• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
Headline
বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দুবাইয়ে বেনজীরের মুক্তির খবর, সম্ভাবনাটি উড়িয়ে দিচ্ছে না ঢাকার পুলিশ পুলিশের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবে আমরা সবসময় সতর্ক: ডিবি ছবি তোলা ও প্রকাশের জন্য ফটোসাংবাদিকদের চাকরিও হারাতে হয়েছে : শামসুজ্জামান দুদু চেক ডিজঅনার মামলায় সাহেদের ১ বছরের কারাদণ্ড টেরোরিস্ট নিয়ে এখন কেউ কথা বলে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশ্বাস করা আমাদের ভুল ছিল: আসিফ মাহমুদ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে কাঁচামরিচ আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে কাল : কৃষিমন্ত্রী

পাথরঘাটায় প্রবাসী ১০ লক্ষাধিক টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাত, জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে অন্যত্র বিয়ে!

Reporter Name / ১০৫ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

মো. জাফর ইকবাল,বিশেষ প্রতিনিধি : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় এক প্রবাসী স্বামীর কষ্টার্জিত প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা ও ১১ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের পর জীবিত স্বামীকে মৃত দাবি করে অন্য এক প্রবাসীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক সন্তানের জননী সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার ৭নং কাঠালতলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাকির খানের ছেলে মো. নাঈমের সঙ্গে ২০১৯ সালে পাথরঘাটা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের অপধা দীঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদুলের মেয়ে মোসা. সাদিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। ২০২৩ সালে তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের আশায় সন্তানের বয়স মাত্র দুই মাস হওয়ার পর নাঈম কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কোয়েতে পাড়ি জমান। অভিযোগ রয়েছে, স্বামী বিদেশ যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সাদিয়া অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বৈতাম বাপ্তা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. হাসানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়া আক্তার তার প্রথম স্বামী নাঈমকে মৃত বলে পরিচয় দিয়ে নিজেকে বিধবা দাবি করেন এবং ২০২৫ সালের ১৫ জুন কাজী অফিসের মাধ্যমে মো. হাসানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, অভিযোগ অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের কাছেই ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে যোগাযোগ বজায় রাখেন, ফলে প্রথম স্বামী নাঈম বিষয়টি টের পাননি।
নাঈমের পরিবারের দাবি, কোয়েতে অবস্থানকালে তিনি সরল বিশ্বাসে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা পাঠান এবং ১১ ভরি স্বর্ণালংকারও প্রদান করেন। একই সময়ে দ্বিতীয় স্বামী হাসানের কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পরে হাসান কোয়েত গেলে সাদিয়া আবারও অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাঈমের বাবা মো. জাকির খান বলেন, “ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। সে তার উপার্জনের প্রায় সব টাকা স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছে। আজ সেই টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে সে অন্যত্র চলে গেছে। আমরা এই প্রতারণার বিচার চাই।”
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা শুরু থেকেই সাদিয়ার আচরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নাঈম স্ত্রীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে পরিবারের কথা গুরুত্ব দেননি। এমনকি স্ত্রীর অনুরোধে তাকে গ্রামের বাড়ি থেকে পাথরঘাটা শহরে আলাদা বাসা ভাড়া করে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে অভিযোগ অনুযায়ী তার অবৈধ সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক হয়।
এ বিষয়ে কাঠালতলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ-মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া হলেও অভিযুক্ত পক্ষ নানা টালবাহানা করছে।
তিনি আরও বলেন, “যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি পরিবারের সঙ্গে নয়, একজন প্রবাসীর জীবন-সংগ্রাম ও বিশ্বাসের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা। এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রবাসী পরিবার এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হয়।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সাদিয়ার মায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন যারা আপনার কাছে অভিযোগ দিয়েছে এব্যাপারে তাদের সাথে কথা বলেন আমি আপনার সাথে কোন কথা বলতে রাজি না। অভিযুক্ত সাদিয়ার সাথে কথা বলতে চাইলে সাদিয়ার মা সাদিয়াকে কথা বলতে নিষেধ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category