• সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ন
Headline
পাম্পে কমছে না গাড়ির দীর্ঘ সারি, তীব্র গ্যাস সংকটে বিপাকে চালকেরা বাজারে অস্বস্তি, মূল্যস্ফীতিতে ‘স্বস্তি’ খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনে জড়িতদের ধরলো পুলিশ দেশে আরও ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী যুদ্ধের কারণেই জ্বালানি সংকট, সরকার দায়ী নয়: রিজভী কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, তদন্তে সিটিটিসি সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান নতুন তথ্যমন্ত্রীর সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

শ্রীপুরে ৮৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৬টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক

Reporter Name / ৫২ Time View
Update : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, মাগুরা: একজন প্রধান শিক্ষক শুধু বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান নন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রমেরও অন্যতম নিয়ন্ত্রক। অথচ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৬টিতেই নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। ফলে উপজেলার অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের দিয়ে। এতে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সংকটে একদিকে যেমন বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেও ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিযোগ শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুর উপজেলায় মোট ৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন মাত্র ৩৮টি বিদ্যালয়ে। বাকি ৪৬টি বিদ্যালয়ে নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৭টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং ১৯টিতে চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।
ফলে এসব বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের অনেককেই নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অফিস ব্যবস্থাপনা, সরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি, অনলাইন তথ্য হালনাগাদ, শিক্ষক-কর্মচারীদের ছুটি অনুমোদনসহ নানা প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হচ্ছে তাদের।
উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের কারণে প্রায় প্রতিদিনই উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। এর বাইরে বিভিন্ন সভা, সরকারি কাগজপত্র তৈরি, অনলাইন কার্যক্রম ও নানা দাপ্তরিক কাজ করতে হয়। ফলে একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও শ্রেণিকক্ষের পাঠদান সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, একজন শিক্ষক যখন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার ওপর স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হয়। কোনো কোনো দিন অফিসের কাজের কারণে নির্ধারিত ক্লাস নেওয়াও সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রিপন মোল্যা নামে এক অভিভাবক বলেন, আগে বিদ্যালয়ে কোনো সমস্যা হলে সরাসরি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলা যেত। এখন দায়িত্বে কে আছেন, কখন তাকে পাওয়া যাবে—এসব নিয়ে অনেক সময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকা জরুরি।
শাহানাজ বেগম নামে আরেক অভিভাবক বলেন, শিক্ষকদের যদি অফিসের কাজ বেশি করতে হয়, তাহলে তার প্রভাব শ্রেণিকক্ষে পড়বেই। সন্তানরা যেন পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য দ্রুত বিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায় নির্ধারিত ক্লাস অন্য শিক্ষককে নিতে হয়। আবার কখনো কখনো ক্লাস ফাঁকা থাকার ঘটনাও ঘটে।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ বলেন, বর্তমানে যারা চলতি দায়িত্বে রয়েছেন, তারা মূলত পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। একইভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীরাও পদোন্নতির তালিকায় উঠে আসবেন। সাময়িকভাবে প্রশাসনিক কাজে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও শিক্ষক পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এ সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category