• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
Headline
ঋণের ১২২১ কোটি টাকা লোপাট : সালমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে ৩ মামলা শীতকালীন সবজি বাজারে এলেও দামে প্রভাব পড়েনি ভ্যাট আদায়ে স্থবিরতা, দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠানই দেখিয়েছে শূন্য রিটার্ন আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী ‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি অপশক্তি শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে আন্দোলনে নামিয়েছে’ আশা করি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ মেধানির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগামী জানুয়ারির বেতনের সঙ্গে নতুন মজুরি কার্যকর করার দাবি বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক, সংসদীয় গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় জোর

প্রাথমিকে ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

Reporter Name / ১১৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য থাকা ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) কাছে আজকের (২ জুলাই) মধ্যেই চাহিদা পাঠানো হবে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এর আগে বৃহস্পতিবার অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি ইত্যাদি সংক্রান্ত বিধির অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। এর ফলে সরকার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিকের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও কলেজেও শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ফোনে আদালতের রায় জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। পিএসসি চেয়ারম্যান দ্রুত চাহিদা দিতে বলেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই পিএসসিতে চাহিদা পাঠানো হবে, যাতে পিএসসি বিশেষভাবে এই নিয়োগ দিতে পারে।
উচ্চ আদালতের রায়ের পর শূন্য থাকা ৩৬২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার পর সহকারী শিক্ষকের এই পদগুলোও শূন্য হবে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে ২২০০ এর বেশি। অর্থাৎ প্রধানশিক্ষক পদে পদোন্নতির পর সহকারী শিক্ষকের ৩৮ হাজারের বেশি পদ শূন্য হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দশম গ্রেডের। এ জন্য এ পদে পদোন্নতির ফাইল পিএসসিতে পাঠাতে হয় বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা। বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ হয় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে। আর সরাসরি নিয়োগ হয় ৮০ শতাংশ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী উচ্চ আদালতের রায়ের পর শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার পর সহকারী শিক্ষকের এই পদগুলোও শূন্য হবে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে ২ হাজার ২০০ এর বেশি। অর্থাৎ প্রধানশিক্ষক পদে পদোন্নতির পর সহকারী শিক্ষকের ৩৮ হাজারের বেশি পদ শূন্য হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়োগের পর অবিলম্বে তাঁরা ৩৮ হাজার ৪৩৩টি সহকারী শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া যাবে। এটি একটি সুখবর। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস।
বর্তমানে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজারের বেশি। অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি ইত্যাদি সংক্রান্ত ৯(১) বিধির অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে রিট হয়েছিল। রিটটি করেছিলেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ওই বিধির অংশবিশেষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে, যা ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ।
পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরাও আপিল বিভাগে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আপিল মঞ্জুর করে রায় দেন আপিল বিভাগ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category