• শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন
Headline
বেহেশতের লোভ দেখিয়ে ভোট নিয়ে বিরোধীদল দায়িত্বহীন আচরণ করছেন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নতুন বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে ভর্তুকি ও সরকারি ব্যয় কমানোর সুপারিশ ড. ইউনূস পেলেন ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বললেন, বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র চলছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে ‘জবিয়ানদের গরুভোজ’ কর্মসূচি থাইল্যান্ডের গায়িকা ও র‍্যাপার লিসার প্রামাণ্যচিত্র ‘অলওয়েজ লালিসা’ আঙ্গুর চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছেন দশমিনার কৃষি উদ্যোক্তা আকরাম দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি: কমিশনার জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস চায়না এক্সিম ব্যাংক প্রেসিডেন্টের

চীন-পাকিস্তানের ভয়ে বঙ্গোপসাগরে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা ভারতের

Reporter Name / ১০৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের আগ্রাসী মনোভাব এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য হুমকির মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক’ নীতির ওপর ভিত্তি করে ভারতের পূর্ব উপকূল এখন দেশটির নিরাপত্তার প্রধান অক্ষে পরিণত হয়েছে। কৌশলগত এই এলাকাটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু হয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা সরাসরি বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক কিছু বার্তায় ভারতের পূর্ব উপকূলে কৌশলগত চাপ তৈরির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তার চেয়েও বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে মায়ানমারের মধ্য দিয়ে চিনের ইউনান প্রদেশকে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। যদিও মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধের কারণে চিনের এই করিডোর নির্মাণের কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেছে, তবে একে ভারতের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে ভারত তার পূর্ব উপকূলের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে।
এই নতুন নিরাপত্তা বলয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে ভারতের একটি ‘অজেয় রণতরী’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ মালাক্কা প্রণালির সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় এই দ্বীপপুঞ্জ ভারতের সামুদ্রিক আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর জ্বালানি নির্ভরতার কারণে ভারতের পশ্চিম দিকে যেমন দুর্বলতা রয়েছে, মালাক্কা প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ভারতের জন্য তেমনই এক কৌশলগত সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
ভারতের এই নতুন কৌশলে কেবল সামরিক দিক নয় বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বন্দর উন্নয়ন ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বারবারই সংযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই পূর্ব উপকূলের বন্দর ও শিল্প করিডোরগুলোকে ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা সামলানোর উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভারত এখন বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলা এবং আন্দামান ও নিকোবরকে প্রধান কৌশলগত লিভারে পরিণত করার দিকে এগোচ্ছে। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মরিশাস এবং সেশেলসের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উপকূলীয় নজরদারি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে ভারত তার ‘সাগর’ ভিশন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

সূত্র: ইউরোএশিয়ান টাইমস


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category