• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
Headline
১৫০ হাজির লাগেজ কেটে চুরির দাবি সত্য নয়: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হরমুজে ৩ মাস আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’; ক্লান্তি ও উৎকণ্ঠায় নাবিকদের বন্দী জীবন গৌরী স্প্র্যাটকেই বিয়ে করবেন আমির খান রাণীনগরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে দুই ভাইয়ের বসতবাড়ি পুড়ে ছাই মায়ের মৃত্যু: যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার সোনার কলস পেয়ে অপু: অনেক চেষ্টা করে কান্না লুকিয়েছি আদাবরে ঢাবি শিক্ষার্থীকে অপহরণ, চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার ঢাকাসহ ৪৫ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, গরমে কাহিল মানুষ রিট খারিজ, বিসিবি নির্বাচনে বাধা নেই খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন কি না সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ

দাম বাড়ল ১৬.৬৮ শতাংশ: নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষকেও গুনতে হবে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল

Reporter Name / ১ Time View
Update : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: তাড়াহুড়া করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। আর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বলা হয়, বিভিন্ন ধাপের (স্লাব) গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে কম ১৫ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে এবার। নতুন এ দাম জুন থেকেই কার্যকর হচ্ছে।
তাড়াহুড়া করে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কোনো চাপ ছিল না। বাজেট মাথায় রেখে দ্রুত করা হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে, তবে অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি। এটা করার সুযোগ আছে।
সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। এরপর তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কমে সরকার নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়, তবে বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা খুচরা দামে ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে কোম্পানি চালায়।
বিইআরসির আদেশ বলছে, পাইকারিতে বর্তমান দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে গড় দাম ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। আর খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। অন্যদিকে সঞ্চালন খরচ (গড়) ইউনিট প্রতি ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। বিদ্যুতের একমাত্র সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি), প্রতি ইউনিটে যথাক্রমে ৩০ ও ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ও ৪৯ পয়সা করার আবেদন করেছিল।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ইউনিট প্রতি ১ দশমিক ২০ টাকা (১৭ শতাংশ) থেকে ১ দশমিক ৫০ টাকা (২১ শতাংশ) দাম বাড়ানোর আবেদন করে। মূল্যবৃদ্ধির আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের সম্ভাব্য উৎপাদন খরচ পড়বে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১২ দশমিক ৯১ টাকার মতো। গত ২০ ও ২১ মে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। সবশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে পাইকারি দর ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়।
বিদ্যুতের নতুন দাম নির্ধারণের ফলে সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরাও বাড়তি বিলের চাপের মুখে পড়েছেন। ‘লাইফ লাইন’ বা প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, ফলে মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী একজন গ্রাহককে প্রায় ৩৭ টাকা বেশি বিল পরিশোধ করতে হবে।
লাইফ লাইন শ্রেণিতে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা অন্তর্ভুক্ত। এরা মূলত নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ— যাদের জন্য সরকার এতদিন ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল। নতুন মূল্যহার অনুযায়ী এই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশে বর্তমানে লাইফ লাইন গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০ জন। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর আওতায় রয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি সংযোগ, যা মোট লাইফ লাইন গ্রাহকের বড় অংশ।
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিল কেবল এনার্জি চার্জের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট ও মিটার ভাড়াও যুক্ত হয়। ফলে নতুন দামে কেবল ইউনিট মূল্য বৃদ্ধি নয়, মোট বিলেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, অধিকাংশ গ্রাহককে আগের তুলনায় প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ বেশি বিল পরিশোধ করতে হতে পারে।
ফলে সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের ওপরও নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরি হলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যেসব পরিবার সীমিত আয়ের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামাল দেয়, তাদের জন্য বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নতুন উদ্বেগ হয়ে দেখা দিলো— যা আবার চলতি জুন থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (৩ জুন) পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ মূল্য বাড়ানো হয়েছে।
লাইফ লাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘‘ভর্তুকির চাপ কমানো এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়েছে। এ কারণে সব শ্রেণির গ্রাহকের মধ্যে লাইফ লাইন গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে কম, প্রায় ১৫ শতাংশ হারে দাম বাড়ানো হয়েছে। নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় নিয়েই এই শ্রেণিতে সীমিত হারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব পেলেও কমিশন সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় কমাতে দক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বেশি বিদ্যুৎ গ্রহণ এবং অদক্ষ কেন্দ্রের ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান চেয়ারম্যান। তার মতে, উৎপাদন ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘‘ক্যাপাসিটি পেমেন্ট কমানোর সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহারে সক্ষমতা, উৎপাদন দক্ষতা ও ক্যাপাসিটি পেমেন্টের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে খরচ কমানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। এতে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণও কমে আসতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category