• মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন
Headline
শাহজালালে দুর্ঘটনায় বিমান বাহিনীর ৩ সদস্যের মৃত্যু, কারণ খতিয়ে দেখার কথা জানালেন মন্ত্রী এক্স-রে করতেই পেটের ভিতরে দেখা গেলো সোনার চেইন জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপি নেতা, সাবেক বিচারপতি, সেনা কর্মকর্তাসহ ৬০৫ জন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, সাধারণ মানুষের কী হবে? দিনে গরম, রাতেও ঘুম নেই ভোগান্তির সঙ্গে বাড়ছে ব্যয় নতুন পে স্কেলে মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে: ডা. জাহেদ উর রহমান ঢাকার রাস্তায় লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি চলতে দেয়া হবে না: ট্রাফিক প্রধান যেকোনও জোটে অংশগ্রহণে দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত: শামা ওবায়েদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের ৯ দাবি ও পরামর্শ ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ নয়, আসছে লাইসেন্স-রেজিস্ট্রেশনের নীতিমালা

মবের অপসংস্কৃতি শক্তভাবে মোকাবিলা করব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Reporter Name / ৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, সিলেট: বাংলাদেশের মবের অপসংস্কৃতিকে শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব সজাগ আছি, সচেতন আছি। বাংলাদেশে মবের যে অপসংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছিল, এটাকে আমরা শক্তভাবে মোকাবিলা করব, ইনশা আল্লাহ।’ এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মব বা সংঘবদ্ধ জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার ঘটনা মোকাবিলায় আলাদা কোনো আইনের প্রয়োজন নেই। বিদ্যমান সাধারণ আইনেই এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটে বিজিবি আয়োজিত সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (এসএসএসডিডব্লিউ) উদ্বোধন ও ড্রোন প্রযুক্তির প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সিলেটে বিজিবির নতুন সীমান্ত স্কুল উদ্বোধন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের দুর্গম এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হবে। যেসব এলাকায় জনবল দিয়ে ম্যানুয়ালি নজরদারি করা সম্ভব নয়, সেখানে ডিজিটাল সার্ভেইলেন্স, নাইট ভিশন ও থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাহিনীর সদস্যদের ড্রোন পরিচালনা ও নজরদারি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মাদক ও মানব পাচারসহ সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে।
দেশে ড্রোন সংযোজন ও তৈরির কাজও চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরাও এখানে ড্রোন অ্যাসেম্বল করছি, বানাচ্ছি। ভবিষ্যতে এটাকে আমাদের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।’ বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আরও উন্নত সক্ষমতার ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। সীমান্তের আউটপোস্ট, বিজিবি সদর দপ্তর ও আঞ্চলিক কমান্ডারদের কার্যালয় থেকে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। দুর্যোগের সময়ও এসব ড্রোন কাজে লাগানো যাবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাদক মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদক মামলার সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিচার ও তদন্তপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। ঢাকায় প্রায় ৮০ হাজার, কক্সবাজারে ২০ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩০ হাজার মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলা তদন্ত ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই।
নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকসংক্রান্ত মামলার তদন্তে জনবল ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রত্যেক জেলায় মালখানা ও হাজতখানার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ডগ স্কোয়াড গঠনের বিষয়টিও আইনে রাখা হয়েছে।
সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচাসহ বিভিন্ন অপরাধও নতুন আইনের আওতায় মোকাবিলা করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান বন্ধে বিজিবি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে সহযোগিতা করবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (এসএসএসডিডাব্লিউ) উদ্বোধন করেন। পরে সীমান্ত নজরদারি ও নিরাপত্তায় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিজিবি সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category