• শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
Headline
জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস চায়না এক্সিম ব্যাংক প্রেসিডেন্টের নতুন আইফোন কেনার সময় আসল-নকল চেনার মূল উপায় কোন পদ্ধতিতে ডিম খাওয়া ভালো? বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা: ভারতের ছত্তীসগঢ়ের মৈনপাট হতে পারে দারুণ পছন্দ পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন পরিকল্পনা সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও তার পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী সব ধরনের দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ স্থানীয় সরকার বিভাগের বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

ট্রাম্প-সি বৈঠক: ইরান-তাইওয়ান নিয়ে কোনো স্পষ্ট বার্তা নেই

Reporter Name / ৮৫ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: দুই দিনের ঐতিহাসিক সফর শেষে চীন ছেড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরে তিনি কয়েকটি বিস্তৃত বাণিজ্যচুক্তির কথা উল্লেখ করলেও তাইওয়ান বা ইরান যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত দেননি।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটা ছিল ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর। সফরজুড়ে ছিল জাঁকজমকপূর্ণ নানা আয়োজন। সফর শেষে উভয় পক্ষই এটিকে সফল বলে বর্ণনা করেছে, যদিও কী কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সে ব্যাপারে তাদের বক্তব্যে পার্থক্য ছিল।
চীন ছাড়ার সময় এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাইওয়ান নিয়ে তিনি ও সি আলোচনা করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট তাঁকে বলেছেন, তিনি স্বশাসিত দ্বীপটির স্বাধীনতার বিরোধিতা করেন এবং বেইজিং দ্বীপটিকে নিজের অংশ বলে দাবি করে।
ট্রাম্পের সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—উভয় পক্ষই এটিকে সফল বলে বর্ণনা করেছে, যদিও কী কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সে ব্যাপারে তাদের বক্তব্যে পার্থক্য ছিল। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁর কথা শুনেছি। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করিনি। আমি কোনো পক্ষ নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি।’
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর কিছুক্ষণ পরই সি বলেছিলেন, তাইওয়ান হলো ‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু’।
সি আরও বলেন, ‘এটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা না হলে দুই দেশ মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি সরাসরি সংঘর্ষেও যেতে পারে; যা পুরো চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।’
শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তিনি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। এ ইস্যু মার্কিন কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন পেলেও বেইজিং এর তীব্র বিরোধিতা করে।
তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবে বহু বছর ধরে দেশটি তাইওয়ানকে শত শত কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির ওপর বেইজিংয়ের আঞ্চলিক দাবিকে স্বীকার করলেও তা সমর্থন করে না।
মার্কিন আইনপ্রণেতারা তাইপের কাছে বিপুল পরিমাণ নতুন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন, তবে এটি কার্যকর হতে এখনো ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। কিন্তু আমার মনে হয়, এ মুহূর্তে আমাদের যা দরকার, তার মধ্যে সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ হলো ৯ হাজার ৫০০ মাইল (১৫ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার) দূরের আরেকটি যুদ্ধ (তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধ)।’
এদিকে শুক্রবার তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ঝুঁকি বাড়ছে উল্লেখ করে বলেন, তাইপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করবে।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি ও সি দীর্ঘ সময় ধরে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি আবার সচল করার প্রতি তাঁদের উভয়েরই অভিন্ন আগ্রহ রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা বেইজিংকে তেহরানের ওপর নিজেদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার অচলাবস্থা কাটাতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে চীন সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। ট্রাম্প চীন ছাড়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে খুব সামান্য তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ইরান বিষয়ে তিনি কোনো ধরনের ‘অনুগ্রহ’ চাইছেন না।
ট্রাম্প চীনে অবস্থান করার সময় গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-ও ইরান যুদ্ধ বিষয়ে চীনের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেননি।
ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা বেইজিংকে তেহরানের ওপর নিজেদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার অচলাবস্থা কাটাতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে চীন সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি।
ওয়াং ই বলেন, ‘চীন পারমাণবিক ইস্যুসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে তাদের মতপার্থক্য ও বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করে এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ভিত্তিতে দ্রুত হরমুজ প্রণালি আবার চালু করার পক্ষে সমর্থন জানায়।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category