• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
Headline
ফানুস ওড়ানোয় বিশেষ নজরদারি, বৌদ্ধদের দুই উৎসবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে খুলনায় এবার ৮১৮টি মন্দিরে পূজা-অর্চনার আয়োজন ব্যালন ডি’অরে নতুন ভোটে মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো! ইমরান-পুত্রদের সাক্ষাৎকারের জের, ধারাভাষ্য থেকে বাদ ইংল্যান্ডের দুই কিংবদন্তি! এমিলিয়ানো মার্টিনেজের শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবরে স্বস্তি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পূজার উপহার দিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী- ডিএসসিসি প্রশাসক আবারও গ্রেপ্তার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা সরকারি চাকরিজীবীরা এ মাসেই বাড়তি বেতন পাবেন, আগের হারে ভাতা দেয়া হবে চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা কঠিন : ইসি মাছউদ বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: দীনেশ ত্রিবেদী

‎ফরিদপুরে পদ্মায় বিলীন ৮ কোটি টাকার সেতু

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা,ফরিদপুর: ফরিদপুরে পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ছয় বছর আগে নির্মিত ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় আট কোটি টাকা।ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে অবস্থিত সেতুটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,‎ ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে সাত কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য ছিল ৪০ মিটার এবং প্রস্থ ১২ ফুট। সেতুটি সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরপুর এলাকায় অবস্থিত। সেতু দিয়ে ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের আজমত আলী মণ্ডলের ডাঙ্গী, মোনতাজ মাদবরের ডাঙ্গী ও আদর্শ গ্রামের পাশাপাশি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, জয়পুর, নতুন হাট, গঙ্গাবর্দী, হরিহরদিয়া, পাটগ্রাম ও নটাখোলা গ্রামের অন্তত দুই হাজার মানুষ যাতায়াত করতেন।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটির পূর্ব পাড়ে মানিকগঞ্জ অংশে পদ্মা নদীর মূল ধারা প্রবাহিত হচ্ছে। পশ্চিম দিকে নদীর আরেকটি শাখা ফরিদপুর অংশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পদ্মা নদীর এ দুটি ধারার মাঝখানের চর এলাকায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
‎‎নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তফা হোসেন জানান, ওই এলাকায় দুই মাস আগে থেকে পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ১৫ দিনে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। গত চার দিন ধরে সেতুটির পূর্ব পাশের সড়কের অংশ ভাঙনে বিলীন হতে শুরু করে। পরে সেতুটির পূর্ব পাশের অংশ নদীতে ধসে পড়ে।তিনি বলেন, গত দুই মাসের ভাঙনে ওই এলাকার আদর্শ গ্রামে ৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। নদীগর্ভে গেছে অন্তত ৮২৫ একর ফসলি জমি।
‎নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, পূর্ব পাশের পাইলিংয়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সেতুটি নদীতে ধসে পড়ে। সেতুটি রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই এলাকায় বালুর বস্তা ফেললেও তা কোনো কাজে আসেনি।
‎এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, সেতুটি রক্ষার জন্য ১৫০ মিটার অংশে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু নদীভাঙন চলেছে অন্তত দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। ফলে সেতুটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া বর্ষার মধ্যে সেতু রক্ষায় শক্তিশালী উদ্যোগ নেওয়া যায়নি।
নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে ৪ কোটি টাকার সেতু, তবু দুঃখ ঘুচেনি স্থানীয়দের
ফরিদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওই এলাকায় গত কয়েকমাস ধরে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরে এমন ভাঙন দেখা যায়নি। এলাকাবাসী বলছেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে তার পুরোনো জায়গায় ফিরে আসছে।’
‎এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সেতুটির দুই দিকে পদ্মা নদীর দুটি ধারা রয়েছে। দুটি ধারাতেই ভাঙন চলছে।’তিনি আরও বলেন, ‘চরের মাঝখানে সেতুটি নির্মাণ করেছিল এলজিইডি। পদ্মা নদীতে ভাঙতে ভাঙতে অন্তত ৫০০ মিটার ভেতরে চলে এসেছে। এ অবস্থায় ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। পানি কমলে বিশেষজ্ঞ দল এনে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’‎


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category