• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন
Headline
১৫০ হাজির লাগেজ কেটে চুরির দাবি সত্য নয়: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হরমুজে ৩ মাস আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’; ক্লান্তি ও উৎকণ্ঠায় নাবিকদের বন্দী জীবন গৌরী স্প্র্যাটকেই বিয়ে করবেন আমির খান রাণীনগরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে দুই ভাইয়ের বসতবাড়ি পুড়ে ছাই মায়ের মৃত্যু: যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার সোনার কলস পেয়ে অপু: অনেক চেষ্টা করে কান্না লুকিয়েছি আদাবরে ঢাবি শিক্ষার্থীকে অপহরণ, চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার ঢাকাসহ ৪৫ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, গরমে কাহিল মানুষ রিট খারিজ, বিসিবি নির্বাচনে বাধা নেই খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন কি না সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ

তিস্তার পানি বাড়তেই নৌকা মেরামতে ব্যস্ত চরবাসী

Reporter Name / ৩২ Time View
Update : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

মো. নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা : টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। নদীর শাখা নদী ও নালাগুলো পানিতে ভরে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে এক চর থেকে অন্য চরে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে নৌকা, বাঁশের সাঁকো ও অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা। এ অবস্থায় মাঝি-মাল্লা ও চরবাসীরা পুরোনো নৌকা মেরামতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, ছন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদী প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে তোলে। নদীতে পানি বাড়ার পাশাপাশি দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙন। এতে রাস্তাঘাট, বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রায় ছয় মাস ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের।
উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ফুল মিয়া বলেন, নদীতে পানি বাড়লেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়। হাট-বাজার, উপজেলা কিংবা জেলা শহরে যাতায়াত খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ছোট ছোট নদী ও নালা পার হতে নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা।
তিনি আরও জানান, অনেকের ব্যক্তিগত নৌকা থাকলেও অনেকে ভাড়ায় নৌকা ব্যবহার করেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে নৌকা মেরামত করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।
বেলকা চরের নৌকার মাঝি সুজা বলেন, বর্ষা এলেই নৌকায় রং, বার্নিশ, টিন ও প্লানসিট পরিবর্তন করতে হয়। চার-পাঁচ মাস নদীতে ভাড়া খাটানো যায়। কিন্তু প্রতিবছর মেরামতে যে খরচ হয়, তাতে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক খেয়াঘাট সরকারি ইজারার আওতায় পরিচালিত হলেও অধিকাংশ চরাঞ্চলে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই নৌকা চলাচল অব্যাহত রয়েছে। বর্ষার সময় এসব নৌকা ছাড়া চলাচলের আর কোনো বিকল্প থাকে না।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,প্রতিবছর স্থানীয় উদ্যোগে ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করতে হয়। পাশাপাশি ভাড়া নৌকার মাধ্যমেই মানুষ পারাপার হয়। বছরের অধিকাংশ সময় নৌকা বালুচরে পড়ে থাকায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তাই নিয়মিত মেরামত প্রয়োজন হয়।
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোজাহারুল ইসলাম বলেন,চরবাসীর চলাচলের প্রধান মাধ্যম নৌকা। নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে -সঙ্গে মাঝি-মাল্লারা নৌকা মেরামত শুরু করেন। এটি তাদের বাপ-দাদার পেশা, যা এখনও অনেকে ধরে রেখেছেন।
এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মশিয়ার রহমান জানান, বর্ষাকালে নদী পারাপারের জন্য বর্তমানে সরকারি কোনো নৌকা বরাদ্দ নেই। তবে অন্যান্য উপজেলার মতো সুন্দরগঞ্জেও সরকারি নৌকা ও স্পিডবোট সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এলাকা বাসির দাবি, বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে নৌকা, স্পিডবোট ও টেকসই সাঁকো নির্মাণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রতিবছরের মতো এবারও চরম দুর্ভোগে পড়তে পারেন তিস্তা পাড়ের এসব চরবাসি মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category