• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
Headline
১০ শিল্পীর ২০০০ ঘণ্টার সাধনায় ইশা আম্বানীর পোশাকে রাধাকৃষ্ণের কাহিনি রূপপুরের আলো: জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্বনির্ভর অর্থনীতির নতুন দিগন্ত বাদাম খাওয়ার পর পানি পান করা কি ক্ষতিকর? নিয়মিত শরীরচর্চা সুস্থ থাকতে সাহায্য করতে পারে লং মার্চের স্মৃতিচারণ: এক বাটি করে মরিচপানি খেয়ে দুর্গম পর্বতে ওঠা শুরু করেন সেনারা ভারত থেকে সড়কপথে লন্ডনে যেতে ১৫ হাজার কিলোমিটারের পথ ৯০ শতাংশ স্কুলের পাশেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান: ইউনিসেফ দুপুরে হাসিনার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকা: চিফ হুইপ রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি : আয়াসসহ দুই আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আদেশ সার সংকটে ১১ দলীয় জোটের এমপিদের হাত থাকতে পারে : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

হঠাৎ গুজরাটি ইলিশ আমদানি কেন বন্ধ করলো বাংলাদেশ?

Reporter Name / ১১০ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

……অনন্ত অরণ্য আলী

দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান ১২ থেকে ১৩ শতাংশ এবং জাতীয় জিডিপিতে এর অংশ প্রায় ১ শতাংশ। শুধু তা-ই নয়, প্রায় ৫ লাখ জেলে সরাসরি ইলিশ আহরণের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং পরিবহন, বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত আছেন আরও ২০-২৫ লাখ মানুষ। সুতরাং ইলিশ দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির এক বড় চালিকা শক্তি।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ইলিশ উৎপাদন কমেছে প্রায় ৬৭ হাজার মেট্রিক টন, যা ১২ শতাংশের মতো। শুধু সার্বিক উৎপাদনই কমেনি, ইলিশের গড় আকার ও ওজন কমে যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের ইলিশের উৎপাদন হ্রাসের পেছনে নদী ও সামুদ্রিক পরিবেশের নানাবিধ সংকটও স্পষ্ট। নদীর মোহনা ও প্রজননক্ষেত্রের আশপাশে পানিদূষণ, অবৈধ ও ক্ষতিকর জালের অবাধ ব্যবহার, নাব্যতাসংকটে ডুবোচর সৃষ্টি, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন এবং উপকূলীয় এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রভাব ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। খাদ্যাভ্যাসের প্রধান উপাদান প্লাঙ্কটনের রূপান্তর এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে প্রজাতিটির প্রাকৃতিক মাইগ্রেশন পথ বদলে যাচ্ছে কি না, তা বৈজ্ঞানিকভাবে উদ্​ঘাটন করা দরকার।
আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো সমুদ্রসীমায় ইলিশের ওপর অতি আহরণের চাপ। সমুদ্র থেকে যদি পরিণত ও ডিমওয়ালা ইলিশ অতিরিক্ত পরিমাণে আহরণ করা হয়, তবে নদীতে ডিম ছাড়ার জন্য পর্যাপ্ত ইলিশ প্রবেশ করতে পারে না। নদীতে জেলেদের কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ার বিষয়টি সমুদ্রের অতিরিক্ত আহরণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ আসে। পদ্মার ইলিশের স্বাদ তাই বাঙালিরা খুব ভালোভাবে চেনে। তবে দীর্ঘ সময় ধরেই দুই দেশের টানাপোড়েনের কারণে সেই ইলিশ পাতে পড়ছিল না। ২০১৮ সালের পর থেকে ফের বাংলাদেশের ইলিশ আসা শুরু হয়েছিল। তবে এই বছর তার ব্যতিক্রম হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ এখনও বাংলাদেশ ভারতে ইলিশ পাঠানো নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্চ্য নেই। উল্টে গুজরাটের ইলিশ আমদানিও বন্ধ করে দেওয়া হল।
হঠাৎ মত বদল বাংলাদেশের। এতদিন ভারত থেকে ইলিশ নেয়ার পর আচমকাই বাংলাদেশ সরকার জানাল, তারা আর ভারত থেকে গুজরাটের ইলিশ নেবে না। কেন এই সিদ্ধান্ত?
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের মৎস্য দফতরের তরফে ইলিশ আমদানিতে ১০৩টি ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এবার ভারত থেকে প্রায় ১,৭৪০ টন ইলিশ নিয়ে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল দিয়ে ৫৪০ টনের কাছাকাছি ইলিশ আমদানি করেছে বাংলাদেশ সরকার। তারপরই হঠাৎ এনওসি বাতিল। যদিও কেন এই সিদ্ধান্ত, তার কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি বাংলাদেশ সরকার।
তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, গুজরাটের ইলিশ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশের বাজারে। বিশেষ করে ডিম ভর্তি ইলিশ পছন্দ করে বাংলাদেশিরা। তাই গুজরাটের ইলিশ দেদার বিক্রি হচ্ছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশের অনেক মৎস্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চড়া দামে ইলিশ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গুজরাটের ইলিশ, যার দাম ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা, তা বাংলাদেশের বাজারে তিন-চার হাজার টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। আরও আশঙ্কা, ভারত থেকে যদি বেশি ইলিশ আসে, তাহলে বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে যাওয়ার আগ্রহ কমে যেতে পারে। সেই কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বের বৃহত্তম ইলিশ উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক দেশ বাংলাদেশ ভারত থেকে গুজরাটি ইলিশের চলমান আমদানি হঠাৎ করেই স্থগিত করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দেওয়া অনাপত্তিপত্র বা এনওসি বাতিল করেছে মৎস্য অধিদফতর। মূলত ভারতীয় আমদানিকৃত ইলিশ যেন স্থানীয় বা পদ্মার ইলিশ নামে বিক্রি হতে না পারে, সেটির জন্যই এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ইলিশ আমদানির মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয় বাংলাদেশ। পিটিআইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, মূলত গুজরাটের সুতি ও সুস্বাদু নয় এমন জাতের এই ইলিশ দেশটির ভাড়ুচ বন্দর হয়ে বাংলাদেশে আসছিল। চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও মৎস্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. খালেদ কনক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অন্তত ১০৩টি এনওসি প্রত্যাহার করা হয়। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গুজরাটের এই ইলিশ আমদানির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দেশীয় আমদানিকারকরা।
আমদানিকারক সৈয়দ মাহিদুল হক রুবাই বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জানান, হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভারতে কেনা ইলিশ এখন কম দামে ফেরত পাঠাতে হবে এবং অতিরিক্ত আমদানি খরচের লোকসানও তাদের বহন করতে হচ্ছে। একইভাবে আরেক আমদানিকারক জিয়াউর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সীমান্তের গুদামে থাকা ইলিশ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় এবং অপ্রত্যাবর্তনীয় ওভারহেড খরচের কারণে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে।
এদিকে মৎস্য অধিদফতর থেকে আমদানির অনুমতি বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বেনাপোল মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শক আসওয়াদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মৎস্য অধিদফতরের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে বেনাপোল বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় ইলিশ দেশীয় পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি রোধ, আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য অর্থ পাচার রোধ এবং অভ্যন্তরীণ ইলিশ উৎপাদনে জোর দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এই ঘাটতি পূরণে গুজরাটের নর্মদা নদীর সস্তা ইলিশ বাজারে ভূমিকা রাখছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ঐতিহ্যগতভাবে পাঠানো পদ্মার ইলিশের রফতানি বা কোনও চালানও এখন পর্যন্ত ঘোষণা করেনি ঢাকা। এর আগে বিগত বছরগুলোতে পূজার সময়ে সীমিত পরিসরে ইলিশ উপহার হিসেবে পাঠানো হলেও বর্তমান সরকারের অধীনে এবার এখনও সেটির কোনও ঘোষণা আসেনি।
১৮ সেপ্টেম্বর মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত থেকে আর কোনো ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ইলিশ আমদানি বন্ধ হলে কি দেশের ইলিশের সংকট মিটবে? প্রশ্নটি আসলে আরও গভীর। এর অন্তরালে যে মৌলিক প্রশ্ন উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে, সেটি হলো বাংলাদেশের নদী ও সমুদ্রে ইলিশের বিচরণ ও প্রাপ্তি কমছে কেন?
এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবিবের দৃষ্টিভঙ্গি এবং মৎস্যবিশেষজ্ঞদের গবেষণালব্ধ মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের নদী ও সমুদ্রে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে হলে কেবল জেলের জালে কী পরিমাণ মাছ উঠছে, তা দেখলে চলবে না। নজর দিতে হবে নদী, মোহনা, প্রজননক্ষেত্র, প্রজাতিটির অভয়াশ্রম এবং সমুদ্র থেকে নদীতে চলাচলের প্রাকৃতিক মাইগ্রেশন পথের ওপর। বর্তমানে দেশের নদী ও সমুদ্রে ইলিশের সার্বিক মজুত বা ‘স্টক অ্যাসেসমেন্ট’ কেমন, কত আকারের মাছ কী পরিমাণে আছে এবং প্রজননক্ষম মাছের ঘনত্ব কেমন—এসব বৈজ্ঞানিক তথ্যের নির্ভরযোগ্য উত্তর ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা অসম্ভব।
বিশেষ করে যেভাবে ইলিশের মোট উৎপাদন ও একক মাছের গড় ওজন আশঙ্কাজনকভাবে কমছে, তা সামগ্রিক মৎস্য খাতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। সম্প্রতি ইলিশ-গবেষক ড. আনিসুর রহমান এ সংকটকে চিহ্নিত করে উল্লেখ করেছেন যে জাটকা বা ছোট ইলিশকে বেড়ে ওঠার পর্যাপ্ত সুযোগ না দিলে বড় মাছ পাওয়া অসম্ভব। পাশাপাশি উজানের নদীগুলোতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহের ঘাটতি এবং উপকূলীয় মিঠাপানির অঞ্চলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ধেয়ে আসার কারণেও প্রজনন ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আরেকটি উদ্বেগজনক ও বৈজ্ঞানিক পরিবর্তন নজরে আসছে। তুলনামূলক ছোট আকারের ইলিশে ডিম বা পরিপক্বতা আসার প্রবণতা। বড় ও পরিণত স্ত্রী মাছগুলো অব্যাহতভাবে আহরিত হতে থাকায় বংশ রক্ষার্থে ইলিশ কি স্বাভাবিকের চেয়ে কম বয়সে পরিপক্ব হয়ে উঠছে?
একটি পূর্ণাঙ্গ পরিণত ইলিশের ডিম বা পোনার টিকে থাকার ক্ষমতা যতটুকু, অপরিপক্ব বা ছোট ইলিশের ডিমের টিকে থাকার হার তার চেয়ে অনেক কম। ফলে এই পরিবর্তন যদি সত্যি ঘটে থাকে, তবে তা ইলিশের সার্বিক প্রজননক্ষমতা ও নতুন প্রজন্মের সংযোজনের ওপর দীর্ঘ মেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ ছাড়া সম্প্রতি ভারতের গুজরাট থেকে আসা ইলিশগুলো তুলনামূলক বড় ও ডিমযুক্ত হওয়ায় দুই দেশের ইলিশের বয়সভিত্তিক বিন্যাস, জেনেটিক বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত অভিযোজন নিয়ে একটি তুলনামূলক গবেষণা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের গবেষকদের হাতে ইলিশের জীবনরহস্য বা ‘জিনোম সিকোয়েন্সিং’ উন্মোচিত হওয়া মাৎস্যবিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী সাফল্য।
আমাদের নদীগুলোতে পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার কারণে ইলিশ বিকল্প প্রজননক্ষেত্র হিসেবে ভারত বা মিয়ানমারের নদ-নদীতে চলে যাচ্ছে কি না, এ সম্ভাবনাকে কেবল অনুমানের ওপর না রেখে আধুনিক গবেষণার আওতায় আনতে হবে।
আশার কথা হলো, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলের ইলিশ নিয়ে একটি সমন্বিত গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করছে। যেহেতু ইলিশ কোনো ভৌগোলিক সীমান্ত মানে না, তাই এ ধরনের ত্রিদেশীয় গবেষণার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে ‘আঞ্চলিক মৎস্য কূটনীতি’ জোরদার করে তথ্য আদান-প্রদান ও টেকসই আহরণনীতি বাস্তবায়ন করা দরকার।
ফলে ইলিশ নিয়ে আলোচনা কেবল ‘আমদানি বন্ধ’ বনাম ‘আমদানি চালু’—এই দ্বিমুখী বিতর্কে আটকে রাখা মোটেও সংগত নয়। নদীর পরিবেশ রক্ষা, কঠোর নজরদারি, জেলেদের সামাজিক সুরক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আঞ্চলিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই জাতীয় সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ইলিশকে রক্ষা করতে হলে শুধু কত টন মাছ ধরা পড়ল, সে হিসাব করলেই হবে না; বুঝতে হবে মাছটির পুরো জীবনচক্র। জেলের অভিজ্ঞতা, ভোক্তার কষ্ট, গবেষকের তথ্য—সবকিছুকে একসুতায় গাঁথতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক

(লেখাটি লেখকের নিজস্ব। সম্পাদক দায়ী নয়।)


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category