• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
Headline
সমঝোতার ভিত্তিতেই সংবিধান সংস্কার করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের কাজ শুরু: আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ শ্রমিক নিতে চায় সৌদি আরব নিরাপদ-কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে একমত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বেশি গুরুত্ব দেয় সরকারি অফিসে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই- পানিসম্পদ মন্ত্রী গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কম, ছুটি বাড়িয়েছে কিছু কারখানা

ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করছেন

Reporter Name / ৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা প্যাক্সসন গতকাল সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেডারেল অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ার হুমকি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভীষণ বৈরী সময় পার করার পর তিনি এ ঘোষণা দিলেন। রোড আইল্যান্ডের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক খোলাচিঠিতে প্যাক্সসন লিখেছেন, তিনি আসলে এক বছর আগেই পদত্যাগের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও কার্যক্রম হুমকির মুখে ফেলা ফেডারেল অর্থায়ন স্থগিতের সংকট মোকাবিলা করার জন্য তিনি আরও এক বছর দায়িত্বে থাকেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় ছিল তাঁর প্রশাসনের প্রথম দিককার নিশানাগুলোর একটি। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিরোধিতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া ছাত্রবিক্ষোভকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি বৈচিত্র্যনীতি ও আরও বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।
ওই বিক্ষোভে কয়েকটি ইহুদি সংগঠনও শামিল হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের সমালোচনাকে ভুলভাবে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে চিহ্নিত করছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকেও চরমপন্থার সমর্থন হিসেবে উপস্থাপন করছে।
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ৫১ কোটি ডলার ফেডারেল অনুদান আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্যাক্সসন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে সে অর্থায়ন পুনর্বহাল হয়। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়কে ইহুদি শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাসহ পুরো ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়ন করাতে এবং তা উন্নত করার জন্য সুপারিশ উপস্থাপন করতে সম্মত হতে হয়।
তবে একই বছরের অক্টোবরে প্যাক্সসন ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। প্রস্তাবটি ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৯টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা, শুধু জন্মগত জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে লৈঙ্গিক পরিচয়কে সংজ্ঞায়িত করা এবং শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়ায় জাতি বা লিঙ্গকে বিবেচনার বাইরে রাখা হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ফেডারেল অর্থায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্যাক্সসন সে সময় বলেছিলেন, ওই প্রস্তাব মেনে নিলে শিক্ষার স্বাধীনতা সীমিত হবে এবং ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন হবে।
প্রকাশিত বিদায়ী চিঠিতে প্যাক্সসন লিখেছেন, ‘যদিও ফেডারেল নীতিগুলো এখনো দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে, তবু ব্রাউন অগ্রণী গবেষণার জন্য যে বড় অঙ্কের অনুদান পাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের পথ তৈরি করবে।’দায়িত্ব পালনকালে প্যাক্সসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কঠিন ও মর্মান্তিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে।
গত ডিসেম্বরে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এতে দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং ৯ জন আহত হন। পরে হামলাকারী ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একজন অধ্যাপককে হত্যা করেন। ওই হামলাকারী নিজেও নিজেকে গুলি করেন এবং মারা যান।
এরপর ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সতর্কতা এবং ক্যাম্পাসের নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে তদন্ত ও পর্যালোচনা শুরু করে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category