প্রভাত রিপোর্ট: সংকট তৈরির চেষ্টা থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আজকে বুধবার (২২ জুলাই) দুই-একটা মিডিয়ায় কিছু নিউজ হয়েছে আমাদের জ্বালানি তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে। তো আমরা মনে করছি যে আমাদের আসলে প্রকৃত তথ্যটা আপনাদেরকে জানানো দরকার। কারণ, অনেক সময় এই গুজবটা আমাদের জন্য, সবার জন্যই খুবই পীড়াদায়ক হয়। মানুষের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়, সেটা যাতে না হয় আপনাদের মাধ্যমে যাতে সঠিক তথ্যটা জনগণ বুঝতে পারে, জানতে পারে- সে জন্যই আসলে আমাদের এখানে আজ (বুধবার) উপস্থিত হওয়া।
যুগ্ম সচিব বলেন, প্রথমত আমি যদি জ্বালানি তেল নিয়ে বলি, জ্বালানি তেলের কোনো রকম সংকট এই মুহূর্তে নেই। আমাদের আজকের দিনে ডিজেলের মজুত আছে প্রায় ৩১ দিনের। অকটেন আছে ৩৬ দিনের। পেট্রোল আছে ২০ দিনের। ফার্নেস অয়েল আছে ২৫ দিনের এবং জেট ফুয়েল আছে ২০ দিনের। ফলে নরমালি আমাদের যা থাকার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি। আর আমাদের সাপ্লাই চেইনে পর্যাপ্ত সাপ্লাই আছে, যা দিয়ে আগামী জুলাই-আগস্ট মাস পর্যন্ত আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তিনি বলেন, আমরা এটাকে চেষ্টা করছি ধীরে ধীরে দেড় মাস, ৬০ দিন এবং এক পর্যায়ে যাতে এটাকে ৯০ দিনে উন্নীত করা যায়, সেই চেষ্টা আমাদের অব্যাহত আছে।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আরও এক লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আসবে। আগস্টে আমাদের ডিজেল আসবে ২ লাখ ৪০ হাজার টন। ফলে আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে। ইনশাল্লাহ, এই দিক থেকে কোনো অসুবিধা নেই। অন্যান্য জ্বালানি পণ্যেও কোনো সংকট নেই।
তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় যে কোথাও কোনো একটা সংকট তৈরি করার চেষ্টা থেকে এই গুজবটা তৈরি করা হয়েছে। এটা অ্যাবসোলিউটলি আপনাদের মাধ্যমে আমরা চাই যে সঠিক তথ্যটা যেন মানুষ পায়।
এদিকে কয়েকটি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব এখনো টের পাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। যুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছিল অস্বাভাবিক। তবে সামাজিক সুরক্ষায় আমদানি করা জ্বালানির দাম সে অনুযায়ী বাড়ায়নি সরকার। ফলে স্বয়ংক্রিয় প্রাইসিং ফর্মুলা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ থমকে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া দামে তেল কিনে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে বিগত চার মাসে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বিপিসি। রাষ্ট্রীয় তেল বিপণনকারী সংস্থাটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় মাত্র চার মাসেই ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে বিপিসি। বর্তমানে এ লোকসানের পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির তারল্যের মজুত ঠেকেছে তলানিতে। পাশাপাশি এত বড় লোকসান দিতে গিয়ে সরকারের অগ্রাধিকারখাতভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ইআরএল-২সহ প্রকল্পের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল ইতোমধ্যে ভেঙে তারল্য সংকট সামাল দিতে হয়েছে বিপিসিকে।
গণমাধ্যমে দাবি করা হয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় স্বয়ংক্রিয় প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে না পারায় বিপিসিকে লোকসান দিতে হয়েছে। দেড় মাস আগেও লোকসানের ১২ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে পেতে দেওয়া চিঠির বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সাড়া পায়নি বিপিসি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশি দামে কিনে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কম দামে জ্বালানি তেল বিক্রিতে দেওয়া ভর্তুকি পুনর্ভরণ না করা গেলে দেউলিয়া হওয়ার দিকে যাবে বিপিসি।
এ বিষয়ে কথা হলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মানজারে খোরশেদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অত্যধিক বেড়েছে। কিন্তু বেশি দামে কিনে সরকারি সিদ্ধান্তে কম দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে বিপিসি। এজন্য বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানটিকে। গত সাড়ে চার মাসে ২০ হাজার কোটি টাকার মতো লোকসান দিয়েছে বিপিসি। এত বড় লোকসান মোকাবিলায় চরম অর্থ সংকটে পড়েছে তারা, বলেন তিনি। মানজারে খোরশেদ বলেন, ‘সরকার অতীতেও প্রয়োজনীয় মুহূর্তে অর্থ দিয়েছে। এখন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উচিত দ্রুত ভর্তুকির প্রয়োজনীয় ছাড় দেওয়া। যদি তা না হয়, তাহলে সরবরাহ ব্যাঘাত ঘটলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় হুমকি তৈরি করবে।’
এ বিষয়ে বিপিসির পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভীন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিপিসি সরকারি প্রতিষ্ঠান। আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি করি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অত্যধিক বেড়েছে। বিপিসি এখন পর্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ চেইন ও অর্থ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রেখেছে। এখন অর্থের সংকট হলেও প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সরকার উদ্যোগ নেবে।’
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিসির বর্তমান ও সাবেক বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিপিসির বর্তমান তারল্য স্থিতি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, অতীতে কোনো ক্রান্তিকালেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকগুলো এলসি বন্ধ করে দিলে বিপিসি দেউলিয়াত্বের মুখে পড়বে।’ মধ্যপ্রাচ্য সংকট চলমান থাকায় দ্রুত ভর্তুকির অর্থ ছাড় না করলে বিপিসি ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হবে বলে সংশয় প্রকাশ করেন তারা।
বাংলাদেশে ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ডিজেল। গত ১৪ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে লেখা চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় মূল্য ছিল ব্যারেলপ্রতি মাত্র ৮৬ মার্কিন ডলার।
কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে মার্চ মাসের শুরু থেকে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত তীব্রতর হলে বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে জ্বালানি তেলের দাম। বিপিসির হিসাব অনুযায়ী গত মার্চ মাসে ডিজেলের গড় মূল্য ছিল ২৪৫ দশমিক ৫১ মার্কিন ডলার, এপ্রিলে ২৮৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার, মে মাসে ১৬০ দশমিক ৪১ মার্কিন ডলার এবং জুনে ছিল ১৪৮ দশমিক ৮৯ মার্কিন ডলার। ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ ও এপ্রিলে তেলের দাম প্রায় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় বিপিসির আমদানি ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে। জুন মাসের দিকে দাম কিছুটা কমলেও তা ফেব্রুয়ারি মাসের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ছিল।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়ে আসছিল। নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে দেশে জ্বালানি তেলের দাম সুপারিশ করে বিপিসি। প্রতি মাসের শুরুতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর সময় দেশে ডিজেলের লিটারপ্রতি দাম ছিল ১০০ টাকা। তবে ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে লেখা বিপিসির চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী- চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রতি লিটার ডিজেল ১৫৬ টাকা, মে মাসে ২৩৫ টাকা, জুনে ১৭৬ টাকা এবং জুলাইয়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৫৪ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে দরপ্রস্তাব করে বিপিসি। কিন্তু সরকার ভোক্তাপর্যায়ে ডিজেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখে। সর্বাধিক ব্যবহৃত ডিজেলের ক্ষেত্রে লিটারপ্রতি এই বিশাল ঘাটতির কারণে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে চিঠিতে দাবি করে বিপিসি।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত দেওয়া লোকসানের বিপরীতে ১২ হাজার ৭৩৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ভর্তুকির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে গত ৪ জুন চিঠি দেয় বিপিসি। কিন্তু অদ্যাবধি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ভর্তুকি পাওয়া যায়নি বলে ১৪ জুলাইয়ের চিঠিতে উল্লেখ করে বিপিসি।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে ১৪ জুলাই দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মার্চ ২০২৬ থেকে ২৩ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে বিপিসির আমদানি করা জ্বালানি তেলের ৭২টি পার্সেলে প্রায় ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে বিপিসি। বিপিসির গত ৪ জুলাইয়ের ১০৩৩তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চার মাসে লোকসানের ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা ভর্তুকি হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাবনা দিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয় বিপিসি।
বিপিসির ১০৩৩তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়- ‘চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকার স্বয়ংক্রিয় প্রাইসিং ফর্মুলা পদ্ধতিতে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় না করায় বিপিসিকে মার্চ ২০২৬ থেকে ২৩ জুন ২০২৬ পর্যন্ত লোকসানের সমপরিমাণ ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা ভর্তুকি হিসেবে দেওয়ার লক্ষ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়কে পুনরায় অনুরোধ করার বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত দেয়।’
২০২৫-২৬ অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল বিক্রিতে দেওয়া ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা ভর্তুকি সরকার থেকে পেতে গত ১৪ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে বিপিসি।
বিপিসি চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানি অর্থায়নের জন্য দুই মাসের জ্বালানি তেলের মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ প্রায় ১৫-২০ হাজার কোটি টাকা সংস্থান রাখতে হয়। কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিপিসির তারল্য সংকটের কারণে উক্ত অর্থ সংস্থান রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সময়মতো এলসি মূল্য (আমদানি করা জ্বালানির মূল্য) পরিশোধ করতে না পারলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। আবার ফিন্যান্সিয়াল হোল্ড করলে ব্যাংকগুলো এলসি খোলা বন্ধ করে দিতে পারে। একই সঙ্গে বিপিসির তারল্য সংকটের কারণে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বৈদেশিক ঋণদাতা আইটিএফসি-আইডিবি, এলসি খোলার ব্যাংকগুলোসহ বিপিসির সঙ্গে লেনদেন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনাস্থা তৈরি হতে পারে। এতে দেশে-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং চাহিদা অনুযায়ী ভর্তুকি না পেলে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি সচিবকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা তথ্যে জানা যায়, ধারাবাহিক লোকসানের পর ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে বিপিসি লাভের মুখ দেখে। ওই বছর লাভে আসার পর থেকে অর্থাৎ ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত লভ্যাংশ বাবদ ৫ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত তহবিল হিসেবে ১১ হাজার ৫শ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে বিপিসি। পাশাপাশি একই সময়ে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের বিপরীতে ট্যাক্স, ভ্যাট, ডিউটি খাতে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয় বিপিসি। সবমিলিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫শ কোটি টাকা।