• বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন
Headline
তিতাসে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া র‍্যাবের ওপর হামলা, অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক-অস্ত্রসহ আটক ১৩ জিন তাড়ানোর কথা বলে দাখিল পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণ, ‘ভণ্ড কবিরাজ’ গ্রেফতার ১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় আসামি গ্রেফতার হাওরাঞ্চলে স্বস্তির রোদে ধান নিয়ে ব্যস্ত কৃষক কিশোরগঞ্জে হাসপাতালের নাস্তায় পাউরুটির সঙ্গে কাঁচা কলা ফতুল্লায় স্কুলে ক্লাস চলাকালীন খুলে পড়লো সিলিং ফ্যান, আহত ৫ কিশোরগঞ্জের হাওরে ২৫৯ কোটি টাকার ফসলহানি, ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধলাখ কৃষক পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর রাজ্যজুড়ে সহিংসতা, গুলিবিদ্ধ ওসি তৃণমূলের হারের পর নবান্ন থেকে সচিবালয় ফিরছে রাইটার্সে, পরিবর্তন শুরু

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আমানতকারীদের ‘সুইসাইড কর্মসূচি’র হুঁশিয়ারি

Reporter Name / ৩৩ Time View
Update : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে এবং আমানত ফেরতের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে চট্টগ্রামে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা। এ সময় দাবি আদায়ে ‘সুইসাইড কর্মসূচি’র হুঁশিয়ারি দেন তারা। বুধবার (৬ মে) সকাল থেকে নগরের নিউ মার্কেট মোড়ে জড়ো হয়ে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে তারা এক ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
আন্দোলনকারীরা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আমানত ফেরতের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ না দিয়ে উল্টো গ্রাহকদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা আমানতকারীদের মধ্যে আরও ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এর প্রতিবাদেই তারা এই কর্মসূচির ডাক দেন।
সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নিউ মার্কেট মোড়ে দলে দলে জড়ো হতে থাকেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। পরে তারা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনায় নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সামনে অগ্রসর হতে বাধা দেয়।
তবে পরবর্তীতে পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই আন্দোলনকারীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে তারা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে তারা আমানত ফেরতের সময়াবদ্ধ ও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ অবিলম্বে ঘোষণার দাবি জানান। পাশাপাশি মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের বক্তব্য প্রত্যাহার করে আমানতকারীদের কাছে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশেরও দাবি তোলা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়ার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপি দিয়ে এসে প্রতিনিধি মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কষ্টার্জিত টাকায় ব্যাংকের কার্যক্রম চলে, অথচ প্রয়োজনের সময় আমরা নিজেরাই সেই টাকা তুলতে পারছি না। আমরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এখন আমাদের আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘দাবি পূরণ না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। প্রয়োজনে ব্যাংকে গিয়ে সুইসাইড করার মত কর্মসূচি আমরা দেবো। কারণ আমাদের আর কোনো পথ খোলা নেই।’
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সেখানে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে থেকে কয়েকজন প্রতিনিধিকে ভেতরে গিয়ে তাদের দাবি উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’ সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, গত সোমবার (৪ মে) চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কেন্দ্র আগ্রাবাদে ‘হেয়ারকাট’ প্রস্তাব বাতিল ও জমানো অর্থ ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকরা। ওইদিন সকাল থেকে আগ্রাবাদ মোড়ে জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং পর্যায়ক্রমে এক্সিম ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পাঁচটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে জমা রাখা অর্থ তুলতে গিয়ে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রয়োজনের সময় টাকা উত্তোলন করতে না পেরে অনেকেই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকটে পড়েছেন। তাদের দাবি, ‘হেয়ারকাট’ প্রস্তাব বাতিল করে দ্রুত স্বাভাবিক লেনদেন চালু করতে হবে এবং আমানত ফেরতের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে এলেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা ধারাবাহিকভাবে কঠোর কর্মসূচির দিকে ঝুঁকছেন। দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category