প্রভাত রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার ( ১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।
নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতবিনিময়ের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে গত বুধবার হঠাৎ উত্তেজনা তৈরি হয়। এই উত্তেজনার পর্ব পেরিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ এখন আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক ইতিবাচক পথে আনতে মনোযোগ দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
গত জুন মাসে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দীনেশ ত্রিবেদী এই প্রথম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে রবিবার বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন দীনেশ ত্রিবেদী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার। শুরুতে দুই পক্ষের কর্মকর্তারা আলোচনায় উপস্থিত থাকলেও পরে আধা ঘণ্টার বেশি সময় তাঁরা একান্তে কথা বলেন। বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল।
গত ২৫ জুন রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে ঢাকায় ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে কাজ শুরু করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর ২৯ জুলাই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রথম দেখা করেন। রবিবার দ্বিতীয়বারের মতো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রবিবার বলেন, বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। সম্পর্ক ইতিবাচক পথে ফেরাতে এটাই পথ। পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা আর স্বার্থ সমুন্নত রেখে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি এক দেশকে অন্য দেশের সংবেদনশীলতার প্রতিও যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল হওয়াটা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে রবিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভেক) শিশুদের জন্য খেলার জায়গা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সবাই অনেক সম্মান করি। আমি অনেকবার তাঁর বক্তৃতা শুনেছি। তিনি একজন জনবান্ধব ব্যক্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জনবান্ধব ব্যক্তি।’
আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, যখন দুই নেতার দেখা হয়, অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। সমস্যার সমাধান হয় যখন আমরা কথা বার্তা বলি। আমার তো পুরো বিশ্বাস যে মানুষ এক আছে। সমাধান (সলিউশন) হবে। এখানটায় কোনো নেতিবাচক বিষয় নেই। সব ইতিবাচক।’