেখছি না।’
গবেষণায় আরও সতর্ক করা হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর যদি বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ শুল্কের আওতায় চলে যায় এবং প্রতিযোগী দেশগুলো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করতে থাকে, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ৩৬ শতাংশের বেশি এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪৩ শতাংশেরও বেশি কমে যেতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের বার্ষিক রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে।
বাংলাদেশ বর্তমানে ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুবিধা ভোগ করছে। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণ এবং নির্ধারিত রূপান্তরকাল শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো বাণিজ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এই অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা আর থাকবে না।
অন্যদিকে ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলো ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ফলে তারা অনেক ধরনের পোশাক শূন্য বা অগ্রাধিকারমূলক শুল্কে রপ্তানি করতে পারছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশও যদি একই ধরনের চুক্তি করতে না পারে, তাহলে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ শুল্ক আরোপ হতে পারে। এতে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের মূল্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন র‍্যাপিড-এর নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ। এছাড়া ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালাও বক্তব্য দেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category