• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
Headline
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন বড় মূলধনের কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাধ্যতামূলক করা হবে : অর্থমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রামিসা হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দ্রুত দেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের প্রয়োজনে মাঠে ছিল, এখন ব্যারাকে ফিরছেন সেনাসদস্যরা: সেনাপ্রধান রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে পল্লবী থানায় ঢুকে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ হাম ও উপসর্গে সাত জনের মৃত্যু, একদিনে সর্বোচ্চ রোগী অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করতে চাই না: ভূমি প্রতিমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ

বগুড়ার মহাস্থানগড় হাটে হাজার হাজার গবাদিপশু , নেই ক্রেতা

Reporter Name / ৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, বগুড়া: বগুড়া জেলার অন্যতম বৃহৎ কোরবানির পশুর হাট মহাস্থানগড় এখন হাজার হাজার গবাদিপশুতে ঠাসা। প্রতি বছরের মতো এবারও বগুড়ার খামারিরা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পরম যত্নে লালন-পালন করেছেন লাখ লাখ গরু-ছাগল। তবে হাটের মাঠভরা গরু থাকলেও ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য সাড়া নেই, বেচাকেনায় মন্থর গতি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) হাটে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের কেউ কেউ গরু দেখছেন, কেউবা ব্যস্ত দরদামে। তবে অধিকাংশেরই উদ্দেশ্য বাজার যাচাই করা, এখনই কিনতে নারাজ তারা। অন্যদিকে বিক্রেতার চোখে কেবলই ভালো দামের আশা ও ক্রেতা সংকটের দুশ্চিন্তা। দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ বলছেন দাম চড়া, আবার কারো মতে কিছুটা সহনীয়।
হাটে আসা সাজ্জাদুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, মোটামুটি সব গরুই ভালো লাগছে। তবে দামদর মিলছে না। গরুর দাম বেশি চাচ্ছে।
আইনুল নামের আরেক ক্রেতা ৫৩ হাজার টাকায় একটি গরু কিনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এইডা আমি ৫৩ হাজারে কিনলাম। আবার হাসিল দিলাম ১২০০ টাকা।’
শিপন মন্ডল নামে অন্য এক ক্রেতা বলেন, ‘দাম ভালোই আছে। বোঝা যাচ্ছে এবার কমই থাকবে। কিনতে আসছি কথাবার্তা হচ্ছে। অল্প কিছু টাকার জন্য আটকে আছে। আর হাজার ৩ হলে হয়তো দেবে।’
এদিকে বিক্রেতাদের কেউ কেউ ক্রেতা সংকটের কথা জানাচ্ছেন। নয়ন মন্ডল নামের এক বিক্রেতা শাহিওয়াল জাতের দুটি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘গরুর দাম ক্রেতারা ৭ লাখ থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বলতেছে। আমাদের চাওয়া সাড়ে ৯ থেকে ১০ লাখের মধ্যে। ক্রেতাদের আগমন ভালোই আছে। আমাদের বিক্রি করার আইডিয়া আছে ৮ লাখের ওপরে।’
তবে ১০টি গরু নিয়ে এসে মাত্র ১টি বিক্রি করতে পারা চঞ্চল শাহা আক্ষেপ করে বলেন, ‘দাম কম। ক্রেতা তো নাই, ওই দুই-চারজন যারা আছে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে খালি। গরুর দাম কম দেখে চিন্তাভাবনা করতেছি, কী যে হয়।’
আরেক বিক্রেতা ধান কাটার মৌসুম ও মানুষের হাতে টাকা না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘হাট এখনো জমে ওঠেনি। যদি গ্রাহক আসে ২০০০, গরু কিনবে বড়জোর ২০০ লোক। মনে হচ্ছে লোকজন শুক্রবার থেকে গরু কিনবে। শুক্রবার থেকে বাজার কী হবে সেটা আর কওয়া যাচ্ছে না।’
খাবারের চড়া দামের কারণে গরু লালন-পালন করে বিপাকে পড়েছেন অনেক প্রান্তিক খামারি। বাজারে গরুর ন্যায্যদাম না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন খামারি মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর ধরে গরু পালিচ্ছি। খাদ্যের দাম বেশি, সব দাম বেশি। অথচ বাজারে এনে দাম কয় ২ লাখ ৩০ হাজার, ৭০ হাজার। ৪ লাখ টাকা পড়ে গেছে গরুর খাদ্য খাওয়ায়ে। বুক ফাটতিছে, মরে যাওয়ার লাক লাগিছে বাবা।’ তবে বড় খামারিরা এখনো আশাবাদী। আরকে এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী রাহাত খান বলেন, ‘আজকের হাটে শাহিওয়াল, অনগোলসহ বিভিন্ন জাতের ১৭টি গরু এনেছি। ৩ লাখ থেকে শুরু করে ১০-১১ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম চাচ্ছি। ১৭টার মধ্যে ৩টা বিক্রি হয়েছে। আশা করছি শেষ মুহূর্তে বাজার ভালো যাবে।’
মহাস্থানগড় হাট ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে অতিরিক্ত হাসিল বা সাফ আদায় নিয়ে। নিয়মবহির্ভূতভাবে এই হাটে গরুর সাফ হিসেবে ক্রেতার কাছ থেকে ১২০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ছাগলের ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে ৫০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে এভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় সাধারণ ক্রেতা ও খামারিদের মধ্যে চরম মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে। পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন। এছাড়া জালনোট বা নকল টাকা শনাক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুধু মহাস্থানগড় নয়, বগুড়ার ছোট-বড় সব হাটই এখন গবাদিপশুতে পূর্ণ। পুরো জেলাজুড়ে চলছে কোরবানির এক বিশাল প্রস্তুতি। ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দামে পশু উঠেছে হাটগুলোতে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল, নেপালের গীর, ভুট্টি ও সিন্ধিসহ দেশীয় জাতের গরু-ছাগল পালন করে ভালো দামের প্রত্যাশা করছেন খামারিরা।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মতে, দেশের বাইরে থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ থাকায় এবার জেলায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার পশু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় খামারিদের লাভবান করবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলামের জানান, জেলায় এবার সাড়ে ৭ লাখের বেশি গরু প্রস্তুত থাকলেও স্থানীয় চাহিদা প্রায় সাড়ে ৪ লাখের মতো। ফলে ২ লাখের বেশি গরু উদ্বৃত্ত থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোনো চোরাই পথে যেন সীমান্ত পেরিয়ে গরু আসতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category