প্রভাত স্পোর্টস: শ্রীলঙ্কা যেন হ্যারি ব্রুকের জন্য পয়মন্ত। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার এইটে প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করেছিলেন ইংল্যান্ডের ব্যাটার। মঙ্গলবার রাতে করলেন আরেকটি শতক, এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। মাত্র ৪২ বলে ৮ চার ও ৬ ছয়ে সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়লেন ব্রুক। আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে এক বছরের মধ্যে দুটি সেঞ্চুরির রেকর্ড হলো তার। মঙ্গলবার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে থেমেছেন ব্রুক। ৪৯ বলে করেছেন ১১৪ রান।
পূর্ণ সদস্য দেশের হয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে এক পঞ্জিকাবর্ষে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির অভিজাত তালিকায় শীর্ষে উঠে এলেন ব্রুক। ২০০৬ সালে অধিনায়ক হিসেবে সাতটি সেঞ্চুরিতে টেস্টে রেকর্ড গড়েন রিকি পন্টিং। বিরাট কোহলি ২০১৭ ও ২০১৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে ছয়টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন। ২০২৬ সালে ব্রুক টি-টোয়েন্টিতে সিংহাসন দখল করলেন।
অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরির আরেকটি অনন্য তালিকায় নাম লেখালেন ব্রুক। তার দুটি সেঞ্চুরি এসেছে ২৩ ইনিংসে, যেখানে রোহিত শর্মা ও বাবর আজম যথাক্রমে ৬২ ও ৭৮ ইনিংস খেলে তিনটি করে সেঞ্চুরি করেন।
ব্রুকের অনবদ্য ইনিংসে ৪ উইকেটে ২৫৪ রান করেছিল ইংল্যান্ড। তারপর শ্রীলঙ্কাকে ১৩৫ রানে অলআউট করে ১১৯ রানের বড় জয় পায় স্বাগতিকরা।
দুর্দান্ত এ ইনিংসে ইংলিশ কিংবদন্তি কেভিন পিটারসেনকে বরণ করে নিয়েছেন ব্রুক। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে জমে থাকা মান-অভিমান ভুলে এই সিরিজে ‘স্পেশালিস্ট মেন্টর’ হিসেবে ইংল্যান্ড দলে যোগ দিয়েছেন পিটারসেন।
ব্রুক যে এমন বেধড়ক পিটুনি দিতে পারেন, সেটা পিটারসেন ভালো করেই জানেন। তিনিও আগে ব্রুকের প্রশংসা করেছেন। তবে এবার হয়তো প্রথমবার দেখলেন ড্রেসিংরুম থেকে।
পিটারসেনের সঙ্গে এমনিতেই ব্রুকের নামটা জুড়ে আছে বেশ কিছুদিন। কে বেশি প্রতিভাবান, পিটারসেন নাকি ব্রুক, এই আলোচনাও নতুন নয়। এ প্রশ্নের উত্তর ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস কাল নিজের মতো করে এক্সে দিয়ে দিয়েছেন, ‘আমার তো মনে হয় না, কেভিন পিটারসেনের মতো জিনিয়াসও প্রতিভার দিক থেকে হ্যারি ব্রুকের ধারেকাছে আসতে পারে।’
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩২ সেঞ্চুরি করা পিটারসেনকে ব্রুক ছাড়িয়ে যেতে পারবেন কি না, সে রায় এখনই দেওয়া ঠিক হবে না। সেটা সময়ই বলবে। তবে ব্রুক পথেই আছেন, সেটা বলা যায়। ২৭ বছর বয়সী ব্রুকের সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৫। সংখ্যাটা আরও বেশি থাকত। কিন্তু সেঞ্চুরির পরোয়া করে ব্রুক সাধারণত খেলেন না। সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেই এক ইনিংসে ৯১ রানে আউট হন।
এরপরও চলতি সময়ে ব্রুককে সব সংস্করণ মিলিয়ে দুনিয়ার সেরা ব্যাটসম্যান বিবেচনা করেন অনেকেই। সেটা এমনি এমনি নয়। সামর্থ্যই তার প্রমাণ। যেমন ধরুন, শ্রীলঙ্কার বোলারদের বেধড়ক পিটুনি দেওয়া ব্রুকই আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর ব্যাটসম্যান।
ব্রুকের প্রশংসায় জস বাটলারকেও ভুলে যাওয়া যাবে না। ৪৪ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন। এ মাঠেই সর্বশেষ জুলাইয়ে ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে করেছিলেন ১৩১। মানে শেষ দুই টি-টুয়েন্টিতে বাটলারের ব্যাট থেকে এসেছে মোট ২১১ রান। মজার ব্যাপার, চলতি বছর টি-টুয়েন্টিতে এ দুটি ম্যাচের আগে খেলেছেন ১৪ ম্যাচ, রান মাত্র ২১২। বাটলারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপও কেটেছে জঘন্য। অনেকে তো ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানের শেষটাই দেখেছিলেন। বাটলার আপাতত এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছেন। শুধু তা–ই নয়, রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে মঙ্গলবার রাতে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়েছেন বাটলার। ১৫১ ইনিংসে।