• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন

সারাদেশের সড়ক ও মহাসড়কের বাঁকে বাঁকে যেন মৃত্যুফাঁদ

Reporter Name / ৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: সারা দেশের সড়ক ও মহাসড়কের বাঁকে বাঁকে যেন মৃত্যুফাঁদ ওত পেতে রয়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে পড়ছে তাজা প্রাণ। ঘর থেকে বের হয়ে মানুষ গন্তব্যস্থলে না পৌঁছে লাশ হয়ে ঘরে ফিরছে। চালকের অসাবধানতা, অদক্ষতা, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন, গাড়ির উচ্চগতি, ওভারটেকিং, ট্রাফিক আইন অমান্য, রাস্তার দুরবস্থাসহ নানাবিধ কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহতসহ আহত হয়ে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে পঙ্গুত্ববরণ করা অসংখ্য মানুষ। আর প্রিয়জন হারানোর বেদনায় প্রতিনিয়ত ভারী হয়ে উঠছে আশপাশের পরিবেশ।
সোমবার ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কালিহাতীতে রড বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে ফরিদপুরের নগরকান্দায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের সবাই অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ছিলেন। শনিবার দুপুরে যশোর সদর উপজেলার চাউলিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে কাভার্ড ভ্যান, ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নারী, শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে যশোরগামী একটি কাভার্ডভ্যান চাউলিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইক ও একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কাভার্ডভ্যানে পিষ্ট হয়ে ওই চারজনের মৃত্যু হয়। একই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় রানীগঞ্জ বাজারে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী তিন যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, প্রতি বছর বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বিআরটিএর হিসাব মতে, প্রতিবছর দেশে গড়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ মারা যায় ও ১০ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন মাত্রায় আহত এবং পঙ্গুত্ববরণ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশির ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয় গতির কারণে। তাই দেশের সড়ক পরিস্থিতির কথা ভেবে নিরাপদ গতি নির্ধারণ করা উচিত। এ ছাড়া ট্রাফিক আইন না মানার সংস্কৃতি দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। নিম্নক্ষমতা ও স্বল্পগতির যানবাহন একই সড়কে চলাচল করছে। এতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেক বৃদ্ধি পায়। আবার সড়কের পাশে ফুটপাথগুলো অবৈধভাবে দখল করে বাজার বসানো হয়েছে, এতে পথচারীদের চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। ফলে পথচারীদের অনেকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। সড়কের নকশাগত ত্রুটি এবং কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। আমাদের দেশে যেখানে সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেখা যায়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা, দেশের সড়ক-মহাসড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন করা, জেব্রা ক্রসিং অংকন ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা, চালকদের অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা, অনিয়ম-দুর্নীতি ও সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন করা, দেশব্যাপী মানসম্মত নতুন বাস সার্ভিস চালু করে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চেকপোস্ট বসিয়ে স্পিড গান ব্যবহার করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে মামলাও। প্রতিটি হাইওয়ে থানায় কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলছেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ সড়কে তদারকি বৃদ্ধি, অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টো পথে যান চলাচল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও নছিমন-করিমনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল এবং মহাসড়কে পর্যাপ্ত রোড সাইন ও ডিভাইডারের অভাব দায়ী। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ঈদের ছুটিতে সব ধরনের যানবাহন সড়ক-মহাসড়কে উঠে পড়া, যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও ব্যাটারিচালিত রিকশা মহাসড়কে উঠে পড়া দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category