• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন
Headline
আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি : মাহদী আমিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্ল্যান্ট বসানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করবে ডিএসসিসি আদালতে আসতে আপত্তি নেই, অভ্যাস হয়ে গেছে: লতিফ সিদ্দিকী চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে ৩০ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার দাম বাড়লো কোরবানির পশুর চামড়ার এসএসসি-এইচএসসি ডিসেম্বরে নয়, জানুয়ারি-এপ্রিলেই চান অংশীজনরা ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বহন করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী টিকাদানে হামের সংক্রমণ কমেছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

মালয়েশিয়ায় হত্যার শিকার প্রবাসী রবিনের মরদেহ ফিরলো দেশে

Reporter Name / ৪২ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

মো.বিল্লাল মোল্লা, কুমিল্লা উত্তর : মালয়েশিয়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার কুমিল্লার তিতাস উপজেলার প্রবাসী যুবক রবিউল হাসান রবিনের (৩৮) মরদেহ ৮ দিন পর নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরেছে। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে তিতাস উপজেলার কালাইগোবিন্দপুর গ্রামে লাশ এসে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কান্নার শব্দে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। পরিবারে একমাত্র উপার্জন ক্ষম স্বামীকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম। পরে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে কালাইগোবিন্দপুর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৪ মে) সকালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা কোম্পানীর নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কনস্ট্রাকশন কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো কোনো সমস্যার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ২০২৩ সালে উন্নত জীবনের আশায় পরিবারের সচ্ছলতা আনতে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানো রবিন সেখানে তার দক্ষতা দিয়ে দায়িত্ব পান ২ হাজার শ্রমিকের বেতন হিসাব রাখার। তার এই সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে সাথে থাকা আরো দুই বাংলাদেশী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
সর্বশেষ বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে রবিনের মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরের দিকে নিহতের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
রবিনের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন আমি এখন তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে কিভাবে বাঁচব আমার স্বামী ছাড়া পৃথিবীতে আমার আর কেউ ছিল না, এখন শুধু রইলো আমার আল্লাহ।
নিহতের বড় ভাই খোকন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। সব গুছিয়ে খুব শিগগির দেশে ফেরার কথা ছিল ওর, কিন্তু ফিরল নিথর দেহে। তার নাবালক দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এখন তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাই ভাবছি।”
নিহতের ভাতিজা পাভেল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এবার কাকাকে বিমানবন্দর থেকে ফুল দিয়ে বরণ করে বাড়ি নিয়ে আসার স্বপ্ন ছিল আমাদের। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না। আজ আমরা কাকাকে জীবিত নয়, কফিনবন্দী অবস্থায় বিমানবন্দর থেকে বাড়ি নিয়ে আসছি। কখনো কল্পনাও করিনি এভাবে কাকাকে রিসিভ করতে হবে। আল্লাহ যেন আমার কাকাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।”


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category