• শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
Headline
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, দক্ষতা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বারোপ গ্রিসের সাইক্লাডেস দ্বীপপুঞ্জের সিফনোস এখন ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে নতুন আকর্ষণ চলতি অর্থবছরেই সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন, লাগবে ছয় হাজার কোটি টাকা: প্রতিমন্ত্রী শিকলবিহীন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যই শিকল ভেঙেছি: তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে স্বপ্ন পূরণ হলো শিক্ষার্থী অনুশ্রী রায়ের ঢাকায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সময় চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তনু হত্যা মামলায় হাফিজুরের জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণের নির্দেশ তিনদিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানি মন্ত্রী মৃত্যুদণ্ড বাদ না দেওয়ায় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দেয়নি জাতিসংঘ: ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউটর দেশজুড়ে কেনাকাটায় সেরা অফার, ডিসকাউন্ট নিয়ে এলো দারাজ ৮.৮ গ্রেট ৮ সেল

কারাগারে অভিনেতা আলভী, মৃত্যুর আগে বন্ধুদের কী বলেছিলেন স্ত্রী ইকরা

Reporter Name / ৩৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন: অভিনেতা যাহের আলভী এখন কারাগারে। স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় বৃহস্পতিবার আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। এর মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইকরার মৃত্যুর আগে বন্ধুদের সঙ্গে হওয়া কথোপকথন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা তথ্য।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসায় মারা যান ইকরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে। তবে শুরু থেকেই ইকরার পরিবার, বন্ধু ও ঘনিষ্ঠজনেরা দাবি করে আসছেন, ঘটনাটির পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ইকরার দীর্ঘদিনের বন্ধু সামিয়া আলম ও খাদিজা লুপিনের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল ইকরার। তিন বন্ধু মিলে ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত গ্রুপে প্রায় প্রতিদিনই নানা বিষয়ে কথা বলতেন। ঘটনার দিন সকালেও সেখানে সক্রিয় ছিলেন ইকরা।
সামিয়া আলমের দাবি, সেদিন সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে ইকরা গ্রুপে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি নেপালে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। বন্ধুরা তখন বিষয়টিকে সাময়িক রাগ বা অভিমান হিসেবে দেখেছিলেন। কারণ, ওই দিন সন্ধ্যায় ইকরার বাসায় তাঁদের ইফতারের দাওয়াত ছিল। সামিয়া বলেন, ‘আমরা ভাবছিলাম, ওর মন খারাপ। তাই বলছিলাম, আগে ইফতারটা করি, তারপর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে। ওকে শান্ত রাখারই চেষ্টা করছিলাম।’ কিন্তু ওই বার্তার পর আর কোনো উত্তর দেননি ইকরা। দুপুরের দিকে বন্ধুরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি। কিছু সময় পরই আসে মৃত্যুর খবর।
বন্ধুদের দাবি, ইকরা আত্মহত্যার মতো মানুষ ছিলেন না; বরং তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করছিলেন। সামিয়া আলমের ভাষ্য, ইকরা তাঁদের জানিয়েছিলেন যে তিনি স্বামী যাহের আলভীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিতে চান। এমনকি বিচ্ছেদের সম্ভাবনা নিয়েও বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।
সামিয়া বলেন, ‘ইকরা বলেছিল, আলভী দেশে ফেরার পর একটা সিদ্ধান্ত নেবে। সে ডিভোর্স দেওয়ার কথাও বলেছিল। পাশাপাশি নতুন করে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনাও করছিল। রিজিককে নিয়ে ভবিষ্যতে কী করবে, সেটাও ভাবছিল।’
বন্ধুদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইকরার আলোচনার বড় অংশজুড়েই ছিল তাঁর ছেলে রিজিকের ভবিষ্যৎ। সন্তানকে কোথায় রাখা হবে, কীভাবে বড় করা হবে এবং নিজের কর্মজীবন নতুন করে শুরু করার বিষয়েও তিনি কথা বলতেন।
ইকরার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বন্ধুদের দেওয়া বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সামিয়া আলম তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘ওই সময় ফোনে আলভী কী এমন বলেছিল যে ইকরা তা সহ্য করতে পারেনি? আমরা কেউ–ই জানি না। কিন্তু বিষয়টি তদন্ত হওয়া দরকার।’
এদিকে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ, মানসিক নির্যাতন এবং স্বামীর কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ইকরা মানসিক চাপে ছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারার পর তাঁদের দাম্পত্য জীবনে বিরোধ আরও বেড়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইকরার মৃত্যুর পর প্রথমে আবেগঘন পোস্ট ও লাইভে শোক প্রকাশ করলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন বক্তব্য দিতে দেখা গেছে যাহের আলভীকে। তাঁর একাধিক পোস্ট নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তবে মৃত্যুর আগে বন্ধুদের সঙ্গে ইকরার কথোপকথনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে তা হলো—তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছিলেন, নতুন পরিকল্পনা করছিলেন এবং নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছিলেন। সেই কারণেই তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের অনেকের কাছেই মৃত্যুর ঘটনাটি এখনো অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category