• সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রায় ৩৫ বছর পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার হতে যাচ্ছে ভোটের লড়াই সাদপন্থিদের ইজতেমা বন্ধসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ দাবি জানালো হেফাজত মমতার গাড়িবহরে জুতা ও কাদা নিক্ষেপ, ‘ডাকাতের রানি’ স্লোগান বিলাসবহুল গাড়ি ছেড়ে সাধারণ ব্র্যান্ডে ঝুঁকছেন ধনী ক্রেতারা ট্রাম্প ‘বন্ধু’ হলেও নিজের অবস্থান ‘কঠোর’ করতে জানেন নেতানিয়াহু চীন নির্ভরতা কমাতে লবণ দিয়ে ব্যাটারি তৈরির পথে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, বেশি ঝুঁকিতে উপকূলীয় এলাকা: তথ্যমন্ত্রী জেট ফুয়েলের দাম বাড়লো ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা আড়াই মাসে ভোটার বেড়েছে তিন লাখ ৯ হাজার : ইসি সচিব পাকিস্তান-তুরস্ককে কঠিন শিক্ষা দেয়ার হুমকি ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের

শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে নয়, সঠিক ব্যবহার শেখাতে হবে: ববি হাজ্জাজ

Reporter Name / ১৩৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট : ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ভয় নয়, বরং নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থেমে থাকবে না। তাই শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে নয়, বরং এর সঠিক ব্যবহার শেখানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ডিজিটাল জেন্ডার নরমস (ডিজিটাল পরিসরে লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক মানদণ্ড): জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে জনগণের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। বরং সেই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, ডিজিটাল মাধ্যম এখন সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রযুক্তিকে অস্বীকার না করে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার সক্ষমতা গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সমাজের প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের একটি স্পষ্ট অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। এ ব্যবধান দূর করতে শিক্ষা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ, তথ্য যাচাই এবং অনলাইন নৈতিকতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, চরিত্রহনন ও ডিজিটাল হয়রানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নারী, কিশোরী ও নারী রাজনীতিবিদরা এসব হয়রানির সবচেয়ে বড় শিকার। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি শিশু ও নারীর সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও নীতিমালার বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করা নয়; বরং স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় শিশু ও নারীর নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণও প্রয়োজন।
প্রাথমিক শিক্ষায় ভ্যালু-বেইজড এডুকেশন, ডিজিটাল সেফটি, লাইফ স্কিল, জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, ইউনেসকোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। তিনি জানান, নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় ধাপে ধাপে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য ট্যাব এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্যও শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল ডিভাইস প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিশুদের নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করা শুধু অভিভাবকের নয়, পুরো সমাজের দায়িত্ব। এজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। স্কুলের মিড ডে মিল কার্যক্রম তদারকিতে গার্ডিয়ান কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং শিক্ষাব্যবস্থার অন্যান্য ক্ষেত্রেও অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এনজিওগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর যে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ ও বিস্তৃত করতে প্রস্তুত সরকার। মন্ত্রণালয় এখন ওপেন ডোর নীতিতে কাজ করছে। ফলপ্রসূ উদ্যোগ এলে তা মূল্যায়ন করে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় শুধু স্লোগান নয়, শৈশব থেকেই সমান সুযোগ, সমান অধিকার, নিরাপদ পরিবেশ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই এ পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের প্রতিনিধি, খুলনা ও সাভার অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক, ইউএন উইমেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, জাগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category