• মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক শ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস

Reporter Name / ০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে গত ২৬ মার্চ টেলিভিশনে প্রচারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সামরিক সাফল্য নিয়ে বেশ বড়াই করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে বসে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে কখনো কোনো দেশের সামরিক বাহিনীকে এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি।’এর পরদিন সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন। ধ্বংস হয় ৭০ কোটি ডলার দামের একটি নজরদারি বিমান।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন হামলা ছিল না। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) হিসাব করেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এবং কথিত ভুলবশত নিজেদের ওপর নিজেদের হামলার (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) একটি ঘটনা ২৩০ কোটি থেকে ২৮০ কোটি ডলার দামের মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সিএসআইএস তার একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করেছে। বড় কোনো আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার করা এটিই প্রথম বিস্তারিত তালিকা। আল–জাজিরা প্রথম এ খবর প্রকাশ করেছে।
এ হিসাবের মধ্যে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি কিংবা কোনো বিশেষ সরঞ্জাম বা নৌসম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সিএসআইএসের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক কানসিয়ান এই হিসাব করেছেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র যেসব ঘাঁটি ব্যবহার করে, সেগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও তিনি খতিয়ে দেখেছেন। তবে এ কাজ এখন আরও বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। মহাকাশ থেকে ছবি পাওয়ার বৈশ্বিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেট ল্যাবসের কোনো স্যাটেলাইট ছবিই আর সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত নেই। মার্কিন সরকারের অনুরোধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ইরানের স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিগুলো পাওয়া যাচ্ছে। কানসিয়ান মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা ওপর থেকে তোলা ছবি দেখে বুঝতে পারছি, কোন কোন ভবন আক্রান্ত হয়েছে। তবে ওই ভবনগুলোর ভেতর কী ছিল, তা জানা কঠিন।’
কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কথিত ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারে’ বা নিজেদের হামলায়। মার্চ মাসের শুরুতে কুয়েতে এমন এক ঘটনায় তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়।
যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ বিমান ও রাডার ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। এর মধ্যে বিশেষ করে দুটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। গত ১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র অন্তত একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার হারায়। এটি থাড প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও কিছু অতি দ্রুতগতির বা হাইপারসনিক হুমকি শনাক্ত করত। রাডারটি অন্যান্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু–সম্পর্কিত তথ্যও পাঠাত। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুটি রাডার ধ্বংস হয়েছে। এতে মোট খরচ হয়েছে ৪৮ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৯৭ কোটি ডলার। এগুলোর অবস্থান নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী অবস্থান করছে। ওই সব দেশে থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বসানো হয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category